Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০১-২০১১

উইকিলিকস:কালোটাকা সাদা করার আইন নিয়ে কূটনীতিকদের উদ্বেগ

উইকিলিকস:কালোটাকা সাদা করার আইন নিয়ে কূটনীতিকদের উদ্বেগ
কালোটাকা সাদা করা-সম্পর্কিত আইনের ব্যাপারে ২০০৯ সালে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মহল। তাদের উদ্বেগ ছিল প্রস্তাবিত আইন মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি চিঠি দিয়েছিলেন।
উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বার্তাটি পাঠান তখনকার ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি।
তারবার্তায় বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ও অন্য সাতটি বিদেশি মিশনের প্রধানেরা ২৩ জুন এক চিঠিতে তখন প্রস্তাবিত একটি আইনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই আইনের মাধ্যমে অর্থের উৎসের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে ব্যক্তি ও করপোরেট করদাতাকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিধান ছিল। ওই চিঠিতে এবং বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় কূটনীতিকেরা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত আইন আর্থিক অপরাধ রোধে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং অর্থ-পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নসংক্রান্ত বাংলাদেশি আইন?উভয়ের সঙ্গেই অসংগতিপূর্ণ।
২৮ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে কূটনীতিকদের এই উদ্বেগের জবাব দেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে অঘোষিত আয় প্রকাশ করার সঙ্গে মানি লন্ডারিং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের বিষয়টি মোকাবিলার ভারসাম্য রাখার যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। তা ছাড়া এ সুযোগ এক বছরের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।
তারবার্তায় অর্থমন্ত্রী মুহিতের চিঠিটি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়।
তারবার্তায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত অভিমত দেন, সংশোধিত এই আইন অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধসংক্রান্ত বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করবে না। তবে যাঁরা আয়ের উৎস গোপন করতে চান, এই আইন তাঁদের কিছুটা আড়াল দেবে।
দূতাবাসের মন্তব্য
বাংলাদেশ সরকারের অনেক কর্মকর্তা প্রস্তাবিত এই আইনের বিরোধিতা করলেও সরকার কালোটাকা সাদা করার ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সংশোধিত আইনের অস্পষ্টতা ও নিয়ম তুলে ধরার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃশ্যত পিছু হটার অর্থ হচ্ছে, এই আইন দুর্নীতি, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ফাঁকের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ডের প্রতি আনুগত্য আরও জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে দূতাবাস। এ ছাড়া কালোটাকা সাদা করাসংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের ওপর গভীরভাবে নজর রাখা হবে।
তারবার্তায় মার্কিন দূতাবাস আরও বলেছিল, আমরা বাংলাদেশ সরকারকে আবারও বলব, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ সদস্যদেশগুলোকে সুপারিশ করবে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে