Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০ , ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৬-২০২০

কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি হতে পারলেন না রোগী, গাড়িতেই মৃত্যু

কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি হতে পারলেন না রোগী, গাড়িতেই মৃত্যু

ঢাকা, ০৬ জুন- বাথরুমে পড়ে আঘাত পেয়েছিলেন মো. এনায়েত উল্ল্যাহ (৭২) নামে এক বৃদ্ধ। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে অক্সিজেন দিতে হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরেছেন স্বজনরা কিন্তু কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি। অবশেষে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির আগেই মারা যান তিনি।

নিহতের জামাই আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘এভাবে মাথায় আঘাতের রোগীকে যদি করোনা রোগী ভেবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?’

জানা যায়, গত ৩০ মে রাতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার বাসার বাথরুমে পড়ে যান এনায়েত উল্ল্যাহ। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বাসাতেই চিকিৎসা চলছিল তার। কিন্তু শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দুদিন আগে কাছের রূপগঞ্জের কর্নগোপ এলাকার ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে, দেওয়া হয় অক্সিজেন।

ওই হাসপাতালের অক্সিজেন সংকট দেখা দেওয়ায় নতুন হাসপাতাল খুঁজতে হয় এনায়েতের পরিবারকে। অসুস্থ এনায়েতকে একটি গাড়িতে নিয়ে বের হন তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, মেয়ে ও জামাতা।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল খোঁজা শুরু করার পরই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘ইউএস বাংলা হাসপাতাল থেকে তারা সানারপাড়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কারণ, ওখানে আইসিইউ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের ভোগান্তি শুরু হয়।’

কাইয়ুম বলেন, ‘প্রাইভেটকারে রোগী রেখেই একজন নার্স এসে তাপমাত্র মেপে দেখেন ১০০ ডিগ্রি (ফারেনহাইট)। উনারা রোগীকে নিচে না নামিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন।’

দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টিকিট কাটার পর রোগীকে করোনা ইউনিটে নিতে বলা হয় বলে জানান কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলছিলাম, উনার করোনাভাইরাস নেই। পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। ডাক্তার আমাদের কোনো কথাই শোনেনি।’

পরে এক স্বজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এনায়েতকে। এই হাসপাতালেও আইসিইউ রয়েছে।

কাইয়ুম বলেন, ‘ভর্তির সব কাজ প্রায় শেষ, কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকিটে করোনা সাসপেক্টেড দেখে উনারা ভর্তি নিলেন না।’ তখন এনায়েতকে নিয়ে তার স্বজনরা মুগদা হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু উনারও ভর্তি নিতে গড়িমসি করে। পরে অনেক অনুরোধে রাজি হলেও টিকিটের নিচে লিখে দেয় যে, ‘আমার রোগী কোভিড-১৯ প্রতিবেদন না থাকা সত্ত্বেও এই হাসপাতালে ভর্তি করাতে ইচ্ছুক। এমতাবস্থায় পরবর্তী সময়ে কোভিড-১৯ প্রতিবেদন নেগেটিভ হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে সরকারি নিয়ম অনুসারে লাশ আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করতে রাজি আছি।’

কাইয়ুম বলেন, ‘তখন আমার স্ত্রী, শ্যালক ও শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই যে, যেহেতু মারা গেলে করোনা রোগী ধরে দাফন করবে, মৃতদেহ দেবে না, তাহলে এখানে রোগীকে ভর্তি করাব না।’ তখন হাসপাতাল থেকে এনায়েতকে পুনরায় গাড়িতে বসানো মাত্রই মারা যান তিনি।

পরে ওই বৃদ্ধকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলেও জানান কাইয়ুম।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এন  / ০৬ জুন

ঢাকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে