Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০ , ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৬-২০২০

আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

আমিনুল ইসলাম


আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

সিরাজগঞ্জ, ০৬ জুন- সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সালিস-বৈঠককে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ (৩৫)। এ ছাড়া আহত হয়েছে দুই পক্ষের ১৫ জন।

শনিবার উপজেলার জোকনালা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কামাল আহমেদকে এনায়েতপুরের বেতিল ড্যাফোডিল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যান্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল এলাকা বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জোকনালা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের (মৃত) স্ত্রী শিক্ষিকা উম্মে জহুরার একটি পরিত্যক্ত পুকুর নিয়ে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আজ বিকেলে সালিস ডাকা হয় জোকনালা বাজারে।

সালিসে রফিকুল ইসলামের পক্ষে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন হাজির হয়। কিন্তু সালিস বিলম্বিত হয়। পরে তারা প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার সগুনা চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় অপর দিক থেকে শিক্ষিকা উম্মে জহুরার পক্ষে নিকট আত্মীয় ও দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাসের নেতৃত্বে শতাধিক লোক মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিলেন। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই গ্রুপ। নেতাদের মাঝে কথা শুরু হওয়ার এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে লাজুক বিশ্বাসের পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া রেজা গ্রুপের যুবলীগ কর্মী নাজমুলসহ দুই গ্রুপ মিলিয়ে ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয় ২০টি মোটরসাইকেল।

এলাকাবাসী খবর দিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। এরপর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর গুলিবিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামাল আহমেদকে স্থানীয় ড্যাফোডিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘রেজা নিজেই গুলি চালিয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ও আমার ছেলে আশিকুর রহমান লাজুক বিশ্বাসকে হত্যার চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে, তবে ওই গুলিতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

অপরদিকে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে সাজ্জাদুল হক রেজা বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস নিজেই গুলি চালিয়ে আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। আমিতো তার হামলার শিকার হয়ে ওখান থেকে জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি।’

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনো আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গুলির বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।’

এম এন  / ০৬ জুন

সিরাজগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে