Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ , ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৬-২০২০

স্বামীর সামনেই তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

স্বামীর সামনেই তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

নোয়াখালী, ০৬ জুন- নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে স্বামীর সামনেই তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তুলে নিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ওই নারীর কাছে। টাকা দিয়েও ছাড় পাননি তিনি। ঘটনার সময় হামলায় আহত হয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বামীসহ দুজন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার বিকেলে কবিরহাট থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার নারী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী লিখেছেন, গত ৩ জুন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার চরবৈশাখী গ্রাম থেকে কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ব নবগ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তিনি ও তার স্বামী। ওই আত্মীয়ের বাড়িতে রাতে অবস্থানও করেন তারা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে ৬ থেকে ৭ জন ওই বাড়িতে আসে। ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর বিয়ে অবৈধ বলে দাবি করে কাগজপত্র দেখতে চান তারা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে আব্দুস সাত্তার ও আবুল কালামের লোকজন আমাকে ও আমার স্বামীকে আত্মীয়ের বাড়ির পাশে একটি খালি জায়গায় নিয়ে যায়। তারা আমাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে সাত্তার ও কালাম আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।’

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী তার খালাতো ভাইকে বিষয়টি মুঠোফোনের মাধ্যমে জানান। পরে তিনি ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে নিয়ে এসে সমাজ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের হাতে তুলে দেন। এ ছাড়া আরও ২৫ হাজার টাকা পরে দেবেন মর্মে একটি খালি দলিলে স্বাক্ষর করে। পরে সাত্তার তাকে নিরাপত্তা দেবেন বলে আলাদা করে তার মেয়ের বাড়ির দিকে নিয়ে যান। এ সময় ওই নারীর স্বামী ও খালাতো ভাইয়ের উপর হামলা করে আবুল কালামের লোকজন। তাদের পিটিয়ে জখমও করে তারা।

ওই নারী এজাহারে আরও লিখেন, ‘রাত ১২টার দিকে আমাকে নিতে খালাতো ভাই ও তার বউ এসেছে বলে সাত্তার তার মেয়ের বাড়ি থেকে আমাকে বের করে নিয়ে যায়। কিছু পথ যাওয়ার পর ফাঁকা রাস্তায় ৫-৬ জন লোকের হাতে আমাকে ছেড়ে দেয় সাত্তার। লোকগুলোর আচরণ দেখে আমি সাত্তারকে বাবা ডেকে আমাকে রক্ষা করতে বলি। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেনি।’

পরে ওই নারীকে রাস্তার পাশের একটি কলা বাগানে নিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে সাত্তার ও তার লোকজন। পরে অচেতন অবস্থাঁ তাকে আজাদ নামে এক ব্যক্তির দোকানের সামনে বট গাছের নিচে ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয়দের সহযোগীতায় স্বামী ও খালাতো ভাই তাকে উদ্ধার করে।

কবিরহাট থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ সাতজনকে আসামি করে ওই নারী মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি আমলে নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আগামীকাল রোববার ভুক্তভোগী নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এন  / ০৬ জুন

নোয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে