Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (65 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০১-২০১১

রাজনৈতিক প্রকল্পে সয়লাব এডিপি


রাজনৈতিক প্রকল্পে সয়লাব এডিপি
রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। শেষ হওয়ার কথা ২০১৩ সালের জুনে। এক হাজার ১৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত একটি টাকাও ব্যয় হয়নি। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই লাখ টাকা। এই হারে অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রকল্পটি শেষ হতে লাগবে ৫৭ হাজার ২১ বছর।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ রকম অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এসব প্রকল্পে অল্প অল্প বরাদ্দ দিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। শেষ হচ্ছে না, অথচ অসংখ্য নতুন নতুন প্রকল্প ঢুকছে এডিপিতে।
রাজনৈতিক বিবেচনার প্রকল্পতেই এখন সয়লাব এডিপি। দলের সাংসদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনুরোধ ও সুপারিশের কয়েক শ প্রকল্প নানা কৌশলে রেখে দেওয়া হয়েছে নতুন এডিপিতে। এর বেশির ভাগই রাস্তা, সেতু, কালভার্ট ও হাট-বাজার উন্নয়নের প্রকল্প।
এডিপির এসব রাজনৈতিক পছন্দের প্রকল্প নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বরাদ্দের তুলনায় প্রকল্পের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বরাদ্দ দিতে বিপাকে পড়েছে তারা। এমনিতেই অর্থবছরের শুরুতে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হচ্ছে। ভর্তুকির চাপ কমাতে বাড়িয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বেড়েছে আরেক দফা। এর মধ্যে আবার অতিরিক্ত প্রকল্প নেওয়ায় বরাদ্দ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা। ফলে শুরুতেই সরকারকে উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, অর্থসংকটের এ পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকা নেওয়া হচ্ছে। তালিকা পেয়ে নতুন করে এডিপি পুনর্গঠন করা হবে। অর্থবছরের শুরুতেই এভাবে বরাদ্দ পুনর্গঠন করা নজিরবিহীন বলে জানা গেছে।
চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের এডিপির আকার ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় হবে এক হাজার ৩৯টি প্রকল্পে। এর বাইরে আরও ৯৬১টি প্রকল্প এডিপিতে রয়েছে। এগুলো এডিপির মূল নথিতে বরাদ্দবিহীন দেখানো হলেও পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তা তৈরির অনেক প্রকল্প, যেগুলো মূলত রাজনৈতিক পছন্দের প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ) শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের ওপর এবার অর্থ বরাদ্দের চাপ রয়েছে। কারণ সব জনপ্রতিনিধিই তাঁর এলাকায় রাস্তাঘাট এবং স্কুল-কলেজ তৈরি করে মানুষকে দেখাতে চান।
শামসুল আলম আরও বলেন, বরাদ্দের চাপ থাকলেও অগ্রাধিকার ঠিক করে বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। কেননা, এখন যেসব প্রকল্প রয়েছে তার ব্যয় পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ এডিপির আকার ৪৬ হাজার কোটি টাকা। তিনি জানান, এবার তিনভাবে অগ্রাধিকার প্রকল্প নির্বাচন করা হচ্ছে। যেমন, চলতি অর্থবছরে যেসব প্রকল্প শেষ হবে, বিদেশি সহায়তাপুষ্ট ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ প্রকল্প।
বছরজুড়ে পছন্দের প্রকল্প: রাজনৈতিক পছন্দের প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন নতুন একটি কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের শুরুতে নতুন এডিপিতে কম প্রকল্প দেখিয়ে অর্থবছরের শেষের দিকে এসে নতুন নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এগুলো বরাদ্দ পায় সংশোধিত এডিপিতে। ফলে অন্যান্য প্রকল্পে বরাদ্দ কমে যায়। আর কম বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে বাস্তবায়িত হতে থাকে, সহজে শেষ হয় না।
বিগত ২০১০-১১ অর্থবছরের মূল এডিপিতে মোট প্রকল্প ছিল ৯১৬টি। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে তা বেড়ে হয় এক হাজার ১৮৫টি। চলতি অর্থবছরেও বরাদ্দ পেয়ে এডিপিতে ঢোকার অপেক্ষায় আছে আরও ৯৬১টি প্রকল্প।
রাস্তা তৈরিতেই বেশি আগ্রহ: চলতি অর্থবছরে এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন খাত। মূলত রাস্তা নির্মাণেই এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে। এর মধ্যে সড়ক খাতের প্রকল্প ১৪৭টি। এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকল্প রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। বাকি সব প্রকল্প নতুন রাস্তা ও সেতু নির্মাণের। এর বাইরে আরও ১১২টি রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্প তৈরি করে রেখেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এগুলোতেও এখন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি এডিপির রাস্তা ও সেতু তৈরির যে ১৪৭টি প্রকল্প রয়েছে, সেসব বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ সব মিলিয়ে পরিবহন খাত এবার বরাদ্দ পেয়েছে সাত হাজার ৭৪৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ কারণে বেশির ভাগ প্রকল্পে অল্প অল্প বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব প্রকল্প দ্রুত শেষ হচ্ছে না।
যে প্রকল্প শেষ হয় না: কুড়িগ্রাম সেচ প্রকল্পটি (দক্ষিণ ইউনিট) শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। ২০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত খরচ ১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এভাবে অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রকল্পটি শেষ হতে লাগবে ৬৪৯ বছর। একইভাবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার কুড়িগ্রাম সেচ প্রকল্পটি (উত্তর ইউনিট) এবার বরাদ্দ পেয়েছে ২০ লাখ টাকা। আর এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এভাবে বরাদ্দ দিলে প্রকল্পটি শেষ হতে লাগবে ৩২৩ বছর।
ফাইন অ্যান্ড পারফরমিং আর্টের ওপর প্রশিক্ষণ (দ্বিতীয় পর্যায়) নামের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। শেষ হওয়ার কথা ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে। এখনো এই প্রকল্পটি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত আছে। ২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকার এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এবারের বরাদ্দ এক লাখ টাকা। এভাবে বরাদ্দ দিলে প্রকল্প শেষ হতে লাগবে দুই হাজার ৫৯৪ বছর।
রাস্তা তৈরির প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা প্রকল্পের নাম গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা সড়ক নির্মাণ (সংশোধিত)। ২০০০ সালে শুরু হয়ে এটি শেষ হওয়ার কথা ২০১৩ সালে। ২১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এবারের বরাদ্দ ছয় কোটি টাকা। আর এভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প শেষ হতে লাগবে ২৫ বছর।
অবশেষে বরাদ্দ বন্ধ: ঢাকা মহানগরের ছিন্নমূল বস্তিবাসী ও নিম্নবিত্তদের ঢাকায় সরকারি জমিতে বহুতল বিশিষ্ট ভবনে পুনর্বাসন প্রকল্প (উত্তর ইউনিট) শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের জুনে। ৩৪৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্পে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ টাকা। এভাবে চললে এই প্রকল্প শেষ হতে লাগবে এক হাজার ৩৭০ বছর। প্রকল্পটির এই দুরবস্থায় অবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবার ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েও অর্থ ছাড় বন্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, বাস্তবায়নের সময় বাড়ানো ছাড়া নতুন করে আর অর্থ দেওয়া হবে না।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ শেষ হলেও বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত কম হওয়ায় চলতি এডিপির ১৩৮টি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পরিবহন খাতের প্রকল্প, ৪৫টি। এর মধ্যে আবার বেশির ভাগ প্রকল্প বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংযোগ সড়কও রয়েছে।
পরিবহন খাত ছাড়াও বরাদ্দ বন্ধ হয়েছে পানিসম্পদ খাতের ১৬টি প্রকল্প, বিদ্যুৎ খাতের নয়টি, তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের নয়টি, যোগাযোগ খাতের নয়টি, শিল্পের সাতটি, কৃষি খাতের ছয়টি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ছয়টি, ভৌত পরিকল্পনা খাতের পাঁচটি, শিক্ষা খাতের পাঁচটি, পল্লী উন্নয়নের চারটি, গণসংযোগ খাতের চারটি, সমাজকল্যাণ, মহিলাবিষয়ক ও যুব উন্নয়নের চারটি, শ্রম ও কর্মসংস্থানের তিনটি, স্বাস্থ্যের তিনটি, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দুটি এবং জনপ্রশাসন খাতের একটি প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে