Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৮-২০২০

তিন বছর ধরে ৩ অসহায়ের চাল তুলেছেন আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য

তিন বছর ধরে ৩ অসহায়ের চাল তুলেছেন আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য

নীলফামারী, ২৯ মে - সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দর চালের তিনজন কার্ডধারীর দেড় হাজার কেজি চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদ্যসের বিরুদ্ধে।

তারা হলেন, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের ডিলার ও ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাধীন ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুইয়া।

ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার এলাকাজুড়ে তোলাপাড় সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা অসহায় তিন কার্ডধারীর বাড়িতে গিয়ে তাদের ৩০ কেজি করে চাল ও তাদের নামের কার্ডগুলো হস্তান্তর করে পালিয়ে যান। ওই তিন কার্ডধারীর অভিযোগ, ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য তাদের হুমকি দিয়ে বলা হয় প্রকাশ করলে কার্ড বাতিল করে দেয়া হবে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করে। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আওতায় ১০টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৮৫টি কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৩০ কেজি চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু হয়।

ওই কর্মসূচির আওতায় কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে দেড় হাজার কার্ডের বিপরীতে সরকার কর্তৃক তিনজন নিয়োগকৃত ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের চাল বিক্রয় হয়ে আসছে। ইউনিয়নটির দুই নম্বর ওয়ার্ডের হাটপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র জাহেদা (কার্ড নং ২১৬), রশিদ (কার্ড নং ২০৮) ও জুয়েল (কার্ড নং ১৬৭) শুরুতেই বরাদ্দ পায়। কিন্তু তারা জানতে পারেনি তাদের নামের কার্ড ডিলার ও ইউপি সদস্য জিম্মি করে ভোগ করে আসছে।

হতদরিদ্র তিনজন জানায়, আমরা গবির হওয়ায় সরকারি সহায়তার জন্য প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাধীন ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে ভোটার আইডি ও ছবি নেয়। কিন্তু আমরা কোনো সরকার সহায়তা পাইনি।

করোনাভাইরাস ও রমজান মাসে সরকারি ত্রাণের জন্য আমরা বিভিন্নস্থানে ধর্ণা দিয়েও ত্রাণ পাইনি। আমাদের বলা হয় তোমরা ত্রাণ পাবে না। তোমাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসচির কার্ড আছে।ঈদের কয়েকদিন আগে ডিলার ও ইউপি সদস্য আমাদের বাসায় এসে আমাদের নামের কার্ডসহ ৩০ কেজি করে চাল নিয়ে আসে।আমরা তাদের কাছে জানতে চাই, আমাদের নামে নাকি সাড়ে তিন বছর আগে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড হয়েছে? তারা আমাদের ৩০ কেজি চাল দিয়ে বলে তোমাদের কোনো টাকা দিতে হবে না। তোমরা ঘটনা প্রকাশ করবে না। প্রকাশ করলে তোমাদের কার্ড বাতিল করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। ডিলার নিজেও স্বীকার করে বলেছে এটি ভুল হয়েছে তার। এমন কি আমাদের ডোমার-ডিমলা আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার এ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিলার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোড় দিয়েছেন।

তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাধীন ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যাদের নামে কার্ড তারাই চাল উত্তোলন করে।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল বলেন, এমন অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসান বলেন, সুবিধাভোগীরা কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর খাদ্যবান্ধব ওই তিনটি কার্ডে ১৭ বার ৩০ কেজি করে মোট ১৫৩০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়েছে।এরমধ্যে এক কোঠার চাল ডিলার ও ইউপি সদস্য কার্ডধারীদের বাড়িতে দিয়ে আসে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৯ মে

নীলফামারী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে