Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৩-২০২০

করোনায় আ.লীগ নেতারা ঢাকায়, এলাকায় পাঠাচ্ছেন ঈদের উপহার সামগ্রী

এমরান হোসাইন শেখ


করোনায় আ.লীগ নেতারা ঢাকায়, এলাকায় পাঠাচ্ছেন ঈদের উপহার সামগ্রী

ঢাকা, ২৩ মে- বরাবরই উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন হলেও এবার তা হচ্ছে না। আনন্দ-উৎসবের ঈদ কাটছে নিরানন্দে। রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক অঙ্গন এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও ঈদ উৎসব হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতারা কুশল বিনিময়সহ ঈদকেন্দ্রিক নানা কর্মসূচি পালন করলেও তার কোনোটিই হচ্ছে না এবার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারে এবারের ঈদ জনমনে আতঙ্ক হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এবছর আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ঈদ পালন করছেন না। করোনার কারণে বেশির ভাগ নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তারা সবাই নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার জনগণের জন্য উপহার সামগ্রীসহ পাঠাচ্ছেন ঈদের শুভেচ্ছা।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার হচ্ছে না উন্মুক্ত মাঠে ঈদের জামাত। হচ্ছে না ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া ও মুসল্লিদের মধ্যে কোলাকুলিও। মসজিদে-মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এছাড়া, ঈদে মানুষকে গ্রামমুখী না হয়ে যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ পালনে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঈদের সময় তারা সচরাচর নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করলেও এবার তার কোনোটি হচ্ছে না। দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই ঢাকায় অবস্থান করছেন। আর যারা নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন তারাও বাসাতেই থাকছেন। অন্যান্য বছর কোনও কোনও নেতা রমজানের ঈদের সময় ওমরা পালন করতে যাওয়া, বা বিদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করতে গেলেও এবার তারও সুযোগ নেই।

এদিকে ঈদ পালন না করলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্নভাবে জনগণের পাশে থাকছেন। দলটির নেতারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে না পারলেও তারা মানুষের সঙ্গে আছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা নির্বাচনি এলাকার জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। অনেকেই এরইমধ্যে কয়েকবার এলাকায় গিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে সহযোগিতা করেছেন। যারা এলাকায় যেতে পারছেন না, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ঈদের উপহার পাঠাচ্ছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষদের খাদ্য ও অর্থ সাহায্য করছেন। কোনও কোনও নেতা ঈদের জন্য নির্ধারিত পারিবারিক বাজেট নিজেরা ব্যয় না করে দুর্গত, অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

এবারের ঈদ আনন্দের নয়, সেটা ফুটে উঠেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্যেও।

শুক্রবার (২২ মে) এক ভিডিও কনফারেন্সে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার এক ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদুল ফিতর এসেছে। ঈদের আনন্দ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বেঁচে থাকলে আমরা ভবিষ্যতে ঈদ উদযাপনের অনেক সুযোগ পাবো। আসুন, আমরা এখন করোনাবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হই— স্থানান্তর না করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।’

ওবায়দুল কাদের প্রত্যেক ঈদে নিজের নির্বাচনি এলাকা নোয়াখালীতে গেলেও এবার তিনি ঢাকায় থাকছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বাসার বাইরে যাচ্ছেন না।

ঈদ উদযাপনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যতদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন, ততদিন আমি তার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতাম। ঈদ পালন করতাম। এছাড়া, আমি প্রতিটি ঈদের নামাজ আমার মায়ের কবরের পাশে ঈদগাহে আদায় করি। এর বাইরে ব্যতিক্রম ছিল আমার কারাগারে থাকার সময়ের ঈদগুলো। আর এবার করোনাভাইরাসের কারণে মায়ের কবরের পাশে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে পারছি না।’

বর্ষিয়ান এই রাজনীতিক বলেন, ‘এবারের ঈদে শারীরিকভাবে জনগণের পাশে যেতে না পারলেও মানসিকভাবে তাদের পাশে রয়েছি।’ তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্বাচনি এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে ঈদ উপলক্ষে সহযোগিতা করেছেন। এর আগে করোনাভাইরাসজনিত কারণে কয়েক দফায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ঈদ ধনী-দরিদ্র সবার জন্যই আনন্দের। কিন্তু এবারের ঈদে সেই আনন্দ নেই। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। আমরা চাই না এরকম ঈদ আর আমাদের মাঝে আসুক। ঈদের দিন মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করতে পারছি না— সত্যিই একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার জন্য এটা কষ্টকর।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের খুশিতেই আমরা খুশি। এবার যেহেতু জনগণের খুশি বা আনন্দ নেই, কাজেই আমাদের ঈদও আনন্দে কাটার সুযোগ নেই। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমাদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে।’

ঈদে জনগণকে সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে তিনি নিয়মিতভাবে জনগণকে সাহায্য- সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষেও তিনি শাড়ি- লুঙ্গিসহ নানা ধরনের উপহার সামগ্রী মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবারের ঈদে কোনও নতুন জামা পড়বো না। ঈদ উপলক্ষে কোনও কেনাকাটা হবে না। ঈদে প্রত্যেক বছর পরিবারের জন্য যে বরাদ্দ থাকে, তা আমরা ইতোমধ্যে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেছি। আমার ধারণা, আমার মতো সব জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকরা এ কাজটি করছেন।’

করোনার কারণে এবার ঈদ ম্লান হয়ে গেছে মন্তব্য করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘এবারের ঈদ সামাজিক দূরত্ব মেনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এবার আসলেই ঈদের কোনও অনুভূতিই নেই। বাস্তবতা হচ্ছে ঈদের যে আনন্দ, যে পরিবেশ তৈরি হয় সেটার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কখনোই জনগণ থেকে আলাদা না। জনগণের সঙ্গেই আছি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমাদের শারীরিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কিন্তু মানসিকভাবে আমরা আরও কাছাকাছি চলে গিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি দলের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘যেখানে এই ভয়াবহ ভাইরাস পরিস্থিতিতে কোনও মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ করতে পারছে না, সেখানে রাজনীতিবিদদের স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ করার সুযোগ নেই। তবে বরাবরের মতো আমরা মানুষের কাছে আছি। সাধ্য মতো সহযোগিতা ও সেবা করে যাচ্ছি।’ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা এবারের ঈদে নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় বা কোলাকুলি করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে প্রত্যেক বছর ঈদের দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার সেই কর্মসূচি থাকছে না। এছাড়া, প্রতি রমজানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ইফতার মাহফিল করলেও এবার তা করেননি।

এম এন  / ২৩ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে