Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৩০ মে, ২০২০ , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৯-২০২০

সংকটে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিক্রেতা কোম্পানি

হাসনাইন ইমতিয়াজ


সংকটে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিক্রেতা কোম্পানি

ঢাকা, ২০ মে- করোনা দুর্যোগে আবাসিক গ্রাহকদের কোনো মাশুল বা সারচার্জ ছাড়াই বিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সুযোগ দিয়েছে সরকার। এতে গত দু'মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায় না হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে পেট্রোবাংলা। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের বিল পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি।

সরকার জুন পর্যন্ত আবাসিক বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিল জরিমানা ছাড়া আদায়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এদিকে করোনা দুর্যোগে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আপাতত বিল আদায় না করার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিলের ওপর সারচার্জ মওকুফ করার কথাও বলছেন শিল্প মালিকরা। অনেকে বিল পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করে চিঠি দিচ্ছে। ফলে আবাসিক বিলের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং শিল্প বিলও ঝুলে যাচ্ছে।

করোনা সংকটে সরকারের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে বলেছে মন্ত্রণালয়। একাধিক কর্মকর্তা জানান, সব সংস্থার মোট ক্ষতির হিসাব বের করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। ঘাটতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা কী পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা মাফিক পরামর্শ দেওয়া হবে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করে পিডিবি। পিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে খুচরা বিক্রি করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। 

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিল আদায় ঠিকঠাক হয়েছে। মার্চের ছুটির পর থেকে বিল আদায় হয়নি। এ জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো পিডিবির বিল পরিশোধ করা সম্ভব না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো গড়ে প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা গ্যাস বিক্রি করে আয় করে। বিল আদায় না হওয়া বিতরণ কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলাকে গ্যাস বিক্রির অর্থ দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিল আদায়ে শিথিলতা আনা হয়েছে। এ কারণে গত দুই-তিন মাসের বিল ঠিকমতো আদায় হয়নি। এতে সংকট তৈরি হয়েছে। এলএনজির বিল দিতে পেট্রোবাংলাকে এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পিডিবিকে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে।

গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরইবি সম্প্রতি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, গত মার্চে এক হাজার ৮৬০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিতরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিতরণ করা বিদ্যুৎ বিলের ২০ ভাগ আদায় হয়েছে। অনাদায়ী রয়েছে ৮০ ভাগ। এপ্রিলে এক হাজার ৫৬০ কোটি টাকার কিছু বেশি বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে এ সংস্থা। কিন্তু বিল আদায় হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ।

বিল আদায় করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে তিতাস গ্যাস। এভাবে চললে আগামী দুই-তিন মাস পর কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাই কঠিন হবে। তিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাসে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৪৫ কোটি টাকা। চলতি মাসেও এমনই বিল আদায় হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির এফডিআর ভাঙিয়ে এলএনজি এবং বিদেশি গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিতাস মাসে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা এলএনজির বিল পরিশোধ করে থাকে। তিতাস যদি এই অর্থ না দিতে পারে তাহলে এলএনজি আমদানি কঠিন হয়ে যাবে। এলএনজির বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে বড় রকমের জরিমানা দিতে হয়।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন এ বিষয়ে বলেন, বিল আদায় প্রায় বন্ধ থাকায় কোম্পানি এফডিআর ভাঙিয়ে এলএনজির বিল পরিশোধ করেছে। এভাবে বেশিদিন চলা কঠিন। তিনি আশা করছেন, ঈদের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তখন পুরোদমে বিল আদায় শুরু হলে সংকট কেটে যাবে।

এম এন  / ২০ মে

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে