Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ , ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৯-২০২০

‘খাদ্যের দাবিতে’ বিক্ষোভে ইউএনওর গাড়িতে হামলা

‘খাদ্যের দাবিতে’ বিক্ষোভে ইউএনওর গাড়িতে হামলা

কুড়িগ্রাম, ০৯ মে - কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ি চৌরাস্তায় খাদ্যের দাবিতে গাছেরগুড়ি ফেলে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ। এ সময় রাস্তার দু’পাশে সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য জানতে দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম সদরের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ময়নুল ইসলাম ও কাঁঠালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল ঘটনাস্থলে যান। এ সময় কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা তাদের উপর চড়াও হন। পুলিশ তাদেরকে গাড়িতে করে সরিয়ে নিলে গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ইউএনওর গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য মর্জিনা বেগম ও বিক্ষোভকারী মমিন, বেলাল ও আনোয়ার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৪/৫ দফা তাদের আইডি কার্ডের ফটোকপি নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। এ কারণেই তারা ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও তারা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন। কোনো বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলেও জানান।

তবে কাঁঠালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি দুষ্ট চক্র সরকারকে বিব্রত করতে এ বিক্ষোভ নাটক সাজিয়েছে। এর নেপথ্যে সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য মর্জিনা বেগম ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু জড়িত। ইউএনও এবং আমার ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী বাঁধন, আতাউর, দুলালসহ অন্যরা উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্যাডার।

তিনি বলেন, ইউএনওর উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী মোটর শ্রমিক বিপ্লব ও চাঁদ এবং শ্রমজীবী সাবলু ও এনামুল স্বীকার করেন ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। তারপরও কেন বিক্ষোভে অংশ নিল তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা।

পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ইউএনওর সামনে প্রমাণিত হওয়ায় আন্দোলনকারী অপর একটি গ্রুপ আকস্মিকভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। অথচ কিছু সময় পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আন্দোলকারীদের সঙ্গে তার সখ্যতা দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরই আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে ১ হাজার ৩৬১ জন দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া যারা ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ান না তেমন ৪শ’ প্যাকেট খাদ্য বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। রেশন কার্ড (প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি চাল) দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৪১ জনকে। এর বাইরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের বিশেষ অর্থ সহায়তার আওতায় কার্ড বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ জনকে। এর বাইরেও কেউ বাদ পড়লে তাদেরকে বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সহযোগিতা করা হবে।

কুড়িগ্রাম সদরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম জানান, অবরোধের বিষয়টি জানার পর জনগণের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমার উপর চড়াও হয়ে গাড়িতে হামলা করে। এতে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বারবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন। পরে দুপুর পৌন ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের মধ্যে ৭/৮ জনকে শনাক্ত করেন যারা ইতোমধ্যে ত্রাণ পেয়েছেন। এই কথোপকথনের এক পর্যায়ে পেছন থেকে একদল মানুষ আমাদের উপর চড়াও হয়। পুলিশ কর্ডনে আমরা গাড়িতে উঠলে তারা গাড়ির সামনে গাছের গুড়ি ফেলে দেয়। এ সময় পেছন থেকে গাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়লে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। যেহেতু সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে এজন্য একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের ঘটনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত মামলা হয়নি। ইউএনও যেভাবে সহযোগিতা চাইবেন পুলিশ সেভাবে সহযোগিতা করবে। বর্তমানে ওই এলাকা শান্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, ঘটনাস্থল আমার বাড়ির এলাকা। প্রশাসনের অনুরোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমি দুপুর একটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমি ইতোপূর্বে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও ছিলাম। তাই আমার প্রতি এলাকার মানুয়ের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই আমাকে দেখে তারা শান্ত ছিল। পরে আমার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

তার উপর আনিত ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে এ সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ। প্রকৃতপক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক দুলালের প্রতি এলাকার মানুষের আস্থা, বিশ্বাস কোনটিই নেই। ফলে ত্রাণ বঞ্চিত মানুষ খাদ্যের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৯ মে

কুড়িগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে