Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৩ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৫-২০২০

করোনায় ব্রিটেনে কয়েকশ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ

করোনায় ব্রিটেনে কয়েকশ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ

লন্ডন, ০৫ মে- করোনা ভাইরাসের মহামারিতে ব্রিটেনে কয়েকশ বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি জানিয়েছেন দেশটিতে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি মিঠু চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার ৩৪ বছরের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় এমন সঙ্কট আমি আগে দেখিনি।’

কারি রেস্তোরা শিল্পে সাপ্লায়ারদের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এক জরিপের বরাত দিয়ে মিঠু চৌধুরী বলেন, তারা দেখতে পেয়েছেন গত ছয় সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০০ বাংলাদেশি কারি রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

লন্ডনের কাছে কেন্ট কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় ২৮ বছর ধরে চলছে তার বাংলাদেশি কারি রেস্তোরাঁ- মোগল ডাইনাস্টি। করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি নির্দেশনার আগে থেকেই তাকে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হয়। কারণ সরকারি নির্দেশনার আগেই কাস্টমার আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আপাতত অনলাইন এবং টেলিফোনে খাবারের অর্ডার নিয়ে বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিক্রি কমে গেছে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ। ১৬ জন কর্মীর মধ্যে সাতজন কাজ করছেন। বাকি নয়জন বাড়িতে বসে আছেন। আমি আগেও এদেশে দুবার মন্দা দেখেছি। প্রথম ১৯৮৯ সালে, পরে ২০০৮ সালে। এমন পরিস্থিতি আমি কখনো দেখিনি। কীভাবে টিকে থাকবো আমরা কেউই বুঝতে পারছি না। এ অবস্থায় আমাকে অন্তত ২৫ শতাংশ স্টাফ ছাঁটাই করতে হবে।

ব্রিটেন জুড়ে এখন শতশত বাংলাদেশি মালিকানাধীন কারি রেস্তোরাঁর অবস্থা মিঠুর মতো। লন্ডন এবং বার্মিংহামের কয়েকজন রেস্তোরাঁ মালিক এবং কর্মচারী বিবিসিকে জানায়, দেশটিতে করোনার কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে শতশত রেস্তোরাঁ।

ব্রিক লেনের স্বনামধন্য বাংলাদেশি ১২০ সিটের রেস্টুরেন্ট সিটি স্পাইসের মালিক আব্দুল আহাদ বলেন, টানা আট সপ্তাহ ধরে বন্ধ ওই রেস্টুরেন্ট। তার ১২ জন কর্মীর সবাই বসে। একটি ব্যবসা দাঁড় করাতে একটি জীবন পার হয়ে যায়। সেই ব্যবসার এমন অবস্থা সহ্য করা কঠিন। সহসা যদি রেস্তোরাঁ খোলা সম্ভবও হয়, তাহলে যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লাগবে।

তিনি বলেন, আমার ৮০ শতাংশ কাস্টমার বিদেশি পর্যটক। কতদিনে পর্যটকরা ফিরবেন বলা খুবই মুশকিল। আর রেস্টুরেস্ট খুললেও আমি হয়ত সেই কাস্টমার পাবো না।

ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামের পাশে সলিহল এলাকায় ৩৩ বছর ধরে চলছে কারি রেস্তোরাঁ রাজনগরের কর্ণধার এমজি মাওলা বলেন, এই ৩৩ বছরে কখনো টেক-অ্যাওয়ের কথা ভাবিনি। ব্র্যান্ড নষ্ট করতে চাইনি। কিন্তু এখন কী করবো? স্টাফরা বার বার ফোন করে যে তারা এখন কী করবে। কী খাবে?

আবার বার্মিংহাম শহরের কেন্দ্রে, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কাছে তার বারাজি নামে যে আরেকটি রেস্তোরাঁ রয়েছে সেটি পুরোপুরি বন্ধ।

গোলাম মওলা বলছেন, রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়ার পরও তা চলবে কিনা তা নির্ভর করছে সরকার যে সব সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তা হাতে আসে কিনা তার ওপর।

লন্ডনের পাশে এসেক্স কাউন্টিতে এভিলি নামে ছোটো একটি গ্রামে গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ‘টেস্ট অব এভিলি‘ নামে ৬২টি সিটের একটি মাঝারি আকারের কারি রেস্তোরাঁ চালান ওয়াহিদুর রহমান। তিনি বলেন, টেক-অ্যাওয়েতে লাভ হয় না। কাস্টমার ভেতরে ঢুকে টেবিলে না বসলে বিক্রি বাড়ে না। তবুও শুধু গ্রামের কাস্টমার ধরে রাখতে টেক-অ্যাওয়ে চালাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারারাস আ্যসোসিয়েশনের মিঠু চৌধুরী বলছেন, সরকারের উঁচু পর্যায়ে তাদের সমিতির যে কথাবার্তা হচ্ছে, তা থেকে তারা ধারণা পেয়েছেন যে জুন মাসের মাঝামাঝি হয়তো রেস্তোরাঁ-বার খুলতে পারে।

তবে তার প্রশ্ন হচ্ছে তখন কী হবে? একশ সিটের ক্যাপাসিটি কমিয়ে যদি ৫০ সিট করতে হয়, তখন কি ব্যবসা আর লাভজনক থাকবে? কতদিন এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে - এক বছর? দুই বছর? তখন আমরা কী করবো? 

সূত্র: বিবিসি বাংলা
এম এন  / ০৫ মে

যুক্তরাজ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে