Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০ , ১ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৭-২০১১

বিশ্বশ্রী মনোহর আইচঃ এক জীবন্ত কিংবদন্তি -পশ্চিমবঙ্গ ভারত থেকে দীপক রায়

বিশ্বশ্রী মনোহর আইচঃ এক জীবন্ত কিংবদন্তি 
-পশ্চিমবঙ্গ ভারত থেকে দীপক রায়
কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা ইতিহাস সৃষ্টি করে যান। সেরকমই একজন মানুষের নাম মনোহর আইচ। বিশ্বশ্রী নামেই যিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত। আর সেই মানুষটি যখন বাঙ্গালী হন, তখন বাঙ্গালী হিসাবে একটু গর্ব অনুভব হয় বইকি। মনোহর আইচ জন্মেছিলেন ১৭ ই মার্চ ১৯১৩ তারিখে অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ধামতি নামক একটি প্রত্যন্ত গ্রামে।

কিন্তু আর পাঁচজন বাঙ্গালীর ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনই মনোহর আইচের পরিবারও দেশভাগ আর সাম্প্রদায়িক হানাহানির শিকার হয়ে চলে যান কলকাতার কাছে দমদমের নাগেরবাজারে। হয়ে যান একজন ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু তাঁর কথায় চিরদিন সেই কুমিল্লার ভাষাকে কোনদিন বর্জন করেননি। ২০০৩ সালের ১লা মার্চ যখন গিয়েছিলাম তাঁর নাগেরবাজারের বাড়িতে, দেখেছিলাম সেই ৯০ বছরের যুবককে। যেমন ঋজু সুঠাম চেহারা, তেমনই তাঁর তেজ। কি কথায়, কি তাঁর ভাবভঙ্গীতে। বাড়িজুড়ে বিশাল জিমনাসিয়ামে তাঁর নতুন প্রজন্মের বডিবিলডারস তৈরি করার কারখানা। জানিনা বাড়িয়ে বললাম কিনা। আসলে মোহিত হয়েছিলাম ৯০ বছর বয়সেও তাঁর উদ্যম দেখে।
সেই মানুষটির সাফল্যের গ্রাফ রীতিমত আকর্ষণীয়। তিনি ১৯৫২ সালে মিস্টার ইউনিভার্স জিতেছেন। তিনি তিনবার এশিয়ান গেমস বডিবিলডারস জিতে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। আর মানুষটির উচ্চতা হচ্ছে শুধুমাত্র ৪ফুট ১১ইঞ্চি, মানে ১.৫০ মিটার। তিনি “পকেট হারকিউলেস” নামেও পরিচিত। এই ২০১১ সালেও তিনি ৯৮ বছর বয়সে একটি চমৎকার দেহ নিয়ে বহাল তবিয়তেই আছেন। তিনি বাংলাদেশে থাকাকালীনই শৈশব থেকে শক্তি সম্পর্কিত যেমন কুস্তি ও অন্যান্য জনপ্রিয় গেমসের মধ্যে ভারোত্তোলন, ইত্যাদিতে মেতে ওঠেন। বিশ্বের তাবৎ খেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহী ফুটবল খেলা নিয়ে। মাত্র ১২ বছর বয়সে কালাজ্বর এর অতর্কিত আক্রমণ থেকে তার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে গিয়েছিল। তবে তিনি নাকি শারীরিক ফিটনেস ব্যায়াম দিয়ে সেই শক্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তিনি যেমন শরীরচর্চার ব্যায়াম শুরু করেছিলেন ছোট বয়সে, তেমনি তিনি তা ধরে রেখেছেন আজো। চিরদিন তিনি করে গেছেন ক্লাব সংগঠন। আর তাঁর সঙ্গে সঙ্গে শরীরচর্চা। একসময় যা এই বাংলায় ছিল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলাধুলা। বিনামূল্যে তিনি শিখিয়েছেন অনেক যুবককে। আবার অর্থ রোজগারও করেছেন জীবনভর।
১৯৪৩ সালে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। ফলে সেখানেও তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিলেন। ৩৭ বছর বয়সে ১৯৫০ সালে, মনোহর আইচ জিতেছিলেন মিস্টার হারকিউলেস প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। ১৯৫৫ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার দাঁড়িয়ে তৃতীয় এবং ১৯৬০ সালে তিনি ৪৭ বৎসর বয়সে দাঁড়িয়ে মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন। সত্যি বলতে তিনি বিশ্বের শরীরচর্চা দেখানোর জন্য জনপ্রিয়, এবং তাঁর শক্তিমত্তা এবং পেশী নিয়ন্ত্রণ করা খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য বহুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আর তাঁর খাদ্য বিষয়ে না বললে এই প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তিনি এখনো নিয়মিত মাড় সহ ভাত, ডাল, শাকসবজি, নানারকম ফল, প্রধানতঃ আম, কলা, পেয়ারা ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে গ্রহণ করেন। আর অ-শাকসব্জীর মধ্যে তিনি তাজা মাছ খুবই পছন্দ করেন। এখন তাঁর সুযোগ্য এক পুত্র ব্যায়ামের আখড়া পরিচালনা করেন এবং অন্য পুত্র হেলথ ফিটনেস সেন্টার এবং রোগ-আরোগ্য-কেন্দ্র পরিচালনা করেন। এমন মানুষটি সুস্থ্যদেহে শতবর্ষ জীবন অতিক্রম করুন, এমনটিই আশা করেন তাঁর অনুরাগীরা।

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে