Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-৩০-২০১১

দেশে ফিরে- প্রধানমন্ত্রীক্ষমতা জনগণের হাতে থাকবে সেনা ছাউনিতে নয়

দেশে ফিরে- প্রধানমন্ত্রীক্ষমতা জনগণের হাতে থাকবে সেনা ছাউনিতে নয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন চাই। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকবে। কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তি বা সেনা ছাউনিতে থাকবে না।'
জাতিসংঘের ৬৬তম অধিবেশনে অংশ নিতে ১১ দিনের সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের লাউঞ্জে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাত ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকায় পেঁৗছান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও তিন বাহিনীর প্রধান ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাউথ সাউথ পুরস্কার' পাওয়ায় বিমানবন্দরেই ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কৃতী খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সবাই নিজ আসন থেকে উঠে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান। তবে জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের নাম যখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, তখন প্রধানমন্ত্রীই তাঁর আসন থেকে উঠে গিয়ে নুরুল ইসলামের হাত থেকে ফুল নিয়ে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে 'শান্তির মডেল' উপস্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, 'ক্ষমতা মুষ্টিমেয় লোকের হাতে নয়, সেনা ছাউনিতে নয়_এই চিন্তা থেকেই জাতিসংঘে এই প্রস্তাব দিয়েছি।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা জনগণের ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই_জনগণই সকল ক্ষমতার অধিকারী হোক।' তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়ন হলে গণতন্ত্র সুসংহত হবে। আর গণতন্ত্র সুসংহত হলে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।
'৭৫-পরবর্তী বিভিন্ন সেনাশাসিত সরকারের সময় দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্শাল 'ল, সেমি মার্শাল 'ল, ব্যাক মার্শাল 'ল দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। সরকার একে একে নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্তর্জাতিক রীতিতেই চলছে। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতেই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি সকলের কাছে দোয়া চাই। জনগণ যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে, আমরা যেন তা পালন করে যেতে পারি। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যেতে চাই।'
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, 'আমি ঠিক জানি না, আমি আপনাদের কিভাবে ধন্যবাদ জানাব। আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।' বক্তব্যের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জানতেন না, এভাবে সবাই তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে আসবেন। তিনি সবাইকে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাউথ সাউথ পুরস্কার' পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি এ জন্য আনন্দিত। ২০০৮ সালে জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের সরকার পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছিল। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা বাংলাদেশের জনগণের।' পুরস্কারটি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে রেখে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পুরস্কারটি আনিনি। ভাবলাম, ওটা ওখানেই থাকুক।'
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেওয়া এবং বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবটি উত্থাপনের কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতির জনক জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। এবার আমি ঠিক একই দিনে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলাম।
ভিভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যরা হলেন_দ্য ডেইলি সান সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ার, সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক সদস্য সালাম মুর্শেদী, সাবেক ফুটবলার বাদল রায়, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও আরিফ খান জয়, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক সদস্য মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান ও হাবিবুল বাশার, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, চিত্রকর হাসেম খান, সংগীতশিল্পী শাহীন সামাদ, রথীন্দ্রনাথ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, আবৃত্তিকার প্রজ্ঞা লাবণী, অভিনেত্রী আফরোজা বানু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুস, কবি মহাদেব সাহা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি জনগণের ক্ষমতায়নভিত্তিক 'শান্তির মডেল' উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত সন্ত্রাস দমন, সংক্রামক ব্যাধি, নারীর ক্ষমতায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শেখ হাসিনা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাউথ সাউথ পুরস্কার' পান। এরপর ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি কানেক্টিকাটে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে