Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৭-২০১১

যুদ্ধাপরাধ: গোলাম আযমের প্রতিবেদন আবার দিতে হবে

যুদ্ধাপরাধ: গোলাম আযমের প্রতিবেদন আবার দিতে হবে
ঢাকা, ডিসেম্বর ২৬ - একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারির মধ্যে আবার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এর পরই আদেশ দেবে আদালত।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গত ১২ ডিসেম্বর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৫২ দফা অভিযোগ উপস্থাপন করে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানায়। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৬ ডিসেম্বর দিন রাখে।

সোমবার সকালে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল জানায়, আগের প্রতিবেদনটি নিয়ম মাফিক সাজানো হয়নি। সেটি পুনর্বিন্যস্ত করে ৫ জানুয়ারির মধ্যে আবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সকালে আদালতে গিয়েছিলাম। তবে আদালত জানিয়েছে, গোলাম আজমের অভিযোগের কাগজপত্রগুলো গোছানো ছিলো না।”

পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও কেন সঠিক নিয়মে প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা ব্যর্থতাও নয়, সীমাবদ্ধতাও নয়। ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং সতর্কতার জন্যই আদালত এ ধরনের আদেশ দিয়েছে। আদালত চায় অভিযোগের বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট এবং গ্র“প অনুসারে ভাগ করে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া হোক। আমরা আবারো গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের প্রতিবেদনটি জমা দেব।”

অবশ্য গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেছেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

“এর আগেও তারা (প্রসিকিউশন) কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে অভিযোগ গঠন করেছে। তাহলে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দুই বছর সময় পাওয়ার পরেও তারা কেন সঠিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারলেন না।”

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত ১ নভেম্বর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়।

তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ওই সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “৪০ বছর আগের ঘটনা হওয়ায় প্রতিবেদনে ব্যক্তি সাক্ষীর পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন নথিপত্রকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষী আছে ৪০ জন। আর নথিপত্র আছে ৪০০টিরও বেশি।”

গোলাম আযম দুভাবে দেশের ক্ষতি করেছেন মন্তব্য করে প্রধান সমন্বয়ক বলেন, “প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজে শান্তি কমিটির নের্তৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছেন।”

ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, “তার বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। তিনি শান্তি কমিটির নেতা ও তৎকালীন জামায়াতের আমীর ছিলেন। তিনি নির্দেশ দাতা। তার নির্দেশেই তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।”


বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন, যাদের সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রকাশ্যে তদবির চালান।

১৯৭১ থেকে ৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করার পর ১৯৭৮ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আবার বাংলাদেশে আসেন এই জামায়াত নেতা। ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মো. কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল¬া এবং বিএনপি নেতা সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান আমলের মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে