Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৮-২০২০

দুবাইয়ে ঘরবন্দিদের সেবায় ১৯ বাংলাদেশি

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন


দুবাইয়ে ঘরবন্দিদের সেবায় ১৯ বাংলাদেশি

দুবাই, ১৮ এপ্রিল- সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সবাই যখন গৃহবন্দি ঠিক তখনই বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইবাসীর সেবায় ঘর ছেড়েছেন ১৯ বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। ৩১ মার্চ থেকে লকডাউনে থাকা বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছেন সাংবাদিক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে এ দলটি।

ইতোমধ্যেই লকডাউনে বন্দি প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশটির বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা। পাশাপাশি ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সংগঠন ও দূতাবাসগুলো। সরাসরি দুবাই পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করছে ১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী দল।

সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন তারা। কখনও বাংলাদেশিদের বাসা-বাড়িতে থাকার তাগাদা দিচ্ছেন, কখনো মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন। আবার কখনও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া খাবার বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন স্বদেশিদের হাতে।

সাংবাদিক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ১৯ জনের এই ইউনিটে কাজ করছে- মোদাসসের শাহ, আব্দুল্লাহ আল শাহীন, আনোয়ার হোসাইন, শামসুন নাহার স্বপ্না, রুমা খাতুন, কাজি ইসমাইল, ফখরুদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জলিল, মোহাম্মদ মিজান, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মঞ্জুর মোরশেদ, মোহাম্মদ নুরুল, মোহাম্মদ ইমরান, আনোয়ার আজিম, হাসান ফরহাদ, বাশির চোখদার, হামদান আহমেদ ও মোহাম্মদ শাইফ।

স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটের একাধিক কর্মী জানান, তাদের করোনার দিনলিপি। দিনের শুরুটা হয় সচেতনতা দিয়ে। লকডাউনে থাকা একেকটি ভবনের প্রায় প্রত্যেককেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুবাইয়ের আল সাবখা বাস স্টেশনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র। যাদের পরীক্ষা করা হয়, তাদের দুবাই সরকারের অর্থায়নে পাঁচ কিংবা চার তারকা হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনদিনের মাথায় যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাদের বাসায় ফেরার অনুমতি মিলে। আর যারা পজিটিভ রিপোর্ট পেয়ে করোনা শনাক্ত হচ্ছে, তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় আল ওয়ার্সন অস্থায়ী হাসপাতালে। স্বেচ্ছাসেবক ইউনিটের সদস্যদেরও সুস্থতা নিশ্চিত করতে শারীরিক পরীক্ষা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দিনের কর্মসূচিতে থাকে দুপুর ও সন্ধ্যার খাবার বিতরণ কার্যক্রম। দুপুরের খাবার বেলা ১২টার পর আবার রাতের খাবার সন্ধ্যা ৬টায়। এভাবে প্রতিদিন দু’বেলা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছে স্বেচ্ছাসেবী এই ইউনিট। এই খাবার সরবরাহ করে দুবাই পুলিশ।

লকডাউনে থাকা এলাকাটিতে প্রায় বিশ হাজার বাংলাদেশি হলেও খাবারের জোগান আসে দুই হাজারের মতো। পর্যাপ্ত খাবারের সংকুলান হচ্ছে না জানিয়ে লকডাউনে থাকা এরিয়াগুলোতে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকেও খাবার সরবরাহের দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিদিনের নিয়মিত কার্যক্রম শেষে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হোটেলে।

হোটেলে তাদের একেকটি আলাদা কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়। মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই দুবাই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও কেউ কেউ দিন শেষে ফিরে যান নিজের গৃহে, পরেরদিন যোগ দেন দলীয় কর্মকাণ্ডে।

১৯ জনের স্বেচ্ছাসেবী এই ইউনিট ইতোমধ্যে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দুবাই প্রশাসনের কাছে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। দুবাই পুলিশও তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩০২জন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ হাজার ১৮৮ জন।

আর/০৮:১৪/১৮ এপ্রিল

আরব আমীরাত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে