Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৬ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৬-২০১১

তিস্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবো: এরশাদ

তিস্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবো: এরশাদ
রংপুর, ২৫ ডিসেম্বর:  তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়ে ভারতের ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড ও পদক্ষেপে’র ব্যাপারে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। রোববার বিকেলে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্ট পরিদর্শনের সময় একথা বলেন।


তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে আগামী ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য লংমার্চ সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘‘গজলডোবায় বাধ দিয়ে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে তিস্তা অঞ্চলের মানুষকে মরুভূমির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতকে তিস্তার পানির ন্যায্য ভাগ দিতে বাধ্য করা হবে।”


ব্যারেজ পয়েন্ট পরির্দশন শেষে তিনি এরশাদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “তিস্তার পানি সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে আন্দোলন করলে ভালো হতো। কিন্তু তা করা সম্ভব নয়। আর সে কারণে আমিই জাতীয় এই সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিচ্ছি।”
 
তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তিস্তা নদীর পানি চুক্তি করার ওয়াদা করেও তা রক্ষা করেনি। সেজন্যই জাতীয় পার্টির উদ্যোগে লংমার্চ করা হবে।” তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্দোলন করারও আহবান জানান।

এরশাদ বলেন, “পানিশূন্য তিস্তা নদী ও এই অঞ্চলকে মুরভুমির হাত থেকে রক্ষা করতেই জাতীয় পার্টির তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ।”

তিনি তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “ভারত সরকার আর্ন্তজাতিক আইন লংঘন করে তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা থেকে আমাদের বঞ্চিত করছে।”

এরশাদ বলেন, “সরকার তিন মাসের মধ্যে পানি চুক্তি হবে ঘোষণা দিলেও ছয় মাসেও তা করতে পারে নি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেন এরশাদ।” এজন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেরও পরামর্শ দেন এরশাদ।
 
তিনি বলেন, ‘‘তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা না গেলে পুরো রংপুর বিভাগ মরুভুমি হয়ে যাবে। মনে হয় এই সরকার চুক্তি করতেও পারবে না। সেই অবস্থায়ও নেই। তিস্তা যদি বন্ধ হয়ে যায়, পানি যদি না থমকে, তবে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। ক্যানেল বন্ধ হয়ে যাবে। ফসলের হানি হবে। আমাদের জীবনমরণ সমস্যা হবে।”


প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশন গঠনের পর ১৯৮৩ সালে তিস্তার পানি বন্টনের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ভারতের অনাগ্রহের কারণেই সেটি আলোর মুখ দেখেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় নি।

ভারতের একগুয়েমি মনোভাবের ফলে এই নদীর বাংলাদেশ অংশ এখন এখানকার মানুষের গলার ফাঁস। শুষ্ক মৌসুমে মরুর উত্তাপ আর বর্ষা মৌসুমে বেসামাল পানির তান্ডবে তিস্তা তীর ও আশেপাশের প্রায় অর্ধকোটি মানুষের জীবন যাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য চুপসে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলের অর্থনীতি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে