Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৬-২০১১

উৎসব আমেজে ক্রিসমাস পালিত

উৎসব আমেজে ক্রিসমাস পালিত
ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর: উৎসবের আমেজে বাংলাদেশের খ্রিস্টানরা পালন করেছে ক্রিসমাস উৎসবের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।  দিনটিতে সরকারি ছুটি ছিলো।

রঙিন বাতি ও ফুলে সাজানো গির্জা ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপাসনা ছাড়াও ভোজসভাসহ শিশু-কিশোরদের জন্য নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সান্তা ক্লজ সেজে শিশুদের উপহার বিতরণ করা হয়।

রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম শহর, তিন পার্বত্য জেলা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, লক্ষীপুর, পটুয়াখালী ও নীলফামারীর খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শনিবার থেকেই উৎসবে মেতে ওঠে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।

দুই হাজার দশ বছর আগে বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেমের এক গোশালায় (কুড়েঘরে) কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক প্রভু যিশু খ্রিস্ট। তাই প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে ধর্মীয় অনুভূতি ও আনন্দ নিয়ে পালন করেন প্রভু যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন।

শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের সূচনা লগ্নে দেশের সব গির্জায় ঘণ্টাধ্বনি এবং সমবেত প্রার্থনার মধ্যদিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এ ধর্মীয় উৎসব শুরু হয়। রোববার সকালে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস গির্জায় প্রার্থনা হয়েছে।

যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন স্মরণে খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রতিবারের মত এবারও শান্তির জন্য প্রার্থনা, ক্রিসমাস সঙ্গীত পরিবেশন, বড়দিনের কেক কাটা, শিশুদের মধ্যে সান্তা কজের উপহার বিতরণ, আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি সজ্জিতকরণ ও পারিবারিক পুনর্মিলনের আয়োজন করে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সাথে তারা আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “মহান সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানব জাতিকে কল্যাণ ও সত্যের পথে পরিচালতি করতে যুগে যুগে যে সব মহামানব পৃথিবীতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে যিশুখ্রিস্ট অন্যতম। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির পথে চলার আহবান জানিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমি আশা করি, বড়দিন দেশের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরো সুদৃঢ় করবে।”

বিরোধীদলীয় নেতা তার বাণীতে বলেন, “বড়দিন খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ সবার জন্য আনন্দময় ও উৎসবমুখর হয়ে উঠুক- এই কামনা করি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।”
 
বড়দিনের ইতিহাস হিসেবে জানা যায়, যিশুর মা মাতা মেরি ছিলেন ইসরায়েলের নাজারেথবাসী যোসেফের বাগদত্তা। একদিন এক দেবদূতের মাধ্যমে তিনি জানতে পারলেন, মানুষের মুক্তির পথ দেখাতে তার গর্ভে আসছেন ঈশ্বরের পুত্র। তার নাম রাখতে হবে যিশু। আজ থেকে দুই হাজার দশ বছর আগে ২৫ ডিসেম্বর বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে তার গর্ভেই জন্ম নেন যিশু।

তিনি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেন যখন অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ভণ্ডামিতে ভরে উঠেছিল পৃথিবী। মানুষের মধ্যে না ছিল শুদ্ধতা, না ছিল নীতি-নৈতিকতা। খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, যীশুর জন্মকালে আকাশ থেকে ভেসে এসেছিল দৈববাণী:‘তোমাদের মঙ্গলের জন্য পৃথিবীতে এ রাতে ঈশ্বরের পুত্র এসেছেন।’

যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে খ্রিস্টানরা এ দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করেন। ৪৪০ সালে পোপ এ দিবসকে স্বীকৃতি দেন। তবে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় মধ্যযুগে। সে সময় এর নাম হয় ‘ক্রিসমাস ডে’। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ক্রিসমাস দিবসে সরকারি ছুটি থাকে।

দেশে দৈনিক পত্রিকাগুলো ক্রিসমাসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের গির্জাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে