Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (100 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৫-২০১১

ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরজা বন্ধ

ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের দরজা বন্ধ
ফ্রান্সে  আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর ঝুঁকিপূর্ণ কোনও দেশ হিসেবে গণ্য হবে না বলে ফ্রান্স সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের চারটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আপাতত নিরাপদ (সেফ) রাষ্ট্র হিসেবেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্স সরকারের এ বিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য রাজনৈতিক কারণসহ নানা সমস্যায় পড়ে সে দেশে আশ্রয়ের দরজা প্রায় বন্ধই হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শনিবার বাংলানিউজকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, গত ২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন নাগরিক বিষয়ক দপ্তর থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।

৯ ডিসেম্বর এটি ফ্রান্স সরকারের গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।  

বাংলাদেশ ছাড়াও নিরাপদ ঘোষিত অন্য তিনটি দেশ হলো: আর্মেনিয়া, মালদোভা ও মন্টিনেগ্রো।

২০০৬ সালের ১৬ মে ফ্রান্সে বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছিল।

এর আওতায় গত ৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যে কোনও উপায়ে ফ্রান্সে প্রবেশের পর দেশটিতে বসবাসের সুযোগ চেয়ে আবেদন করে। এসব আবেদনকে ?অ্যাসাইলাম? বলা হয়।

রাজনৈতিক কারণে জীবনের হুমকি, সামাজিক কারণে বসবাস করতে না পারা, পারিবারিক সহিংসতার শিকারসহ এদেশে বসবাসে জীবনের হুমকি রয়েছে, এমন নানা কারণ দেখিয়ে মূলত অ্যাসাইলামের আবেদন করা হয়।

এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে ফ্রান্স সরকারের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন নাগরিক বিষয়ক দপ্তর অফপরাতে জমা রয়েছে।

এদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশিকে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
 
বাংলাদেশের ওই কূটনীতিক জানান, বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীরা এখন থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে আর গত কয়েক বছরের মতো প্রাধান্য ও সহানুভূতি পাবেন না।

এছাড়া তাদের আবেদনপত্র এখন থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই ফয়সালা করবে ফ্রান্স।

নিরাপদ দেশ ঘোষণা হওয়ার আগে ১৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব আবেদন সুরাহা করার নিয়ম ছিল। সেইসঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে ফ্রান্স সরকার আবেদনকারীদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করাসহ খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য খরচের জন্যও কিছু ভাতা দিতো। এখন আর এসব দেওয়া হবে না।

তবে প্যারিস দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা জানান, ২ ডিসেম্বরের আগে যারা আবেদন করেছেন তারা নতুন বিধানের আওতায় পড়বেন না।

ফ্রান্স সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফ্রান্স চ্যাপ্টার অবশ্য প্রতিবাদ জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি তাদের বক্তব্যে বলে, এভাবে একটি দেশকে নিরাপদ ঘোষণা করায় যাদের আসলেই আশ্রয় প্রয়োজন (জেনুইন ডিজার্ভিং) তারা বঞ্চিত হবে।

অ্যামনেস্টি আরও বলে, ফ্রান্স এ বিধানের দ্বারা ১৯৫১ সালের ২৮ জুলাই ফ্রান্সের স্বাক্ষর করা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বিষয়ক কনভেনশন নিজেরাই লঙ্ঘল করলো।
ফ্রান্স ঘোষিত নিরাপদ আরও ১৭ দেশ হলো: আলবেনিয়া, বেনিন, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, কেপ ভার্দে, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, ভারত, কসোভো, মেসিদোনিয়া, মালি, মৌরিস, সেনেগাল, সার্বিয়া, তানজানিয়া ও ইউক্রেন।

ফ্রান্স

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে