Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৫-২০১৩

‘এখনো পদত্যাগ করিনি’


	‘এখনো পদত্যাগ করিনি’

ঢাকা, ০৫ ডিসেম্বর- জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার জানিয়েছেন, তিনি বা দলের কোনো মন্ত্রী এখনো পদত্যাগ করেননি, তবে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কোনো সময় করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বারিধারার বাড়িতে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “এখনো আমরা পদত্যাগপত্র দেইনি। তবে যে কোনো সময় দিতে পারি।”

বেলা সোয়া ১২টার পর এরশাদের স্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান।

মন্ত্রীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকার রীতি থাকলেও এ সময় তাদের গাড়িতে পতাকা না থাকায় তাদের পদত্যাগের গুঞ্জন তৈরি হয়।

কিন্তু বেলা সোয়া ২টার দিকে সাংবাদিকদের কোনো কথা না বলেই তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বারিধারার দিকে রওনা হন।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন, পদত্যাগ করতেই হবে। তবে কখন করব বলতে পারছি না।”

এরশাদের ছোট ভাই ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের বেলা ১টার দিকে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তার গাড়িতে জাতীয় পাতাকা দেখা যায় বলে এক প্রতিবেদক জানান।

দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন কি না জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে চলে যান জাতীয় পার্টির এই নেতা। পরে তিনি নিজের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো হবে।

এরশাদের বাড়িতে পৌঁছে রুহুল আমীন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তিনজন আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। আমরা আমাদের দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তার সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে এসেছি।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কি কথা হয়েছে- সে বিষয়ে এরশাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।   

গত ১৯ নভেম্বর নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথের পর দপ্তরবণ্টনে  রওশন এরশাদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানিসম্পদ এবং রুহুল আমীন হাওলাদার বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। মুজিবুল হক চুন্নুকে যুব ও ক্রীড়া এবং সালমা ইসলামকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ পান জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।   আর জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিএম কাদের মহাজোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়নপত্র জমা দেয়ার পরদিন মঙ্গলবার আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। এর পরদিন নির্বাচনকালীন সরকার থেকে দলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

এরশাদ বলেন, “আমার শেষ কথা হলো- আমি নির্বাচনে যাব না, যাব না। তোমরা যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছ, তারা প্রত্যাহার করে নাও। আর সর্বদলীয় সরকারে যারা আছ, তাদের পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।”

এরশাদের ব্যক্তিগত সহকারী খালেক আক্তার বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, দলের কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দিনের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

এদিকে বৃহস্পতিবারও সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বাড়ি বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে  র‌্যাব-পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

র‌্যাবের ডিএডি লোভেল বলেন, তিনটি দলে র‌্যাবের ১৮ জন সদস্য এখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

“নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা এখানে আছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকবো।”

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর বুধবার দুপুর থেকে সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের বাড়ি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে