Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৫-২০২০

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনায় অনুদান নেই, সব ঋণের প্যাকেজ

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনায় অনুদান নেই, সব ঋণের প্যাকেজ

ঢাকা, ০৫ এপ্রিল- প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজকে ঋণের প্যাকেজ অভিহিত করে এতে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষজনকে অবহেলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের জবাবে বিকেলে উত্তরার নিজ বাসায় তিনি সাংবাদিকদের এই প্রতিক্রিয়া দেন।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রেন্সপন্স করেছে। এটা পজিটিভ তখনই বলতে পারতাম যদি আমরা দেখতাম যে, আসল সমস্যার সমাধান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের, ইনফরমাল সেক্টারের কৃষকদের, তাদের কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজ) নেই। জনগণের মধ্যে বলবে ৭২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দিয়েছে তো ঋণ, পুরোটাই ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছু নেই। সব ঋণের প্যাকেজ।’

খেটে খাওয়া মানুষের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সাধারণ “দিন আনে দিন খায়” গরিব মানুষের জন্য আমরা সরকারকে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলাম এটা অনুদান দিতে হবে। আমরা বলেছি, ভাতা বাড়াতে, চিকিৎসক-নার্স, চিকিৎসাকর্মীদের প্রণোদনা দিতে হবে, স্বাস্থ্যখাতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। শুধুমাত্র ঋণ নয়। আপনাকে এভাবে তাদেরকে অনুদান, ভাতা, বেতন বাড়িয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেইভাবে কথা বলেননি। “দিন আনে দিন খায়”- এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। দুর্ভাগ্যজনক সেই সেক্টারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও তার প্যাকেজের মধ্যে কোথাও সেই ধরনের কিছু আমরা দেখতে পাই নাই। রেমিট্যান্স যারা পাঠান তাদের কোনো কথা এই প্রণোদনা প্যাকেজে নেই।’

গার্মেন্টস খাতের প্রণোদনা শ্রমিকদের কাছে যাবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে প্যাকেজে কোনো কথা নেই উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে একেবারেই নেগলেটেড, কোনো কথাই বলা হয়নি এখানে। আপনার যেটা দরকার পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা বলেছেন ডাব্লিউএইচও প্রধান বলছেন। অথচ বাংলাদেশে এখন পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। যেখানে যাবেন বলবে যে, এখানে হবে না। ভেন্টিলেটর কত আছে আপনারা জানেন। আরও বেশি সেটা তৈরি করার কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজে) নেই। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখুন। হেলথ ডিপার্টমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক যে সমন্বয় থাকা দরকার সেটাও ঠিক নেই। ডিজি হেলখ এক কথা বলছেন, আইইডিসিআর ডিজি আরেক কথা বলছেন আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো আরও ভীষন কথা বলছেন। যেসব কথা শুনলে মনে হবে না দেশে ভাইরাস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।  বুঝতে পারছেন যে, সারা পৃথিবী ভয়ংকর মহামারীর মধ্যে পড়েছে, আপনারা কী বুঝতে পারছেন যে, সারা পৃথিবী গ্রেট ডিপরেশনের দিকে যাচ্ছে। সেই বিষয়গুলো সরকারের যদি দায়িত্ববোধ না থাকে তাহলে এই রাষ্ট্র কীভাবে টিকে থাকবে এটা আমাদের বোধগম্য নয়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা (করোনাভাইরাস) মানবসভ্যতার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করার জন্য আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে আছি, আমরা সবাই উদ্যোগী আছি। তারপরেও তারা বলছেন যে আমরা নাকি এমন এমন কথা বলছি যে, দায়িত্বজ্ঞানহীন-কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো কথা বলছি। কোথায় দেখালেন তারা এসব?’

‘আমরা তো ২৭ টা দফা দিয়েছি। তার বর্ণনা দিয়েছি। প্রত্যেকটা বিষয় যুক্তসঙ্গতভাবে বলেছি। আজকে সরকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এই করোনাভাইরাসকে মোকাবিলার জন্যে। যেই মানসিকতার দরকার ছিল, আমি প্রস্তুতি বলব না, যে মানসিকতা সেটাকে তৈরি করবার জন্য তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে’, বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা।

পূর্ণ লকডাউন দরকার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি তো মনে করি যে, পরিপূর্ণ লকডাউন করা উচিত। দ্যাট ইজ দ্য অনলি এনসার। যে ভয়াবহতা আসছে, এখনো রিয়েলাইজ করতে পারছে না তারা। ২৭ দিন হয়ে গেছে। অলরেডি কিন্তু গতকালের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়বেই। ওই জিনিসটা যদি আমরা উপলব্ধি পারি, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি, আমরা ওইভাবে পরাজিত করব, পরাজিত তো অবশ্যই করব তবে তার জন্যে যে অস্ত্র দরকার, যে উইপেন্স দরকার, সেই উইপেন্সগুলো তো আমরা পাচ্ছি না।’

বিএনপি মহসাচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে একটা পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে যে, ৮৭% হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা নেই। যেমন আপনার এপেনডিসাইটিজ হলো, আপনি চাইবেন যে, ডাক্তারের কাছে গিয়ে আলট্রাসোনোগ্রাম করা হোক, সেটা আপনি পাবেন না। আপনার হার্ট অ্যাটাক হলো হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাবেন না। জাস্ট ফ্যাক্ট। এই বিষয়গুলো সরকার নজর দিচ্ছে বলে আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখছি না। অন্যদিকে সমন্বয় কোনোখানেই নেই। এই বিষয়গুলো জনগনের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করেছে এবং প্রথম দিক থেকে প্রত্যেকটা ইস্যুতে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এই সরকারের ওপর থেকে প্রায় চলে গেছে।‘

সূত্র-আমাদের সময়
এম এন  / ০৫ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে