Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৫-২০২০

বাঙালির প্রিয় নববর্ষেও করোনা’র থাবা

বাঙালির প্রিয় নববর্ষেও করোনা’র থাবা

কলকাতা, ০৫ এপ্রিল - চৈত্র মাস শেষ হতে চলেছে। আর কদিন পরেই বাঙালির প্রিয় উত্সব পয়লা বৈশাখ। ব্যবসাদারদের কাছে হালখাতা। বাংলা নববর্ষ। কিন্তু সবই করোনার কারণে শেষ। চলতি সময়ে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার মূল চৈত্র সেলের কারবার বর্ধমান শহরের বিসিরোড থেকে বড়বাজার খাঁ খাঁ করছে।

লকডাউনের জেরে মানুষ খুব ঠেলায় না-পড়লে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। এই সময় কার্জন গেট থেকে বড়বাজার প্রায় দেড় কিমি রাস্তার দু’ধারে হরেক কিসিমের পসরা নিয়ে ব্যবসাদাররা বসে সকাল থেকে চিত্কার করে যাচ্ছেন, লকডাউনে এমনটা কল্পনা করাটাও অন্যায়। ইতিমধ্যেই বর্ধমান শহরের চৈত্র সেলের বাজার না-বসায় কেউ কেউ রঙ্গ করে ছড়াও কাটছেন সোস্যাল মিডিয়ায়৷

“কার্জনগেট কাঁদিয়া কহে / রানিগঞ্জ বাজার ভাই রে / বড়বাজার কে বলে দিও / চৈত্র সেল এবার নাই রে”। চলতি করোনা পরিস্থিতিতে কেবল যে চৈত্র সেল না হওয়ায় ব্যবসাদারদের ভয়াবহ ক্ষতি তাইই নয়, অনেকেই সারাবছরের জন্য তাকিয়ে থাকেন এই চৈত্র সেলের দিকেই। সারাবছরের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এই সময় তাঁরা কিনে রাখেন কিছুটা সাশ্রয় হয় বলেই। আবার এ্মনও অনেকেই আছেন যাঁরা এই চৈত্র সেলের ওপর ভরসা রেখেই আগামী দুর্গাপুজোর আটপৌরে কেনাকাটাটাও করে রাখেন।

দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই একে অপরকে দেওয়ার বিষয় থাকে, তাঁরাও এই সুযোগটাকে হাতছাড়া করতে চান না। বর্ধমান শহরের ফুটপাতের হকার উজ্জ্বল রায় জানিয়েছেন, করোনার জেরে এমনতিই ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। ব্যবসা বন্ধ। কিভাবে সংসার চালাবেন বুঝতে পারছেন না। তার ওপর অনেকেই আশা করেছিলেন হয়ত এই দুর্যোগ কেটে যাবে। কিছুদিনের জন্যও চৈত্র সেলের বাজারটা হাতে পাওয়া যাবে- ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

কিন্তু সে আশাতেই জল পড়েছে। এখন মানুষ নিজে বাঁচবেন না পোশাকা কিনবেন? উল্লেখ্য, কেবলমাত্র বর্ধমা্ন শহরের বিসিরোড এবং কার্জন গেট চত্বর জুড়ে ফুটপাতের হকারের সংখ্যা প্রায় ৭০০-র কাছাকাছি। চৈত্র সেলের সময় এর বাইরেও বহু ব্যক্তি মাল নিয়ে আসেন। বড়বাজারের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা আরও বেশি।

ব্যবসাদাররা জানিয়েছেন, চৈত্র সেলের প্রায় একটা মাসে খুব ছোট দোকানদাররাও গড়ে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার বিক্রি করেন। বড় ব্যবসাদারদের পরিমাণ আরও বেশি। এরই পাশাপাশি কেবলমাত্র যাঁরা চৈত্র সেলের জন্যই আলাদা করে মালপত্র নিয়ে বসেন তাঁদের গড় প্রতিদিন আয়ও ৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে যায়। উল্লেখ্য, বর্ধমান শহরের বিসিরোড থেকে বড় বাজার পর্যন্ত এই চৈত্রসেলের সময় যে সমস্ত হকাররা মাল বিক্রি করতে বসেন তাদের মধ্যে কেবলমাত্র বড়বাজার এলাকায় রাস্তার দু’ধারকে রীতিমত ভাড়া দেওয়া হয়।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি অংকের টাকার বিনিময়ে কতিপয় নেতারা এই ফাটকা আয় করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এবারে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরাও মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। প্রসঙ্গত, করোনার জেরে চৈত্র সেলের বাজার না বসায় যে সমস্ত বড় বড় ব্যবসায়ীরা কেবলমাত্র চৈত্র সেলের জন্যই বিভিন্ন মালপত্র, পোশাকাদি তৈরী করেন এবারে তাঁরাও মুখ থুবড়ে পড়েছেন। অনেকেই করোনা পরিস্থিতির আগেই প্রচুর পরিমাণে মালপত্র তুলে রেখেছিলেন কিন্তু আচমকাই এই ঘটনায় তাঁরাও এখন দিশেহারা।

সূত্র : কলকাতা২৪
এন এইচ, ০৫ এপ্রিল

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে