Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৮ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৫-২০১১

ঋতু গুহের জীবনাবসান

ঋতু গুহের জীবনাবসান
কলকাতা, ২৫ ডিসেম্বর: ‘চিরসখা হে, ছেড়ো না, মোরে ছেড়ো না’। হয়তো কাল পেরিয়ে বাজতে থাকবে তার কণ্ঠে এই গান। কিন্তু গানের ভুবন ছেড়ে চলেই গেলেন ঋতু গুহ। অনন্য কণ্ঠ, হৃদয়ের ভেতর থেকে বাজতে থাকা সুরের নিখুঁত ঝরনা থেমে গেল হঠাৎই।


বেশ কিছুদিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গান শোনাতে পারছিলেন না অনেকদিন ধরেই। কলকাতায় বালিগঞ্জে নিজের বাড়িতেই শনিবার বিকালে শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়। তখনই একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাবার পথে তার জীবনাবসান হয়। বয়স হয়েছিল ৭৪। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে প্রয়াত শিল্পীর মরদেহ এদিন রাতে বাসভবনেই রাখা হয়েছে। বড় মেয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় আসার পরে শেষকৃত্য হবে রোববার দুপুর নাগাদ।

রবীন্দ্র-চর্চায় ডুবে থাকা এক পরিবারে গানের আবহেই ঋতু গুহের জন্ম ১৯৩৭ সালে। ‘দক্ষিণী’ পরিবারে কাকা শুভ গুহঠাকুরতার কাছে প্রথম পর্বের সঙ্গীত শিক্ষা। পরে শান্তিনিকেতনেও শিখেছিলেন। দুই প্রবাহ মিলে রবীন্দ্রনাথের গান তার কণ্ঠে নিবিড় অথচ প্রবাহিনী হয়ে ওঠে। ১৯৬১ সালে তার প্রথম রবীন্দ্র গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। পরে আরো অনেক সংকলন। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’। ধ্রুপদ, পূজা পর্যায়ের গানে তাঁর কিছু বিশিষ্টতা ছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘ভাঙা গান’ গাইতেন খুব ভালো। ঋতু গুহের গলায় ‘কে বসিলে আজি’, ‘বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী’ উত্তরণই। তেমনই ‘আহা তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা’, ‘কাল রাতের বেলা’ বা ‘বাজিল কাহার বীণা’ যেভাবে তিনি গাইতেন, তেমন আর কেউ নন। ‘ওরা পরকে আপন করে’ বা ‘সংশয়তিমির মাঝে’ তাঁর গলায় নতুন করে স্বরবিতান থেকে উঠে এসেছিল বললে সম্ভবত অত্যুক্তি হবে না। গায়কীর বৈশিষ্ট্য অথচ স্বরলিপির বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগ্যতমা উত্তরসূরি ছিলেন তিনি। শান্তিদেব ঘোষ থেকে সত্যজিৎ রায়, প্রভূত প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশিষ্টদের। ভালো শিক্ষিকাও ছিলেন, তার গায়কীর ধারা অনেক তরুণতর শিল্পীর মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব গুহ তার স্বামী। ‘খেলা যখন’ উপন্যাসে তাদের দু’জনের গল্প চিরকালীন হয়ে থাকবে। তাদের দুই কন্যা রয়েছেন। এদিন রাতে ঋতু গুহের মৃত্যুসংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে যায় সাংস্কৃতিক জগৎ। অনেকেই তার বাড়িতে যান। সাধারণত একক অনুষ্ঠান শেষ করতেন ‘খেলার সাথী, বিদায়দ্বার খোলো’ গেয়ে। শনিবার রাতে তার অনুচ্চারিত অনুরণন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে