Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (60 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৩-২০১৩

তিস্তায় বিলীন গ্রামের পর গ্রাম

বাদশাহ্ সৈকত


তিস্তায় বিলীন গ্রামের পর গ্রাম

কুড়িগ্রাম, ২ ডিসেম্বর- তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
 
কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার বিদ্যানন্দ, নাজিমখান, দলদলিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘর, ফসলিজমি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।
 
নতুন করে ভাঙনের মুখে রয়েছে বজরা, গুনাইগাছ, খামার দামারহাট, কর্পুরা, ঠুটাপাইকর, তৈয়বখা ও ডাংরারহাটসহ দশ গ্রাম। এ সব এলাকার আশ্রয় কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদও রয়েছে তিস্তায় বিলীন হবার পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড  বালুর বস্তা ফেলেও কিছুতেই ঠেকাতে পারছে না ভাঙন।
 
এদিকে, তিস্তার ভাঙন রোধে বার বার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। তারা নদীতীরে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
 
সরকারের কাছে কোনো সাহায্য নয়, শুকনো মৌসুমেই দ্রুত তিস্তার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর। বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু আর হারাতে চায়না তারা।
 
জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে তাদের বিস্তর অভিযোগ। তারা ভোটের সময়ই কেবল আসে-খোঁজ-খবর নিতে। ভোট হয়ে গেলে আর দেখা দেয়না। ভাঙন রোধে ভোটের আগে কথা বললেও পরে তা ভুলে যায়।
 
তিস্তা নদীর ভাঙনে আশ্রয়হারা আমেনা বেগম জানান, তার ৫০ শতক আবাদী জমিসহ বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাও ভাঙনের মুখে। এরপর কোথায় যাবেন, ঠিকানা জানা নেই তার।
 
রাজারহাট উপজেলার ঠুটাপাইকর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ঠুটাপাইকর উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাইমারি বিদ্যালয় নদী থেকে মাত্র  দুইশ গজ দূরে। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে স্কুল দুইটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্কুলের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত প্রধান শিক্ষক চান দ্রুত ভাঙন ঠেকানো হোক।
 
উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হান্নান সরকার জানান, ভাঙন ঠেকাতে বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাননি তিনি। তাই তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
 
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, ভাঙন রোধে ২০ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে