Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-৩০-২০২০

ইউরোপের কোথায় কেমন ‘লকডাউন’

ইউরোপের কোথায় কেমন ‘লকডাউন’

লন্ডন, ৩০ মার্চ- কোভিড-১৯ যেন ছড়াতে না পারে, সেজন্য ইউরোপের সর্বত্র জনজীবনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে৷ চলুন জেনে নেই এসব কড়াকড়িগুলো কেমন চলছে।

ইটালি
ইটালিতে গত ৯ মার্চ সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়৷ এর ছয় কোটি জনগোষ্ঠীকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়৷ অন্যথায় চার শ’ থেকে তিন হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হবে৷ সুপারমার্কেট, ব্যাংক, ফার্মেসি ও পোস্ট অফিস ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়৷ আপাাতত এই ঘোষণা ৩ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও তা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে৷

স্পেন
গত ১৪ মার্চ সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে৷ দেশের চার কোটি ৬০ লাখ মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়৷ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এই অবস্থা কার্যকর থাকবে৷ হাজার হাজার পুলিশ ও সেনাবাহিনি মোতায়েন করা হয়েছে৷ স্পেনও তার ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে৷

ফ্রান্স
ফ্রান্সে ১৭ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করা হয়৷ চলবে ১ এপ্রিল পর্যন্ত৷ কিন্তু বাড়ানো হতে পারে৷ ঘর থেকে বেরোতে হলে একটি ফর্ম পূরণ করে কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়৷ দিনে একবার শরীরচর্চা করতে এক ঘন্টার জন্য একা বের হওয়া যাবে৷ এছাড়া ঘরের এক কিলোমিটারের মধ্যে হেঁটে আসা যাবে৷ না মানলে ১৩৫ ইউরো থেকে ৩৭০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা৷

জার্মানি
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো জার্মানি তার ৮ কোটি জনগণের জন্য অত কড়াকড়ি আরোপ করেনি৷ তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে নিয়ম করে দিয়েছে, যেমন, ঘরের বাইরে ভিন্ন পরিবারের দু’জনের বেশি একসঙ্গে থাকতে পারবেন না৷ ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা না মানলে কোনো কোনো রাজ্য ২৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে৷

যুক্তরাজ্য
২৩ মার্চ লকডাউনের ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য৷ চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত৷ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ বা যাদের অফিসে যেতেই হবে তারা বাইরে যেতে পারেন৷ তবে কোনর কাগজ দেখাতে হবে না৷ বড় আকারের জমায়েত বন্ধ রয়েছে৷

অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়াও কিছুটা শিথিল৷ ৯০ লাখ মানুষের দেশটিতে গত ১৬ তারিখ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, যা বলবৎ থাকবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত৷ মানুষ জরুরি কাজে কিংবা শরীরচর্চা করতে ঘরের বাইরে যেতে পারবেন৷ তবে পাঁচ জনের বেশি একসঙ্গে থাকতে পারবেন না৷ অন্য দেশগুলোর মতো তারাও সব রেস্টুরেন্ট, বার এসব বন্ধ রেখেছে৷ কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে ৩৬০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে৷

বেলজিয়াম
গত ১৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল অব্দি লকডাউন ঘোষণা করে বেলজিয়াম৷ তবে তা আট সপ্তাহ বা এর বেশিও হতে পারে৷ এক কোটি ১৪ লাখ মানুষের দেশটিও ডাক্তার দেখানো, জরুরি কাজ, কিংবা হালকা শরীরচর্চা ছাড়া জনগণকে ঘরেই থাকতে বলেছে৷ রাস্তায় পুলিশ টহল দিচ্ছে৷ তারা নিয়ম না মানলে যে কাউকে জরিমানা করতে পারে৷

পর্তুগাল
১৯৭৬ সালে গণতন্ত্র ফেরত পাবার পর এই প্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে পর্তুগাল৷ ২ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবে তা৷ জরুরি অবস্থার আওতায় সরকার সেনা মোতায়েনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামসহ বেশিরভাগ বিষয়ই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে৷ লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে৷ ব্যাংক, ফার্মেসি ও খাদ্যদ্রব্যের দোকান খোলা রয়েছে, তবে রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৭৬ জন। আর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৮৮৩। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৯১৪ জন।

এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে ৯৭ হাজার ৬৮৯ জন আক্রান্ত হলেও প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজার ৭৭৯ জন।

অপরদিকে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ২১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪৪৫ জনের।

ইতালির পর সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছে স্পেনে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ৮০ হাজার ৩১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার দুইজনের।

চীনে বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৪৩৯। আর দেশটিতে মৃত্যু বরণ করেছেন ৩ হাজার ৩০০ জন।

জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ৯৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫২৫ জনের।

ফ্রান্সে আক্রান্ত ৪০ হাজার ১৭৪ জন। মৃতের সংখ্যা ২,৬০৬।

এশিয়ার দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩০৯। আর মৃতের সংখ্যা ২,৬৪০।

যুক্তরাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২ শ ২৮ জনের আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৫২২ জন।

এছাড়া সুইজারল্যাণ্ডে আক্রান্ত ১৪,৮২৯। মৃত্যু ৩০০। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ১০,৮৬৬ মৃত্যু ৭৭১। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ১০,৮৩৬, মৃত্যু ৪৩১।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত্যু ১৫২, আক্রান্ত ৯,৫৮৩। তুরস্কে মৃত্যু ১৩১, আক্রান্ত ৯,২১৭। অস্ট্রিয়ায় মৃত্যু ৮৬, আক্রান্ত ৮,৭৪৩। কানাডায় মৃত্যু ৬৩, আক্রান্ত ৬,২৮০। পর্তুগালে মৃত্যু ১১৯, আক্রান্ত ৫,৯৬২।

নরওয়েতে আক্রান্ত ৪,২৭১, মৃত্যু ২৫। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৪,২৫৬, মৃত্যু ১৩৬। ইসরায়েলে আক্রান্ত ৪,২৪৭, মৃত্যু ১৫।

আর/০৮:১৪/৩০ মার্চ

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে