Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০ , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-৩০-২০২০

বহু বছর ধরে মানবদেহে ছিল করোনাভাইরাস

বহু বছর ধরে মানবদেহে ছিল করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এখন সবার দৃষ্টি এর প্রতিষেধক এবং ওষুধের দিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই সংক্রমণের কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত হয়নি। তবে আশার কথা এটাই যে- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, ইজরায়েল, পোল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এই মারণ ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার উপায় আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। অনেকটা সফলও হয়েছেন তারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে মানবদেহে করোনা প্রতিষেধক টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে।

কোভিড -১৯ বিশ্বজুড়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে, যেমন- লকডাউন, নিউমোনিয়া এবং ভয় সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা সার্স-সিওভি -২ করোনভাইরাসটি কোথা থেকে এসেছে তা নির্ধারণের জন্য দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। যদিও আমাদের কাছে এখনও এ সমস্ত প্রশ্নের জবাব নেই। এটি জলাশয়ের কোনও প্রাণী থেকে এসেছে না-কি চীনের ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।

করোনভাইরাসের উৎস সম্পর্কে গবেষণায় বেশ কিছু নতুন ও আকর্ষণীয় সম্ভাবনা উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে,ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে মহামারি হয়ে ওঠার আগে মানুষের জনবসতিতে নিরীহভাবে প্রচুর পরিমাণে ঘুরছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এটা ছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা বিজ্ঞানীদের এই দলটি গবেষণায় লিখেছেন, 'এটি সম্ভব যে সার্স-কোভি -২ এর একজন পূর্বসূরী অভিযোজনের মাধ্যমে (নতুন জিনোমিক বৈশিষ্ট্য) নতুন রূপ ধারণ করে মানব সম্প্রদায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

একবার মানবদেহে সংক্রমণ ঘটানোর পরে এই অভিযোজনের মাধ্যমে ভাইরাসটি একটি বৃহৎ আকারের গোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরে সেটা মহামারির রূপ নিয়েছে।

গবেষকরা সার্স-সিওভি-২ এবং অন্যান্য অনুরূপ করোনাভাইরাস থেকে প্রাপ্ত জিনোমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, সার্স-সিওভি-২ স্পাইক প্রোটিনগুলির রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেন (আরবিডি) বিভাগগুলি মানুষের কোষের সাথে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর ছিল। সে কারণে অভিযোজনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া নতুন এই করোনাভাইরাসটি তার আদর্শ বাসস্থান হিসাবে মানবদেহকে বেছে নিয়েছে।

স্ক্রিপস রিসার্চের একজন ইমিউনোলজিস্ট ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন বলেছেন, 'পরিচিত করোনাভাইরাস স্ট্রেনগুলির জন্য উপলভ্য জিনোম সিকোয়েন্স ডেটার সঙ্গে তুলনা করে আমরা নির্ধারণ করতে পারি যে সার্স-সিওভি -২ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ভুত হয়েছিল। ভাইরাসের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য, স্পাইক প্রোটিনের আরবিডি অংশে রূপান্তর এবং এর স্বতন্ত্র মেরুদণ্ড। ফলে  করোনাভাইরাস ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে এই ধারণা বাতিল হয়ে যায়।'

গবেষক দলটি দুটি কার্যকর অনুমানের অন্বেষণ করেছিলেন। প্রথমত, মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার আগে এটি প্রাণীদেহকে  প্রাকৃতিক হোস্টে হিসাবে নির্বাচন করেছিল কি-না। দলটি ব্যাখ্যা করে যে, বাঁদুড় এবং পাঙ্গোলিন থেকে সংগৃহীত করোনভাইরাসগুলির নমুনাগুলিতেও একই রকম জিনোম সিকোয়েন্স দেখা গেছে, তবে তাদের কোনটি এখনও মানবদেহে ছড়ানো করোনাভাইরাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

গবেষকরা লিখেছেন, 'যদিও কোনও প্রাণীদেহ থেকে করোনাভাইরাসটি ছড়িয়েছে এমন দাবি করার জন্য প্রতক্ষ্য কোন প্রমাণ আমরা পাইনি। এমনকি সার্স-সিওভি -২ করোনাভাইরাসের সঙ্গে বাঁদুড় এবং অন্যান্য প্রজাতির করোনারভাইরাসগুলির মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। ফলে প্রাণীদেহ থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে এমন কথা বলা যাবে না।'

দ্বিতীয় অনুমানটি হল, একটি প্রাণী হোস্ট থেকে ভাইরাসটির মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাদ্যমে মানবদেহে সংক্রমণ ঘটেছিল। পরে অধিকতর উপযোগী হওয়ায় করোনা মানবদেহকেই তার বাসস্থান হিসাবে বেছে নিয়েছে।

এনআইএইচ ব্লগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের ডিরেক্টর ফ্রান্সিস কলিন্স বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে,'দ্বিতীয় দৃশ্যটি হল নতুন করোনভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানবদেহে প্রবেশ করেছে। তারপরে, কয়েক বছর বা সম্ভবত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে বিবর্তনীয় পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসটি শেষ পর্যন্ত মানব থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার এবং মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগের কারণ হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে।'

যদিও আমরা এখনও দুটি অনুমানের কোনটা সঠিক তা জানি না, তবে গবেষকরা মনে করেন যে প্রমাণগুলি নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে। তবে সেই গবেষণাটি করার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

ততদিন, এই ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে বাঁচতে আপনার হাত ধুয়ে নিন, বাড়িতে থাকুন এবং আপনি যদি পারেন তবে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টাতে সহায়তা করুন।

বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাপত্রটি ন্যাচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে।

এম এন  / ৩০ মার্চ

গবেষণা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে