Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৯-২০২০

সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না কেন মন্ত্রীরা?

সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছেন না কেন মন্ত্রীরা?

ঢাকা, ৩০ মার্চ- বাংলাদেশের মন্ত্রীরা কেন জনপ্রিয় নন কিংবা মন্ত্রীদের উপর কেন জনআস্থা সঙ্কট রয়েছে? এই নিয়ে প্রায় কথাবার্তা হয়। অনেক মন্ত্রী আছেন দিনরাত পরিশ্রম করছেন, মন্ত্রণালয়ের কাজ দক্ষতার সাথে পালন করছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয় নন এবং তাঁর থেকেও বড় কথা সাধারণ মানুষ তাঁর উপরে আস্থাশীল নন।

আবার অনেকেই আছেন যে, অনেক জনপ্রিয় মন্ত্রী ছিলেন, যারা হয়তো কিছুই করছেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁর উপরে আস্থাশীল। আমরা যদি অতীতে ফিরে দেখি, সৈয়দ আবুল হোসেন ছিলেন সড়ক পরিবহন এবং যোগাযোগ মন্ত্রী। আবুল হোসেনই পদ্মাসেতুর মতো মেগাপ্রজেক্টের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি মোটেই আস্থাশীল ছিলেন না। তিনি কিছু করলেই গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছাপা হতো। এক ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমেই তিনি এক অজনপ্রিয় মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। সে তুলনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই ধারাবাহিকতায় চলছেন। তাঁর আমলে সড়ক দূর্ঘটনা কমেনি, কিংবা রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁর উপরে আস্থাশীল।

আমরা যদি দেখি যে, এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বিভিন্ন জায়গায় তিনি প্রচুর কাজ করছেন এবং মন্ত্রণালয়ে তিনি সকালে থেকে দীর্ঘ সময় কাটান। কিন্তু তারপরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় নন, জনআস্থার সঙ্কট রয়েছে তাঁর ব্যাপারে। অথচ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ, যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তিনি অফিস করতেন হাতেগোনা কয়েক দিন এবং তাও নিয়মিত করতেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়, সাধারণ মানুষ তাঁর উপরে আস্থাশীল ছিলেন।

কেন এটা হয় সেটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, জনআস্থার বা জনপ্রিয়তা একটি ভিন্ন বিষয়। সাধারণ মানুষ একজন মন্ত্রীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, তাঁর কথাবার্তার ভঙ্গি এওং তিনি কতটুকু জনবান্ধব তা দেখেন।

সাম্প্রতিক সময়ের কথাই ধরা গেলে দেখা যাবে, এই করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক অনেক কাজ করছেন এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু তিনি যখনই গণমাধ্যমে আসছেন, তখনই বিপত্তি তৈরি হচ্ছে। যেমন কিছুদিন আগে তিনি বললেন যে, পিপিই প্রয়োজন নেই। আবার এই বক্তব্যের পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পিপিই ছাড়াই চিকিৎসা দেবার জন্য এক ভূতুরে সার্কুলার দেয়া হলো। সে সার্কুলার নিয়ে যখন চিকিৎসক সমাজ অসন্তোষ প্রকাশ করলো তখন এই সার্কুলার প্রত্যাহার করা হলো। মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই বললেন যে, এই সার্কুলার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। আজ তিনি গণমাধ্যমে এসেছিলেন। কারা কিভাবে তাঁকে উপস্থাপন করছেন তা জানা নেই। কিন্তু মন্ত্রী যে জায়গাটায় বসে ছিলেন, সেই জায়গাটা শোভন এবং মার্জিত ছিল না। পেছনে বড় এয়ার কুলার এবং মন্ত্রীর বসার ধরণ স্কাইপের ভিডিও ক্যামেরা সমান্তরালে ছিল না, যার ফলে মন্ত্রীকে নিচু লাগছিল। এছাড়াও এই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সাবলীল ছিলেন না। বরং উত্তেজিত হচ্ছিলেন। একটু স্বাভাবিক এবং জনগণকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে যদি সংবাদ সম্মেলনগুলোতে মন্ত্রী উপস্থিত হলে মানুষ আস্থাশীল হতো এবং তাঁর বক্তব্যগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেনি। বরং অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। একই কথা বলা যায় খাদ্য মন্ত্রীর ব্যাপারে। খাদ্য মন্ত্রী অনেক কাজই করেছেন। বিশেষ করে করোনা সঙ্কটে যেন খাদ্যের যোগান স্বাভাবিক থাকে, খাদ্যের সঙ্কট যেন না দেখা দেয়- এসব ব্যাপারে তিনি অনেক কথাই বলছেন। তবে কিছু কিছু কথায় যেন ধমকের সুর, কিছু কিছু কথায় যেন তিনি সাধারণ মানুষকেই আস্থা দিতে পারছেন না। বরং সাধারণ মানুষের উপর কর্তিত্বসুলভ আচরণ ব্যক্ত করছেন। এর ফলে তিনি জনআস্থার মধ্যে আসতে পারছেন না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা বলা যায় যে, তিনি এবার বিরাট সুযোগ পেয়েছেন। একেবারে কূটনৈতিক থেকে আওয়ামী লীগের মতো দলের পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়াটা চাট্টিখানি কথা না। তিনি সেই ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। অথচ তিনি কতটুকু কাজে লাগাতে কতটুকু কাজে লাগাতে পারলেন? তিনি বিদেশ থেকে প্রত্যাগতদের ‘নবাবজাদা’ আখায়িত করে যেমন বিতর্কিত হয়েছেন, তারপরে তিনি যেসব কথাবার্তা বলেন সেগুলোতে সাধারণ মানুষ খুব আস্থা রাখতে পারেন না।

এ কারণেই রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে নেহেরু বলেছিলেন, রাজনীতিবিদদের কেবল কাজ করলেই হবে না। জনগণ যেন বিশ্বাস করে তিনি কাজ করছেন, সেটি হলো সবচেয়ে মূল্যবান। সেজন্যই জনগনের সঙ্গে বন্ধুসুলভ, জনগনকে আস্থায় নিয়ে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈরীতা না করে যদি দায়িত্ব পালন করে তাহলেই মন্ত্রীরা জনআস্থায় আসতে পারবে। জনআস্থায় যদি না আসতে পারে তাহলে তারা যে কাজই করুক না কেন সাধারণ মানুষের কাছে তা খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাশীল হবে না।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এম এন  / ৩০ মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে