Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২৫-২০১১

বরিশালের কচুরিপানায় ইউরোপে ক্রিসমাস

বরিশালের কচুরিপানায় ইউরোপে ক্রিসমাস
ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর: বরিশালের কচুরিপানায় তৈরি হচ্ছে ক্রিসমাসের সান্তা ক্লজসহ নানা উপহার। এসব রফতানি হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। এ নিয়ে বৃটেনের বিখ্যাত দৈনিক গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
 
গার্ডিয়ান লিখেছে, দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনো কৃষককে জিজ্ঞেস করুন, সবাই বলবে ‘কচুরিপানা একটা বদ জিনিস’। কচুরি সে ফুলসহ হোক, বা ফুল ছাড়া হোক, কৃষকরা এটা পছন্দ করেন না।
 
ভাসমান এ কচুরি মশার কারখানা, তাছাড়া নিচের দিকে লম্বা ঝুড়িওয়ালা আগাছাগুলো কম্বলের মতো লেপ্টে থাকে পানির ওপরে, জলাশয়ে পানির প্রবাহে বাধা দেয়।
 
কিন্তু অনেকের জন্যই এ কচুরি এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। যেমন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মিনতি মন্ডল। পঞ্চান্ন বছরের বিধবা মিনতির জীবনে কচুরিপানা আর ক্রিসমাস মিলে এসেছে আশীর্বাদ হয়ে।
 
মিনতি হচ্ছেন সেসব স্থানীয় কারিগরদের একজন, যারা এসব কচুরিপানাকে পরিণত করছেন ক্রিসমাসের নানা উপহার সামগ্রীতে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে রফতানি হচ্ছে এসব উপহার সামগ্রী।
 
মিনতি বললেন, ‘‘আমরা এমনই গরিব ছিলাম যে কচুরির শিকড় আর ফুল সেদ্ধ করে খেয়ে বাঁচতাম। আর এখন আমরা কচুরি থেকে ক্রিসমাসের উপহার বানাই, দিনে তিনবেলা ভাত খেতে পারি।’’ ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর নানা জিনিসপাতি বানান তারা।
 
এ নারীদের অনেকেই কখনো কোনো গির্জায় যাননি। কিন্ত খ্রিস্টানদের এ বড় ধর্মীয় উৎসবের মওসুম তাদের জন্যও আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে। মিনতির আরেক সঙ্গী রাশেদা বেগম বলছিলেন, ‘‘আমরা যেসব জিনিস বানাই, সেগুলা দিয়ে মানুষ ক্রিসমাস পালন করতে পারে।এটা জেনে ভালো লাগে।” ৪২ বছর বয়স্কা রাশেদা বলছিলেন, ‘‘সামনের দিনে এ টাকা আমাদের কাজে লাগবে।’’
 
অসংখ্য নদী এ অঞ্চলকে জালের মতো জড়িয়ে রেখেছে। জলের প্রাচুর্যের পাশাপাশি এখানে কচুরিরও অভাব নেই। কচুরি থেকে বানানো এসব সামগ্রী একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা হয়। কুটির শিল্প গড়ে তুলতে সংস্থাটি কারিগরদের ঋণ দেয়।
 
আগৈলঝাড়ায় এ প্রকল্পের নকশা বিভাগের পরিচালক সুরাইয়া চৌধুরী জানালেন, বর্তমানে প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার লোক কাজ করছে।
 
তিনি বললেন, ‘‘আমি সবসময় নতুন নকশা বানাতে কাজ করি। কিন্তু সচেতনভাবেই আমরা সবকিছুকে সাদামাটা বানাই, টেকসই করে বানাই এবং কম প্রযুক্তি ব্যবহার করি।’’
 
কচুরি থেকে বানানো নানা উপহার সামগ্রী দিয়ে সাজানো অফিস ঘরে বসে কথা হচ্ছিল সুরাইয়া চৌধুরীর সঙ্গে। ক্রিসমাসের সান্তা ক্লজ সম্পর্কে কিছু জানেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সুরাইয়া একটা ছোটো পুতুলের দিকে আঙুল তুলে বললেন, ‘‘আমাদের এখানে সান্তা আছে!’’
 
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে