Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৩০ মে, ২০২০ , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৮-২০২০

গতিহারা ব্রহ্মপুত্র নরসুন্দা আড়িয়াল খাঁ

সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন


গতিহারা ব্রহ্মপুত্র নরসুন্দা আড়িয়াল খাঁ

কিশোরগঞ্জ, ২৮ মার্চ- কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী খনন করে লেকে পরিণত করা হয়েছে। খননের আগের অবস্থার চেয়ে বর্তমান অবস্থা আরও করুণ। নদীতে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে, যেন ময়লার ভাগাড়। এর ওপর রয়েছে কচুরিপানা। পানিপ্রবাহ নেই বললেই চলে। দখল করা হচ্ছে নদীর দুই তীর। এ ছাড়া কটিয়াদীতে আড়িয়াল খাঁ ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ নির্মাণের ফলে নদ দুটি গতিহারা।

২০১২ সালে প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নরসুন্দা নদীর ৩৫ কিলোমিটার পুনর্খনন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে কাজটি করে। প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। প্রকল্পের শুরুতেই দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক শেখ সেলিম কবিরসহ অনেকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আন্দোলন। 

২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট তিন সচিব কিশোরগঞ্জে এসে গণশুনানি করেন। গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন। প্রকল্পকাজে ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান (ডিপিপি) অনুসরণ করা হয়নি বলে সবাই অভিযোগ করেন। শুধু নদী খননে লুটপাটই নয়, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নদীর দুপাড়ের অনেককে উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১১১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি, এমনকি অনেক স্থানেই নদী খননের আলামত পাওয়া যায়নি। নদীতে পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা জমে আবারও ভরাট হচ্ছে। নদীর দুই পাশের ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে। তীর রক্ষায় বসানো ব্লক উঠে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নদীটি ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে দখলদারদের দোকানপাট। এদিকে নদীটি করিমগঞ্জ হয়ে ইটনার অংশ খনন না করায় শুষ্ক মৌসুমে সেসব এলাকায় নদীটি একেবারেই শুকিয়ে যায়। করিমগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন অংশে কেউ কেউ নদীতে বাঁধ দিয়ে পুকুরও তৈরি করেছেন। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ থেকে চর পুমদি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নরসুন্দা নদীটি খনন করা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তাদের দাবি। অপরদিকে কটিয়াদী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দেওয়ার পর থেকে গতিহারা হয়ে পড়েছে নদ দুটি। ১৯৭৯ সালে কটিয়াদী থানার সামনে আড়িয়াল খাঁ নদে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি চর মান্দালিয়া এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদেও বাঁধ দেওয়া হয়। ফলে নাব্য হারিয়ে এখন মৃতপ্রায় নদ দুটি। এর ফলে নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আর/০৮:১৪/২৮ মার্চ

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে