Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ , ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২১-২০২০

নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ৫ খাতে : সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তথ্য

নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ৫ খাতে : সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তথ্য

ঢাকা, ২১ মার্চ - করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের ৫ খাতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক খাত, সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য খাত, সরকারি অর্থায়ন এবং মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব এবং পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে মন্দার কবলে পড়বে অর্থনীতি। মানুষের আয় কমবে, এমনকি বেকার হবে অনেকেই। সামগ্রিকভাবে রাজস্ব আদায়ে চলমান নেতিবাচক অবস্থা আরও প্রভাবিত হবে। এতে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেওয়া, বিভিন্ন নীতি সহায়তা, ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ ছাড়া দরপতন ঠেকাতে প্রয়োজনে পুঁজিবাজার বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়।

গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি করোনার ক্ষতি নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলা হয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে প্রথমবারের মতো নিজস্ব কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সংস্থা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এ সময় বক্তারা ঝুঁকি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

সিপিডি মনে করে, দেশে কৃষিপণ্যের যথেষ্ট উৎপাদনও মজুদ আছে। এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ টন। গত বছরের চেয়ে যা দেড় লাখ টন বেশি। তবে করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজন পড়বে বিপুল বাড়তি অর্থ। যেহেতু এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অর্থপাচার ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের সুদহার কমানোর পরামর্শ দেয় সিপিডি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে মানব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিঘাত মোকাবিলা করছে বিশ্ব। ১৭৮টি দেশে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ৬ জন। তবে ৮৭ হাজার ৭০৪ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। প্রতি মুহূর্তে এ সংখ্যা পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে। তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩১০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শতকরা হিসেবে যা ৪০ শতাংশ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির নেতিবাচক অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ ব্যয় হয়। এ ব্যয় দিয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এর পর করোনার মতো একটি দুর্যোগে এ খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশের রপ্তানিতে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। কিন্তু প্রথম ৮ মাসে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক হয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য নিটওয়্যার গার্মেন্টসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ওভেন গার্মেন্টস ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ৭ দশমিক ৫, হিমায়িত খাদ্য ৪ দশমিক ৪, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ৯ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে সাত মাসে আমদানি কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে প্রাথমিক গুডস ২ দশমিক ১, শিল্পের কাঁচামাল ৮ দশমিক ৩, মুলধনী যন্ত্রপাতিতে ২২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তবে আগের ৭ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বিদেশে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে করোনার কারণে রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, কয়েকটি খাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে। কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মসুর ডাল, মরিচ, হলুদ, চিনি এবং ভোজ্যতেল সরবরাহ বিঘিœত হবে। বক্তারা বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, গার্মেন্টসের যন্ত্রাংশ, প্যাকেজিং আইটেম, ওষুধ, কসমেটিকস, টয়লেটিস, ওভেন অ্যান্ড নিট ইন্ডাস্ট্রিজ, শিশু খাদ্য, প্লাস্টিক, ইলেট্রিক্যাল মেশিনারিজ এবং উৎপাদন শিল্প এবং মেডিক্যাল সামগ্রীতে প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে বড় প্রভাব পড়বে সেবা খাতে। ভ্রমণ, পর্যটন, এয়ারলাইন্স, কার্গো ক্যারিয়ার, হোটেল ব্যবসা, পোশাক ও ফার্নিচার শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। করোনার প্রভাবে শিল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে জুন পর্যন্ত এদের ঋণকে খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দেয় সিপিডি।

করোনার প্রভাবে বেকারত্ব বাড়বে বলে মনে করে সিপিডি। বিশেষ করে সেবাকেন্দ্রিক শিল্পের অবস্থা বেশি খারাপ হবে। এর মধ্যে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রি, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেকারত্ব বাড়বে। এ ছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেকারত্ব সৃষ্টি হবে। বিশেষ দিনমজুরসহ স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা বেকার হয়ে তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের সুপারিশ করে সিপিডি।

সিপিডির ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এমনিতে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ খাতে বছরে মোট ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ। প্রতি ১ হাজার ৫৮১ জন মানুষের জন্য মাত্র একজন ডাক্তার রয়েছে। এ কারণে নাগরিকরা তার মৌলিক সেবা পায় না। এর পর করোনার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ব্যয় যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকারি অন্য ব্যয় কমিয়ে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জরুরি পরিবহন, মাস্ক, মেডিক্যালসামগ্রী এবং ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এমনিতেই সরকারের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। গত অর্থবছরে ৮৭ হাজার ৪০২ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। বছরের শুরুতে সিপিডি মনে করে এ অর্থবছরেও এ ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকবে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, করোনা ছাড়াই ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা হবে। এর পর করোনার কারণে এটি লাখ কোটি ছাড়িয়ে যাবে যা সহজেই বলা যায়।

সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ২১ মার্চ

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে