Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (77 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৮-২০১৩

জলশূন্য ত্রিপুরার রদ্রসাগর, চলছে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা


জলশূন্য ত্রিপুরার রদ্রসাগর, চলছে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা
আগরতলা, ২৮ নভেম্বর-  সামনেই পর্যটন মৌসুম। অথচ জল নেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র রদ্রসাগর তথা নীর মহলের চারপাশে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই রদ্রসাগরের জল শুকিয়ে যাওয়ায় হতাশ নীরমহল দেখতে আসা পর্যটকরা। রদ্রসাগরের এই করুণ অবস্থা নীরমহলের আকর্ষণ কমালেও হাসি ফুটিয়েছে এলাকার কৃষি ও মৎসজীবী পরিবারে।
 
জল কমে যাওয়া সামান্য জমি বাঁধ দিয়ে জল সেচে নিলেই পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান দেশী প্রজাতির জিওল মাছ। কই,মাগুর,শিঙ, লাটি,শইল মাছ ধরার উৎসব চলছে নীরমহলের চারপাশে। জমি শুখালেই শুরু হবে কৃষকদের ব্যস্ততা। আলু,বেগুন,টমেটুতে ভরে উঠবে রদ্রসাগর। কিন্তু যে রদ্রসাগর জাতীয় হ্রদের মর্যাদা লাভ করেছে,যে নীরমহল বিশ্বের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে তা যে দিনের পর দিন সমস্ত আকর্ষণ হারাতে চলেছে, সে দিকে কারোর হেলদোল নেই।
 
কৃষি জমিতে পরিণত হয়ে গেছে রদ্রসাগরের অধিকাংশ এলাকা। শীতের মরশুমে ক্ষণিকের জন্য আনন্দ বিনোদন করতে আসা পিকনিক পার্টির লোকদের পর্যটনের খাতায় লিপিবদ্ধ করে নীরমহলকে রাজ্যের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে দেখানো হচ্ছে। আসলে নীরমহল যে বাস্তবে ভারতের পর্যটন মানচিত্রের বাইরে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক জল প্রাসাদ এবং রাজ্য সরকারের একটি কামধেনু তা হয়তো কেউ স্বীকার করবে না। রদ্রসাগরের উন্নয়নে একের পর মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও রূপ লাবণ্য ফিরছে না তার।
 
মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের আমলে জলের মাঝে মহলটি স্থাপিত বলে এর নামকরণ করা হয় নীরমহল। আজকের দিনে মহলটি নির্মিত হলে তার নাম হত নীর মহল হতো না। কারন যে রদ্রসাগরে নীরমহল নির্মাণ করা হয়েছিল তার মোট আয়তন ছিল সতের বর্গকিলোমিটার। তা কমতে কমতে এসে দাড়িয়েছে পাঁচ দশমিক তিন বর্গ কিলোমিটারে।বর্তমানে তার অবস্থা আরো করুন। রাজ প্রাসাদের সামনে সামান্য এলাকায় জল।
 
রুদ্রসাগরের অধিকাংশ এলাকা শুকিয়ে গেছে নভেম্বরের কুড়ি তারিখের মধ্যেই। কোনো এক সময়ের চোখ ধাঁধানো রোমান্সকর অনুভুতি এখন আর জাগায় না নীর মহল। চারিদিকে জল শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়ে পঁচা আবর্জনার গন্ধ। সামান্য জলে মাছ শিকারে ব্যস্ত পাখীদের কোলাহলে ভাঙ্গে রুদ্রসাগরের সেই নিঃস্তব্ধতা।চারিদিকে শত শত জায়গায় বাঁধ দিয়ে জমির জল সেচে এলাকার  চাষী-মৎসজীবীরা প্রতিদিন ধরছে বিভিন্ন ধরনের জিওল মাছ। কই, মাগুর, শিঙ, লাটি, টেঙরা, খইয়্যা, পুটি, ভেটকিসহ আরো বহু ধরনের জিওল মাছ  অস্তিত্বের সংকটে লুকিয়ে রয়েছে রুদ্রসাগরের জল নেমে যাওয়া জমির কাদাজলে। সুযোগের সদ্ব্যবহার নষ্ট করতে রাজি নয় মৎসজীবীরা। সকাল হতেই মাছ ধরার ব্যস্ততায় দিন কাটায় মৎসজীবীরা।
 
দিন ভর মাছ ধরে কত রোজগার হয়  তা  জানতে চাইতেই বিষাদের সুর । এখন আর সেই দিন নেই রুদ্র সাগরের। জল নেই তো মাছ কিভাবে হবে।বছরের অধিকাংশ সময় জল থাকে না।মাছ তো আর বাতাসে বড় হবে না। সারা দিন পরিশ্রম করে যা পাওয়া যায় তাতে আর সংসার চলে না। লেখাপড়া করেও যখন কাজ পাইনি তখন মাছ ধরা ছাড়া আর কি উপায় আছে বলুন। তাই দিনে কত রোজগার হলো সে হিসাব না করে মাছ ধরেই দিন কাটাই বলে ক্ষোভের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন ল্যাংটা দরগা এলাকার যুবক সঞ্জয় দাস, বিশ্বজীত দাসরা।
 
নীরমহলে জল থাকলে আরো মাছ থাকত, কোনোক্রমে জীবিকা নির্বাহ হতো। এখন সারা দিন মাছ ধরে দৈনিক দুশো টাকা রোজগার করা যায় না বলেও তারা জানায়। তবে জমি শুকিয়ে যাবে কয়েক দিনের মধ্যে। তখন সেখনে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি ফলানো যাবে। কিছু নগদ টাকা হাতে আসবে।বছরে দুবার ধানের চাষ হয়, তাতে বছরের খোঁড়াক হয়, সংসার চলে কোন ক্রমে। নীরমহলে কে এলো, কে এলো না তা ভাবার প্রয়োজন তাদের নেই বলেই তারা জানায়।
 
কিন্তু নীরমহল শুধু এ রাজ্যের গর্ভ তাও তারা মানতে রাজি নয়। এটা ভারতের ঐতিহ্যবাহী একটা বিখ্যাত জায়গা  তাও তাদের  সবার জানা আছে। জীবন জীবিকার প্রশ্নেই তাদের চাষা বাদ, মাছ ধরা বলেও তারা জানায়।পৃথিবীর ঐতিহ্য নীর মহল তথা জাতীয় হ্রদের মর্যাদা পাওয়া রুদ্রসাগরের জলের গভীরতা কমতে কমতে ডাঙ্গায় পরিণত হওয়ার পথে। উদাসীন এ রাজ্যের সরকার, পর্যটন নিগম সহ সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহ। নীরমহল উৎসব, নৌকা বাইচ, মনসা মঙ্গল অনুষ্ঠান করেই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে সরকার তথা জেলা প্রশাসন। নীরমহল উন্নয়নের জন্য আসা কোটি টাকার প্রকল্পের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তার হিসাব নেই কারোর কাছে। চরম উদাসীনতার শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে রুদ্র সাগর তথা নীরমহলের নৌকা বিহারের আকর্ষণ।

 

ত্রিপুরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে