Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৭ মে, ২০২০ , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-১২-২০২০

নিকলী নির্বাচন অফিসের পিয়নের এত ক্ষমতা?

এ টি এম নিজাম


নিকলী নির্বাচন অফিসের পিয়নের এত ক্ষমতা?

কিশোরগঞ্জ, ১২ মার্চ - জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের নামে সাধারণ এলাকাবাসীর কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে শাস্তির উর্ধ্বে থেকে বহাল তবিয়তে রয়েছেন জেলার নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিসের পিয়ন (অফিস সহায়ক) জহরলাল সূত্রধর ।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর কারণে উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই অভিযুক্ত অফিস সহায়ক।

তার ক্ষমতার দাপটের কারণে দৃশ্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন নিকলী উপজেলার নারী নির্বাচন অফিসার নাজমা আক্তার।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অফিস সহায়ক হিসেবে ফিটফাট পোশাক পড়ে নির্বাচন অফিসারের কক্ষের সামনের টোলে বসে গ্রামগঞ্জের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর এ সুযোগে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর নামে লোকজনকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দ্রুত আইডি কার্ড দেয়ার নামে যার কাছে যেমন পারে টাকা হাতিয়ে নেন।

কিন্তু টাকা দিয়েও অবশেষে দিনের পর দিন ঘুরেও তার কাছ থেকে আইডি কার্ড না পেরে এঘাট ওঘাট ঘুরে বেশ ক'জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করে বিচারপ্রার্থী হন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য প্রমাণে ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত শেষে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক জহরলাল সূত্রধরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিকলী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ চিঠির সূত্র ধরে তিনজন অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত অফিস সহায়ক জহরলাল সূত্রধরের উপস্থিতিতে তদন্ত ও শুনানি শেষে আইডি কার্ড প্রদানের নামে নগদ টাকা গ্রহণের বিষয় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

এ পরিস্থিতিতে অফিস সহায়ক জহরলাল সূত্রধরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাজমা আক্তার গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসারকে গোপনীয় প্রতিবেদনসহ চিঠি দেন।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব, ঢাকা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ, নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রদান করেন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের প্রতিবেদন পাঠানোর পরও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক জহরলাল সূত্রধরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে জহরলাল।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার নাজমা আক্তার বলেন, ‘আইডি কার্ড দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা তাকে গত বছরের নভেম্বর মাসে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বদলি করে ক্ষ্যান্ত হন।

কিন্তু অদৃশ্য প্রভাব ব্যবহার করে অফিস সহায়ক জহরলাল সূত্রধর মাত্র এক মাসের মাথায় একই বছরের ডিসেম্বর মাসে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাধ্যমে বদলি হয়ে আবারও সাবেক কর্মস্থল কিশোরগঞ্জের নিকলীর উপজেলা সংলগ্ন বাজিতপুর উপজেলায় বদলি হয়ে এসে ওই কর্মকর্তাকে এখন দেখে নেবে বলে ফোনে হুমকি দিচ্ছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, আমি জেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে মাত্র ক'দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা করবো। এ সময় তিনি খুব শীঘ্রই নিকলী উপজেলা নির্বাচন অফিস সরেজমিন পরিদর্শন এবং এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় যথাযথ ব্যবস্থা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

সুত্র : যুগান্তর
এন এ / ১২ মার্চ

কিশোরগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে