Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ , ৮ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৪-২০১৩

শুদ্ধ কথা বলা নবীর সুন্নত

মাওলানা মুহাম্মাদ মাহমূদুল হাসান


নবুয়তের দায়িত্ব পালন করার জন্য বাগ্মিতা একটি অতি প্রয়োজনীয় গুণ। তাই হজরত মুসা (আ.)কে নবুয়ত দিয়ে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় তিনি নিম্নোক্ত দোয়া করেছিলেন ‘আয় আল্লাহ! আমার জবানের জড়তা দূর করে দাও, যেন লোকে আমার কথা বুঝতে পারে।’ রাসূলুল্লাহ (সা.)কে আল্লাহর তরফ থেকে অবশ্য বাগ্মিতার শক্তি এবং ভাষার ওপর দখল পরিপূর্ণরূপেই দান করা হয়েছিল। আল্লাহর এ নেয়ামতের উল্লেখ করতে গিয়ে কখনও কখনও তিনি বলতেন ‘আমি সর্বাপেক্ষা শুদ্ধভাষী আরব। ভাষার সব মাধুর্য দান করে আমাকে পাঠানো হয়েছে।’


	শুদ্ধ কথা বলা নবীর সুন্নত
নবুয়তের দায়িত্ব পালন করার জন্য বাগ্মিতা একটি অতি প্রয়োজনীয় গুণ। তাই হজরত মুসা (আ.)কে নবুয়ত দিয়ে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় তিনি নিম্নোক্ত দোয়া করেছিলেন ‘আয় আল্লাহ! আমার জবানের জড়তা দূর করে দাও, যেন লোকে আমার কথা বুঝতে পারে।’ রাসূলুল্লাহ (সা.)কে আল্লাহর তরফ থেকে অবশ্য বাগ্মিতার শক্তি এবং ভাষার ওপর দখল পরিপূর্ণরূপেই দান করা হয়েছিল। আল্লাহর এ নেয়ামতের উল্লেখ করতে গিয়ে কখনও কখনও তিনি বলতেন ‘আমি সর্বাপেক্ষা শুদ্ধভাষী আরব। ভাষার সব মাধুর্য দান করে আমাকে পাঠানো হয়েছে।’ (তাবাকাতে ইবনে সাদ)।
 
ভাষার ব্যাপারে আরবের প্রত্যেকটি কবিলাই (গোত্র) অত্যন্ত সচেতন ছিল, কিন্তু তার মধ্যে যে দুটি গোত্রের ভাষা ও বাকরীতি শুদ্ধতম বলে সর্বমহলে স্বীকৃত ছিল, তারা হচ্ছে কোরাইশ এবং বুন হাওয়াজেন। রাসূল (সা.) কোরাইশ বংশেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, আর তার প্রতিপালন হয়েছিল বনু হাওয়াজেন গোত্রে এ তথ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি বলতেন ‘আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা খাঁটি আরব। আমি কোরাইশ গোত্রীয় এবং আমার ভাষা বনি সা’আদের ভাষা।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কথা বলতেন বা বক্তৃতা প্রদান করতেন তখন তাঁর কথা বা ভাষণের শব্দবিন্যাস, ভাষার অলঙ্কার, বর্ণনাভঙ্গি যে কাউকেই বিমোহিত করত। বিশ্বনবী (সা.) এর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হচ্ছে বিদায় হজের ভাষণ। এ খুতবার বিষয়বস্তু ছিল কতগুলো জরুরি আদেশ-নিষেধ এবং কতিপয় মূলনীতির ব্যাখ্যা। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এটা নীরস কতিপয় শব্দসমষ্টি হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দেখা যায়, শব্দবিন্যাস এবং সাবলীল আবেগপূর্ণ বর্ণনাভঙ্গির বিচারে এটিও ছিল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত রসোত্তীর্ণ ভাষণ। একজন উপদেশদানকারী শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রাসূল (সা.) যেসব খুতবা এবং উপদেশ দান করেছেন সেগুলোর ভাষা যদিও ছিল নিতান্ত সহজ-সরল, তথাপি অলঙ্কারগুণ এবং আবেগময়তার দিক দিয়ে অনন্য। রাসূলে করিম (সা.) ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য ও খুতবা অল্পকথায় প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখতেন। আর এটি কারও পক্ষে তখনই সম্ভব যখন কেউ সংশ্লিষ্ট ভাষার ওপর পূর্ণ দখল ও সর্বোচ্চ দক্ষতায় পৌঁছতে পারে। তাই তো রাসূল (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘বুইসতু লিজাওয়ামিল কালিম’। রাসূলে করিম (সা.) এর প্রতিটি কথা এতটাই বিশুদ্ধ ও হৃদয়গ্রাহী ছিল যে, শ্রোতামাত্রই তাতে অভিভূত না হয়ে পারেনি। তিনি কবি ছিলেন না। তবে তাঁর বক্তব্যে নান্দনিক সুরছন্দের ঝঙ্কার ছিল, যা প্রতিটি হৃদয়কে আন্দোলিত করত। যেমন তিনি তাঁর পরিচয় তুলে ধরে একবার বলেছিলেন, ‘আনান্নাবিয়্যু লা কাজিব, আনা ইবনু আবদিল মুত্তালিব।’ শুদ্ধ কথা বলা ব্যক্তিত্বকে উন্নত করে। উন্নত রুচির পরিচয় বহন করে। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, এ ভাষার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের জীবনধারা উন্নত হতে পারে। নবী করিম (সা.) যেহেতু শুদ্ধভাষী ছিলেন, তাই শুদ্ধ কথা বলা নবীজির অন্যতম সুন্নত। দ্বীনের দায়ি, ওলামা, খতিব ও মুবাল্লিগদের ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই শুদ্ধভাষী হতে হবে। অশুদ্ধ উচ্চারণ, অস্পষ্ট কথন, আঞ্চলিকতার প্রভাব অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে