Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০ , ২২ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৬-২০২০

মাঘের কনকনে শীতে খালে পাওয়া সেই নবজাতকের নাম ‘মুজিবুর রহমান’

মাঘের কনকনে শীতে খালে পাওয়া সেই নবজাতকের নাম ‘মুজিবুর রহমান’

কুমিল্লা, ২৭ ফেব্রুয়ারি - জন্মদাত্রী মা ভেবে ছিল রাতের অন্ধকারে জন্ম নেয়া সন্তানকে খালে ফেলে দিলে মৃত্যু ঘটবে নবজাতকের। আবার সারা রাত খালের মধ্যে পড়ে থাকা শিশুটিকে শিয়াল-কুকুর টেনে-হেঁচড়ে ছিঁড়ে খেয়ে চিহ্নটুকু নিশ্চিহ্ন করে দিবে।

‘রাখে আল্লাহ, মারে কে’ মহান স্রষ্টার ওপর অসীম বিশ্বাস স্থাপন করা প্রবাদের ওই উক্তি যেন আবারও প্রমাণ হল। সারা রাত মাঘের কনকনে শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করে আরেক মায়ের কোলে আশ্রয় হয় ফুটফুটে ওই নবজাতকের। কুড়িয়ে পাওয়া ওই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘মুজিবুর রহমান’।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা-টাটেরা গ্রামের একটি খাল থেকে এক ছেলে নবজাতককে উদ্ধার করেছিল মনোয়ারা বেগম নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা।

পরে ওই নবজাতকের দায়িত্ব নেন বাড়েরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. শাহিন আলম।

ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন আলম জানান, আমার ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। তার নাম ফাহমিদা আক্তার সুমা। আমার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ওই শিশুটির নাম রেখেছে ‘মুজিবুর রহমান’।

কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন- স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মেরে ফেলতে অনেক ষড়যন্ত্র করেছিল পাকিস্তানী শত্রুরা। কিন্তু শত চেষ্টা করেও শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারেনি। জাতির পিতা শত বাঁধা উপেক্ষা করে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রু মুক্ত করে দেশের স্বাধীনতা ফেরিয়ে এনেছেন।

আর এক মা সমাজের কলঙ্ক থেকে নিজে মুক্তি নিতে ওই শিশুটিকেও মেরে ফেলার ষড়যন্ত্রে রাতের অন্ধকারে কাঁদা-পানির খালে ফেলে দিয়েছিল। মাঘের কনকন শীতে নির্জন অন্ধকারে পড়ে থাকা ওই শিশুটিও জন্মের পর থেকে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। তাই ওর নাম রাখা হয়েছে ‘মুজিবুর রহমান’। শাহিন আলম আরও জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটিকে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি চান্দিনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেই। ৪-৫ দিন পর সে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শিশু ইউনিটে ১০ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আনি। আল্লাহর রহমতে এখন অনেকটা ভালো আছে মুজিব। শিশু মুজিব-এর সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান ওই ওয়ার্ড মেম্বার।

শিশুটিকে কুড়িয়ে নিয়ে নিজের সন্তানের স্নেহে লালন-পালন করায় স্থানীয় এলাকাবাসী ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন আলমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ২৭ ফেব্রুয়ারি

কুমিল্লা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে