Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-২১-২০১১

কানাডা আওয়ামী লীগ কাহিনী


কানাডা আওয়ামী লীগ কাহিনী
।। দেশে বিদেশে রিপোর্ট।।
জন্মলগ্ন থেকেই কানাডা আওয়ামী লীগে কোন্দল ছিল। সভাপতি কে হবেন এ নিয়ে সংগঠনটি দুইভাগ/তিনভাগ/চারভাগও হয়েছিল। সভাপতি দাবীদার ছিলেন আব্দুল আহাদ, সরওয়ার হোসেন, সৈয়দ ফারুক ও ফারুক হোসেন খান। সেই সময় প্রতিবাদ আর পাল্টা প্রতিবাদে ছিল পত্রিকার পাতা ভরপুর। কে আসল আর কে নকল এটা নিয়ে ছিল লড়াই। ঢাকা থেকে আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় একেক নেতা সফরে আসতেন, আর যার আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন তাকে আশা দিয়ে যেতেন। কিছুদিন পর অন্য নেতা এসে অন্য কারো আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তাকে আশা দিয়ে যেতেন। অনেক বছর এই প্র্যাকটিস চলতে থাকে। আশা-নিরাশায় দুলতে থাকে নেতাদের মন, আর এতে সাধারণ কর্মীরা হয়ে গিয়েছিলো বিভ্রান্ত। ঐ সময়টাতে আওয়ামী লীগ কানাডার কোন কর্মকা-ই ছিল না বলতে গেলে।
অবশেষে ২০০৩ সালে দলনেত্রী টরন্টো সফরকালীন সময় সরওয়ার হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি করে দিয়ে যান। সেদিন ঘটনাক্রমে জনৈক আজিজুর রহমান প্রিন্স সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান। জানা যায়, ঐদিন আওয়ামী লীগের নৈশভোজ স্থলে  তিনি তার ট্যাক্সি ক্যাবে করে একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেয়ার জন্য সেখানে যান। যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন ওখানে আওয়ামী লীগের সভা চলছে এবং দলনেত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে রয়েছেন। যদিও তিনি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না তারপরও উৎসুক হয়ে তিনি রেষ্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকেন এবং কেউ একজন তাকে বসতে বললে তিনি এক কোনায় বসে পড়েন। সেসময় সভাস্থলে চলছিল কমিটি করা নিয়ে চরম হট্টগোল। একজন আরেকজনকে বিষেদাগার করে চলছেন। এক পর্যায়ে নেত্রীকে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরাধ জানানো হলো।  তিনি সরওয়ার হোসেনকে সভাপতি, ফারুক হোসেন খানকে প্রথম সহ-সভাপতি, গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়াকে ২য় সভাপতি এভাবে এক এক করে নাম বলার পরে বললেন- আপনারা একজন সেক্রেটারীর নাম বলেন। তৎক্ষনাৎ  ফারুক হোসেন খান তার প্রতিপক্ষের কেউ যাতে না হতে পারে সে জন্য আজিজুর রহমান প্রিন্সের নাম প্রস্তাব করে বসেন। যেহেতু তিনি সভাপতির দাবীদার হয়ে অনেক তদবীর করেছিলেন সেজন্য দলনেত্রী এ ক্ষেত্রে তার প্রস্তাব আর ফিরিয়ে দিলেন না। উপস্থিত নেতাকর্মীরা আকস্মিক এ ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। কিন্তু নেত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পাননি।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরওয়ার হোসেন প্রায় স্থায়ীভাবে দেশে বসবাস করতে শুরু করেন। তার অবর্তমানে আজিজুর রহমান প্রিন্স নিজেকে একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগেন। তিনি সভাপতিকে অবগত না করেই গঠন করেন আওয়ামী লীগ সিটি কমিটি। দ্বন্দ্বের সূত্রপাত শুরু হয় এখান থেকে। সরওয়ার অভিয়োগ করেন- ‘আজিজুর রহমান প্রিন্স আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করছে, কমিটিতে তার গ্রহণযোগ্যতা নেই, তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি।’
আর প্রিন্সের অভিযোগ হলো- ‘সভাপতি দেশে গিয়ে সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে আর্থিক ফায়দা লুটছেন। কানাডা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অন্যায়ভাবে তিনি বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন এবং সংগঠনের প্রতি তার কোন দায়িত্ববোধ আছে বলে তিনি মনে করেন না।’ এই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘটে কানাডায়। প্রিন্স তার পরিকল্পনা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহচর গোলাপকে সরওয়ারের নানান কেলেঙ্কাকারীর কথা তুলে ধরে তার সাহায্য কামনা করেন। খবরটি প্রধানমন্ত্রীর কানে যথাসময়ে পৌঁছে যায়। তিনি গোলাপকে জিজ্ঞেস করেন সিনিয়র সভাপতি কে? এদিকে ফারুক হোসেন খানের কোন এক অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর পত্রিকান্তরে প্রকাশ পেলে তিনি সামাজিক ভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তিনি সংগঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রিন্সের কাছে চিঠি দেন। গোলাপের প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স তখন গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়ার নাম বলেন। এদিকে ঘটে গেছে আরেক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিতে সুযোগ না দেয়ায় ঐদিন রাতে মাহমুদ মিয়া রাগ করে চলে যান হ্যামিল্টনে। তার রাগ ভাঙাতে আব্দুল আহাদ এবং সরওয়ার মধ্য রাতে হ্যামিল্টনে ছুটে যান এবং তাকে সঙ্গে করে ভোর রাতে টরন্টো ফিরেন। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর রুমে তলব করলেন সবাইকে। তিনি মাহমুদ মিয়াকে তার কাছে বসার আহবান জানিয়ে বললেন, যেহেতু সরওয়ার এখন দেশেই থাকে তাই এখন থেকে আপনি আওয়ামী লীগ কানাডার প্রেসিডেন্ট। জানা যায়, এরকম কিছু ঘটে যাবে কেউ ভাবতে পারেননি। সরওয়ারও আন্দাজ করতে পারেননি। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে তার। এ ষড়যন্ত্র যে প্রিন্স করেছে তা তিনি বুঝতে পারেন। এ সময় তিনি নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মাহমুদ মিয়ার কিছু ছবি তার ক্যামেরায় তুলেন (পরবর্তীতে ছবিগুলো ক্যামেরা থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়ায় তিনি মাহমুদ মিয়াকে আর দিতে পারেননি)। বাংলাদেশে চলে যাওয়ার দিন পর্যন্ত প্রিন্সের সাথে তার আর কথাবার্তা হয়নি। বিমান বন্দরে সরওয়ার মাহমুদ মিয়ার হাত ধরে তাকে অনুরোধ করেন তিনি যেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন এবং তিনমাস পর দেশ থেকে ফিরে এসে মাহমুদ মিয়াকেই সভাপতি করে তিনি কমিটি করে দেবেন।
মাহমুদ মিয়া সরওয়ারের সে অনুরোধ রাখেননি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন না। দিলে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বই দেন।’ দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি তার প্রতিনিধিদের নিয়ে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন এবং জানা যায় সরওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ঐ প্রতিনিধি দলের সাথে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রুমে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কিছুদিন আগে মাহমুদ মিয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। অভিযোগ আছে পুরনো অনেকের স্থান হয়নি এ কমিটিতে এবং নতুন যাদের নেয়া হয়েছে তাদের অনেকে কোনকালে আওয়ামীলীগ করতো না। এ নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে আওয়ামী লীগ মহলে। এদিকে শুরু থেকেই প্রিন্সকে সেক্রেটারী পদে অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তারা নানাভাবে তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন। সর্বশেষ একটি প্রেস রিলিজ এসেছে দেশে বিদেশের পত্রিকা দফতরে। কানাডা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার ভূঞা স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজে বলা হয়- ‘‘গত ১৮ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কানাডা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার মাহমুদ ভূঞা ও অন্টারিও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের নেতৃত্বে কানাডা আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় নেতৃবৃন্দ কানাডা আওয়ামী লীগের কমিটি ভাঙ্গা গড়া নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্সের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন,  সম্প্রতি কানাডা আওয়ামী লীগের কমিটি পুর্নগঠনের নামে পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে এখন এমন সব লোকজন নিয়ে কমিটি করা হয়েছে যারা কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। এমনকি অতীতে যারা বিএনপির রাজনীতির সংযুক্ত ছিল তাদেরকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে অদিষ্ট করা হয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থেকেছেন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এমন লোককে অন্যতম সহ-সভাপতিও বানানো হয়েছে। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকটি ছবিসহ পেপারকাটিং দেখান। এ প্রসঙ্গে তারা আরো বলেন, কানাডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্স খালেদার জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি সংক্রান্ত মামলার সময়, শেখ হাসিনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি না করার পরামর্শ দিয়ে পত্রিকায় কলাম লিখেন এবং এ সংক্রান্ত পেপারকাটিং প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। তারা আরো উল্লেখ করেন, আজিজুর রহমান প্রিন্স কানাডায় মন্ট্রিয়ল শহরে থাকাকালীন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া কানাডা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাহমুদ মিয়ার দায়িত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘তিনি নিজে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বানিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন।’’ এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘মাহমুদ মিয়া কে?’’। জবাবে প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘তিনি একজন হুন্ডী ব্যবসায়ী, তিনি লন্ডনে থাকেন।’’ সবকিছু শুনে প্রধানমন্ত্রী চরম অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করে কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি সরওয়ার হোসেন ও অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুকী হাসানকে ডেকে আনেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছামাফিক যাকে তাকে নিয়ে, কমিটি ভাঙ্গা-গড়ার সুযোগ আওয়ামী লীগের নেই। সরওয়ার বাংলাদেশে থাকে বলে, আমি শুধু সিনিয়র সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিতে বলেছিলাম এবং আওয়ামী লীগের পরীক্ষীত নেতাকর্মীদের নিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলাম।’ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সরওয়ার হোসেন ও ফারুকী হাসানকে সহসা কানাডা গিয়ে যথাযথভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের পরিক্ষীত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কানাডাস্থ আওয়ামী লীগের সবকয়টি কমিটি পুর্নগঠনের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সরওয়ার হোসেন ও ফারুকী হাসান সম্মতি প্রকাশ করেন।’’

এ প্রসঙ্গে দেশ থেকে টেলিফোনে (১৮ ডিসেম্বর) দেশে বিদেশেকে সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি নেত্রীকে বলেছিলাম-যেহেতু আমি দেশে থাকি সেজন্যে কেউ একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে চাই এবং আমিই নেত্রীকে মাহমুদ মিয়ার নাম বলি। সে অনুযায়ী নেত্রী মাহমুদ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছিলেন কিন্তু তিনি ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে নিজেকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে বসেন এবং আমাকে না জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিও করে ফেলেন। যা এখনও অনুমোদন পায়নি। তিনি আমার করা কমিটি থেকে অনেককে বাদ দিয়েছেন এবং অনেক লোক নিয়েছেন যারা কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমিই তাকে টেনে এ পর্যন্ত তুলেছিলাম কিন্তু লোকটি সম্পূর্ণ অকৃতজ্ঞ। এখন যা হবার তাই হয়েছে। নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমি শীঘ্রই কানাডা এসে নতুন কমিটি করে দিবো।’

দেশে বিদেশের পক্ষ থেকে (১৯শে ডিসেম্বর) মাহমুদ মিয়াকে (বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত)  বিষয়টি অবহিত করে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতালোভী নই, আমি প্রেসিডেন্ট হতেও চাইনি। নেত্রী আমাকে বানিয়েছেন তিনি যদি তার মত পরিবর্তন করেন আমি মানতে বাধ্য। আমাকে হুন্ডি ব্যবসায়ী হিসেবে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা যখন সহ-সভাপতি ছিলাম তখন প্রশ্ন উঠলো না কেন?’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরওয়ার হোসেনকে বলে দেবেন কানাডা গিয়ে কমিটি করে দেয়ার জন্য এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। এগুলো বানোয়াট কথাবার্তা।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘সরওয়ার হোসেনকে আমিই পৃষ্ঠপোষকতা করে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি যা সমগ্র মন্ট্রিয়লবাসী জানেন। আমি ১৯৭১ সাল থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। পদ হারিয়ে সরওয়ার আজ আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছেন।, সবাই জানেন ইংল্যান্ডে আমার ১৭টি রেষ্টুরেন্ট আছে, ব্যবসা আছে। আমার আইডিন্টিটি ক্রাইসিস নেই। তার আইডিন্টিটি ক্রাইসিস আছে বলেই তিনি এমন করছেন।’ সভাপতি না ভারপ্রাপ্ত সভাপতি- এ প্রশ্নের উত্তরে মাহমুদ মিয়া বলেন, ‘দলনেত্রী কাউকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেন না। তিনি দিলে সম্পূর্ণ দায়িত্বই দেন। তিনি সকলের সামনেই আমাকে উল্লিখিত দায়িত্ব দিয়েছেন।’ আর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতে গেলে নেত্রীর নির্দেশ তো লাগে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতিই সে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারেন। এবং আগে অনেকবারই আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে কাজ চালিয়েছি। তিনি প্যারিসের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্যারিসের এক সংবধর্না সভায় ঘোষক যখন সরওয়ার হোসেনকে কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষককে ভুল শুধুরিয়ে সাবেক সভাপতি বলতে বলেন। এ ঘটনায় কি স্বাক্ষ্য দেয়?’ তিনি শিগগির বাংলাদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে (১৯শে ডিসেম্বর) আজিজুর রহমান প্রিন্সকে (বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত) তার প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন- ‘আমি এ পদে আর থাকছি না। অতি শীঘ্র আমি অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিচ্ছি।’ তিনি কারো কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।
গত তিনদিন (সোম, মঙ্গল ও বুধবার) কানাডা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মিশ্র মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন, ‘‘কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার মতো যোগ্যতা মাহমুদ মিয়ার নেই। তিনি আওয়ামী লীগ কানাডা কমিটি করতে গিয়ে এটাকে মৌলভীবাজার সমিতি বানিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া তিনি কানাডা থাকেন না, থাকেন ইংল্যান্ডে।’’
আবার কেউ বলেন, ‘‘সরওয়ার হচ্ছেন একজন চরম মিথ্যেবাদী এবং সুবিধাভোগী লোক। তিনি আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকতে আগ্রহী।’’ কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘তিনি তো এই ‘সভাপতি’ নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে লুটের রাজত্ব কায়েম করছেন!’’ মনট্রিয়লে বসবাসকারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত, তিনি বলেন, মূলতঃ সরওয়ার আওয়ামীলীগের নাম ভাঙিয়ে জামায়াতি ইসলামকে সহায়তা করেন। তার কাছে অনেক প্রমাণ আছে দাবী করে তিনি বলেন, একজন লোকের আয়ের কোন উৎস নেই অথচ তিনি  জামায়াতী ইসলামী পরিচালিত মসজিদে কিভাবে ৫ হাজার ডলার দান করেন?
‘‘কানাডায় সরওয়ারের আর কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই’’ দাবী করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনট্রিয়লের শীর্ষ স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, কিছুদিন আগে সরওয়ার মনট্রিয়ল এসে একটি সভা করতে চাইলে কেউ সাড়া দেয়নি। একই ধরনের ঘটনা টরন্টোতেও ঘটেছে বলে জানালেন স্থানীয় আরেক আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, সর্বশেষ সরওয়ার টরন্টো এসে প্রথমে তাকে একটি সংবর্ধনা দেয়ার জন্য নবাগত এক আওয়ামীলীগ নেতাকে অনুরোধ জানান। সেটা সম্ভব হচ্ছে না দেখে তিনি একটি সভার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। কারণ হিসেবে ঐ নেতা বললেন, ‘সরওয়ার যে সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে নিজের আখের গোচাচ্ছে এটা এখন অপেন সিক্রেট। নেতা-কর্মীরা বুঝতে পারছে কাদের জন্য দলের দূর্ণাম হচ্ছে। কাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এজন্যে তাকে এখন সবাই এড়িয়ে চলে।’
যুবলীগের একজন প্রথম সারির নেতা জানালেন, ‘সরওয়ার এবার টরন্টো এসে কোথাও কোন স্থান না পেয়ে তার এলাকা বিয়ানীবাজারের কয়েকজনের সাথে দেখা করেন। পরের সপ্তাহে স্থানীয় পত্রিকায় ‘ঝটিকা সফর’ শিরোনামে ছবিসহ একটি নিউজ ছাপা হয়। তার মনে রাখা উচিত ছিল তিনি কেন্দ্রীয় কোন নেতা নন। এলাকার কোন চেয়ারম্যান মেম্বারও নন। তার বর্তমান পদবী দলের কানাডা শাখার একজন সাধারণ সদস্য। যুবলীগের ঐ নেতা আরও বলেন, ‘সরওয়ারের মতো লোক টরন্টো আসবেন, মনট্রিয়ল যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। মন্ত্রী পর্যায়ের কেউ এলেও তো এ ধরনের নিউজ হয় না।’
‘উল্লিখিত ঘটনায় বুঝা যায় সরওয়ার এখন প্রত্যাখাত’ যোগ করেন স্থানীয় এক পত্রিকার সম্পাদক। সম্প্রতি সরওয়ার হোসেন টরন্টো সফরকালে গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানালে তার আমন্ত্রণ কেউ রাখেননি বলে জানা যায়।

আজিজুর রহমান প্রিন্সের ব্যাপারে বেশিরভাগ লোকের মতামত হচ্ছে নেতিবাচক। অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, প্রিন্স যেখানে গেছে সেখানেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং সংগঠন ভেঙ্গেছে। তিনি বলেন, কানাডার প্রাচীনতম সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডাকে সে তার ইমিগ্রেশন ব্যবসার প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। অ্যাসোসিয়েশনের লেটারহেড ব্যবহার করে সে প্রচুর অর্থ কামিয়েছে। এক পর্যায়ে সংগঠনটির বিলুপ্ত তার হাতেই হয়।’
বিশিষ্ট রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও কানাডা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকবর আলী বলেন, গ্রহণযোগ্য লোককেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা কাজ করে, পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের মূল্যায়ন  না করার ফলে সংগঠনে আজ এ বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো বিশাল সংগঠনে আজিজুর রহমান প্রিন্সের মতো বিতর্কিত লোককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়া ছিল বিরাট ভুল। নতুন কমিটিতেও ঐ একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং এক্ষুনি এটা না শুধরালে এজন্য আওয়ামী লীগারদেরই মাশুল দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রিন্স সিটি কমিটিতে পদ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঢাকা থেকে যে দুইজন প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন তাদের সম্পর্কেও নেতিবাচক মনোভাব স্থানীয় আওয়ামী লীগ মহলে। অনেকেই বলেছেন- যারা অভিযোগ করতে নেত্রীর কাছে গিয়েছে প্রথমতঃ তাদের গ্রহণযোগ্যতাইতো প্রশ্নবিদ্ধ। তারা কোন ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে?’ দলের শীর্ষস্থানীয় বেশিরভাগ নেতা মনে করেন- কারো বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে গেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিকভাবেই আনা উচিত।
(আপনার মতামত জানাতে চাইলে নীচে প্রদত্ত ফরম পুরণ করে লগ ইন করুন এবং বাংলায় আপনার মতামত টাইপ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।)

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে