Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২০ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২১-২০২০

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় হতে পারে সান্ত্বনা, আলোকবর্তিকা নয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় হতে পারে সান্ত্বনা, আলোকবর্তিকা নয়

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি - টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় সব দলই দেশের মাটিতে ‘রাজা’। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ড সব সময়ই ঘরের মাঠে খুব শক্তিশালী। এখনো দুর্দমনীয় দল। ভারতের মাটিতে ভারতীয়দের, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অসিদের, ইংল্যান্ডের উইকেটে ইংলিশদের, দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে প্রোটিয়াদের আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ব্ল্যাক ক্যাপ্সদের হারানো খুব কঠিন।

আগের সেই রমরমা দিন নেই, তারপরও পাকিস্তান এখনো ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর শ্রীলঙ্কাও স্ব-ভুমে দারুণ দল ছিল।

জিম্বাবুয়ে কখনো সেই পর্যায়ে যেতে না পারলেও একেবারে হেলাফেলার দল ছিল না। সেই অ্যান্ডি-গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, স্টুয়ার্ট ব্লিগনট, মারে গুডউইন, হিথ স্ট্রিকদের আমলে হোম সিরিজে জিম্বাবুইয়ানদের ট্র্যাক রেকর্ডও ভালই ছিল।

বাংলাদেশ আসলে কখনোই সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি। টাইগাররা এখনো এমন ইমেজ তৈরি করতে পারেনি। অবস্থা এমন হয়নি যে, বোদ্ধা-বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বলবেন, বাংলাদেশ সত্যিই টেস্টে ঘরের মাঠে ‘বাঘ’। তারপরও দেশের মাটিতে টাইগারদের গড়পড়তা পারফরমেন্স খারাপ নয়। অন্তত বিদেশের তুলনায় খুব না হলেও তুলনামূলক উজ্জ্বল, ভাল।

এটুকু শুনে সমালোচক মহল আর নিন্দুকেরা হয়ত নড়েচড়ে বসতে পারেন। বলতে পারেন, তা কি করে হয়? বাংলাদেশ কি সত্যিই দেশের মাটিতে মন্দের ভাল? বাংলাদেশ যদি ঘরের মাঠে টেস্টে সত্যি ভালই খেলবে, তাহলে আর আফগানিস্তানের মত সদ্যজাত ‘টেস্ট শিশু’র কাছে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে শোচনীয়ভাবে হারতো না।

গত বছর সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানদের কাছে ২২৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। সে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি।

সেই হার ও ব্যর্থতার কথা মেনে আফগানদের কাছে হারকে পাশ না কাটিয়েও বলা যায়, সামগ্রিকভাবে দেশের মাটিতে অনুকুল পরিবেশ, চেনা-জানা ও অভ্যস্ত মাঠ- উইকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের টেস্ট পরিসংখ্যান মন্দ নয়।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিদেশের মাটিতে প্রতিনিয়ত নাস্তানাবুদ হলেও ঘরের মাঠে টাইগারদের কিছু বড় দলকে হারানোর রেকর্ডও আছে। ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি ও টেস্টের ভীষণ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডও বাংলাদেশের মাটিতে এসে টাইগারদের সাথে পারেনি। হেরে গেছে। ওই দুই পরাশক্তির বিপক্ষে একটি করে টেস্ট জয়ের অসামান্য কৃতিত্ব আছে বাংলাদেশের।

এছাড়া দেশের মাটিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে বীরের মত লড়াই করে টেস্ট ড্র করার রেকর্ডও আছে। এ কারণেই বলা, দেশের মাটিতেও টাইগারদের টেস্ট পারফরম্যান্স এবং অর্জন একদম খারাপ নয়। তবে তা নিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলারও কিছু নেই। ঘরের মাঠে ভাল খেলা আর জয়ের রেকর্ড বেশি প্রায় সব দলেরই।

ক্রিকেট বিশ্বের অনেক দলেরই দেশের বাইরের পারফরমেন্স অনুজ্জ্বল। অর্জন-প্রাপ্তির ভাণ্ডার শূন্য। তবে দেশের মাটিতে সাফল্য বেশি। বাংলাদেশকে ওই কাতারে ফেলা যায় কি না? সেটাই প্রশ্ন। কারণ, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে একবার করে হারানো ছাড়া সে অর্থে বড় সাফল্যও নেই তেমন। দেশের মাটিতে টাইগারদের টেস্ট সাফল্য মানেই হলো জিম্বাবুয়েকে হারানো।

ইতিহাস জানাচ্ছে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে টাইগারদের সাফল্য আকাশছোয়া।

জিম্বাবুয়ানদের সাথে মোট ৮ টি সিরিজ হয়েছে টাইগারদের। যার মধ্যে জিম্বাবুয়ে জিতেছে চার সিরিজ। বাংলাদেশের জয় দুটিতে। আর দুটি সিরিজ অমিমাংসিত থেকে গেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে নভেম্বরে হওয়া দুই দেশের সর্বশেষ দুই টেস্টের সিরিজও ১ Ñ ১ ‘এ ড্র থেকে গেছে।

সেবার সিলেটে হওয়া প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ে ১৫১ রানে জিতলেও ঢাকার শেরে বাংলায় পরের টেস্টে বাংলাদেশ ২১৮ রানের বড় জয়ে সমতা ফিরিয়ে আনে।

এছাড়া টেস্ট জয়-পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ সিরিজের ১৬ টেস্টে বাংলাদেশের জয় সংখ্যা ৬। আর জিম্বাবুয়ে জিতেছে ৭ টিতে। তিনটি টেস্ট ড্র থেকে গেছে। যার দুটি জিম্বাবুয়েতে। আর একটি বাংলাদেশে।

দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি। টাইগাররা জিম্বাবুয়ানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলেছে চারটি সিরিজ। যেখানে ম্যাচ ছিল ৭টি। যাতে বাংলাদেশের জয় ৫টিতে। যার প্রথমটি আসে ২০০৫ সালের ৬-১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ২২৬ রানে।

শুধু ২০১৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে টাইগাররা (ঢাকার শেরে বাংলায় ৩ উইকেট, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ১৬২ রানে আর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৮৬ রানে হারায়)। আর ২০১৮ সালের নভেম্বরে দুই দেশের সর্বশেষ সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত থেকে গেছে।

পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে, ১১৫ টেস্টে বাংলাদেশের জয় মোটে ১৩টিতে। এর ৬টি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাকি ৭টি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। মোটকথা পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মাটিতে টেস্টে জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশের ট্র্যাক রেকর্ড সবচেয়ে ভাল।

তাতে কি? প্রশ্ন উঠেছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে টাইগারদের রেকর্ড যত সমৃদ্ধই হোক না কেন, টেস্ট রেটিং ও র্যাংকিংয়ে সবার নিচে থাকা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জেতাটাই কি সব? ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ডেকে এনে বলে-কয়ে হারনোর মাঝে এখন আর কি এমন কৃতিত্ব আছে? সেটা কি বড়সড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে?

ধরা যাক, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার মিরপুরের শেরে বাংলায় যে টেস্ট শুরু, তাতে বাংলাদেশ বড় জয় পেল। তাতে কি হবে? ওই জয়ে কি দেশে ও বাইরে আগের সর্বশেষ টানা ৬ টেস্টে চরম অনুজ্জ্বল, শ্রীহীন পারফরমেন্স ও শোচনীয় পরাজয়ের কালিমা মুছবে? বাংলাদেশ কি আবার জাতে উঠবে?

হ্যাঁ, সেটা জিম্বাবুয়ে না হয়ে কোন বড় দল ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ড হলে তবু কথা ছিল। সেখানে জিম্বাবুয়ে- এখন সময়ের সবচেয়ে দূর্বল, কমজোরি দল। আফগানিস্তানেরও নিচে। সেই দলের সাথে দেশের মাটিতে আগের পরিসংখ্যান যাই থাকুক, এখন জিম্বাবুয়েকে হারানো কোনোই অর্জন বা বড় প্রাপ্তি হিসেবে পরিগণিত হবে না।

হ্যাঁ, জয়তো জয়ই। সেটা সাফল্য হবে অবশ্যই। তবে সেটা কোন অর্জন বা বড় প্রাপ্তি বলে গণ্য হবে না। হবার কথাও নয়। কারণ, ওপরে যে দলগুলোর কথা বলা হলো, তাদের সাথে জিম্বাবুয়ের কোন তুলনা চলে না। শক্তি, সামর্থ্য, ঐতিহ্য, অবস্থান কোন কিছুতেই নয়। এখন সেই দলকে দেশের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘কচি মুরগির’ মত খাওয়ার মধ্যে সে অর্থে কোন কৃতিত্ব থাকবে না।

তাইতো অনেকের মনে প্রশ্ন তাহলে জিম্বাবুয়েকে বার বার নিয়ে আসা কেন? সেটা কি ব্যর্থতার বৃত্ত ভেদ করে বেরিয়ে আবার জয়ের পথে আসার কথা চিন্তা করে? ভারত, পাকিস্তানের মাটিতে টেস্টে চরমভাবে পর্যদুস্ত হয়েছি। পরপর তিন টেস্টে ইনিংস পরাজয় থেকেছে সঙ্গী হয়ে। এবার সেই না পারা ও পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। এখন জয় প্রয়োজন। জিম্বাবুয়ে হতে পারে সেই দল, যাকে হারিয়ে আবার জয়ের পথে হাঁটা সম্ভব।

এমন ভেবেই কি জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনের চিন্তা? এ প্রশ্ন অনেকের মুখেই। কিংবা এটা কি শুভঙ্করের ফাঁকি নয়? ধরা যাক, শেরে বাংলায় জিম্বাবুয়েকে টেস্টে তুলোধুনো করলো মুমিনুলের দল। তামিম, সাইফ, মুমিনুল , মুশফিকদের কেউ বা দুজন সেঞ্চুরি হাঁকালেন। আবু জায়েদ রাহী কিংবা তাইজুল ইসলামদের কেউ ম্যাচে ১০ উইকেটও শিকার করে বসলেন, তাতে কি হবে? টাইগাররা সবাই টেস্টে বড় তারকা বনে যাবেন?

কোন ভাবেই না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ট্রিপল- ডাবল সেঞ্চুরি আর ৫ উইকেট শিকারের মত বড় ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ইনিংস জয়ের স্বাদ পেলেও কিন্তু টেস্টে বাংলাদেশের গায়ে যে কালো দাগ পড়ে গেছে তা উঠবে না।

সবাই জেনে ও বুঝে গেছেন, বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ওই স্লো-লো উইকেটে দু’তিনজন স্পিনার নিয়ে জিম্বাবুয়ের মত স্পিনে অদক্ষ দলকে আগেও প্রায় বলে-কয়ে হারিয়েছে। সাকিব-তাইজুলরা বল হাতে জিম্বাবুইয়ানদের মাথা ঘুরিয়ে ছেড়েছেন।

কিন্তু সেটা ওই ঘরের মাঠেই। বিদেশে গিয়ে সব জারি জুরি শেষ হয়ে যায়। এইতো সেদিন পাকিস্তানে গিয়েও ইনিংস পরাজয়ে দেশে ফিরেছেন তামিম, সাইফ, মুমিনুল, রিয়াদরা। তাই জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলেও আগের ব্যর্থতা ধুয়ে মুছে যাবে না। টানা হার আর ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আবার জয়ের দেখাই হয়ত মিলবে। সে জয় সান্তনার প্রলেপ থাকতে পারে। কিন্তু কোন ভাবেই সেটা আশার প্রদীপ বা আলোকর্তিকা হতে পারে না।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২২ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে