Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ , ২৫ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৯-২০২০

বারে গিয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রমৈত্রী নেতার মাস্তানি!

বারে গিয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রমৈত্রী নেতার মাস্তানি!

রাজশাহী, ২০ ফেব্রুয়ারি - রাজশাহীতে পর্যটন মোটেলের বারে মদ খেতে গিয়ে মাস্তানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রী নেতার বিরুদ্ধে।

সোমবার দিবাগত গভীর রাতে তারা মাতাল হয়ে খদ্দেরকে গালাগাল ও বারে ভাঙচুর চালান। পরে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ মাতাল অবস্থায় ওই দুই ছাত্রনেতাসহ চারজনকে আটক করে।

তারা হলেন, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার একতার হোসেনের ছেলে জনি এবং নগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ও নগরীর উপরভদ্রা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে জুয়েল। এদের মধ্যে জুয়েলের মদ্যপানের লাইসেন্স রয়েছে।

এ ঘটনায় এ দুই ছাত্রনেতার দুই সহযোগীকেও ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ আটক করেছে। তারা হলেন, নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে জসিম ও একই এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে তারেক। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে একটি মহল। কিন্তু বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

রাজপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় রাজশাহী পর্যটন মোটেলে মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জনি এবং মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জুয়েল মদ্যপান করতে যান। এক লাইসেন্সে দুই দলের দুই নেতা মদ্যপান করেন। এরপর তারা মাতাল হয়ে অপর এক খদ্দেরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় বারের কর্মচারীরা তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে ওই খদ্দের বার থেকে চলে যান। তখন এ দুই নেতা মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। কিন্তু ধরতে না পেরে তারা বারের কর্মচারীদের ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন।

এ সময় ওই দুই নেতা বলেন, বারের কর্মচারীদের কারণেই বাইরের লোকেরা তাদের মুখের ওপর কথা বলে চলে যেতে পেরেছেন। এরপর ওই দুই নেতা ক্ষোভে বারের কর্মচারীদের ওপরে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে তারাও সরে পড়েন। তখন এ নেতারা ফোন করে আরও ১০-১২ জন কর্মীকে ডেকে আনেন। তারা এসে একযোগে বারের দরজা জানালা ও মদপানের গ্লাস ভাঙচুর করতে শুরু করেন।

বিপদ বুঝতে পেরে বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক নিকটবর্তী রাজপাড়া থানায় ফোন করেন। কিন্তু পুলিশ ফোন ধরতে দেরি করায় তিনি সরাসরি রাজপাড়া থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই নেতাসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওই থানায় দুটি মামলা করেন। একটি মামলা মদপান করে মাতলামি করার অভিযোগে মাদকদ্রব্য আইনে এবং অপরটি ভাঙচুর করার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব বলেন, জনি তাদের সহ-সভাপতি। এর আগেও তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে।

ছাত্রমৈত্রীর মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রমৈত্রীর মহানগর শাখার সভাপতির মাতলামির ঘটনাটি আমি শুনেছি। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এটা জাতির জন্যও দুঃখজনক।

লাইসেন্স ছাড়াই ছাত্রলীগের নেতা কীভাবে মদপান করলেন জানতে চাইলে বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, লাইসেন্সধারী একজন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মদপান করতে পারেন।

তবে রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, বারে গিয়ে মদপান করতে হলে প্রত্যেকেরই ‘পারমিট’ থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানা পুলিশের ওসি শাহাদাত হোসেন খান জানান, তারা দুই নেতার পরিচয় জানতে পেরেছেন। অন্যদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে পারেননি। দুটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২০ ফেব্রুয়ারি

রাজশাহী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে