Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০ , ১৯ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৯-২০২০

৫ ভুলে ঝুলে গেল খালেদার মুক্তি

৫ ভুলে ঝুলে গেল খালেদার মুক্তি

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি- বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের শুনানি হবে আগামী রোববার। এর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যত মুক্তির পথ আবার রুদ্ধ হয়ে গেলো। কারণ এই জামিন আবেদনের বিরোধিতা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন যে এটি সরকারের মামলা নয়, এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা। কাজেই আমরা এই জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করবো। আমরা মনে করি যে আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর নতুন করে এই জামিনের আবেদন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টেও যদি আগামী রোববার শুনানির পরে খালেদা জিয়ার জামিন দেয় তাহলে পরেও এই জামিনের বিষয়টি আপিল বিভাগে যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত খালেদার মুক্তি হবে না। শুধুমাত্র জিয়া চ্যারিটেবল মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেও খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে।

কাজেই আবার আইনি লড়াইয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথকে বাধাগ্রস্ত করছে বিএনপি, এমনটাই মনে করছেন বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা। সে কারণেই বিএনপি মনে করছে যে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে ভুলেভরা সিদ্ধান্তের জন্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন আবার অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে যে ভুলগুলো হয়েছে, তার মধ্যে-

১. আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা: খালেদা জিয়ার মুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত হচ্ছে আইনি পথে তাকে মুক্তির চেষ্টা। মনে রাখতে হবে খালেদা জিয়া দুটি মামলাতেই নিম্ন আদালত থেকে দণ্ডিত। একটি মামলায় হাইকোর্ট তার দণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছে। এরকম বাস্তবতায় আইনি পথে খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তি প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তবতাকে বিএনপির আইনজীবীরা এবং নেতৃবৃন্দ অনুধাবন করতে পারছেন না।

২. আইনজীবীদের ভুল কৌশল: বিএনপির আইনজীবীরা এই জামিনের বিষয় নিয়ে ভুল কৌশল অবলম্বন করছেন। তারা শুরুতেই বলেছেন যে, জামিন পেলে বিদেশে যাবেন। বিদেশে যাবার জন্য কোন জামিন দেয়া হয়না। বিশেষ করে যেখানে বলা হয়েছে যে ‘অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট’। বাংলাদেশেই অনেক জায়গায় অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট রয়েছে এবং সম্ভব হয়েছে। যদি তারা জামিন আবেদনে বলতেন যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন প্রয়োজন, তাহলে সেটা বিবেচনা করা যেত, কিন্তু বিদেশে যাবার জন্য জামিন মঞ্জুরের প্রথা চালু হলে অন্য সব দণ্ডিত আসামীরাই  স্বাস্থ্যগত কারণে হাইকোর্টে আপিল করবে এবং জামিন নিয়ে বিদেশে চলে যাবে। তাহলে ন্যায়বিচার এবং দণ্ডিতর সাজা ভোগের যে বিধানটা সুদূর পরাহত হবে। কাজেই এমন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জামিনের নির্দেশনা আদৌ হাইকোর্ট দেবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। এটাও বিএনপির একটি ভুল কৌশল।

৩. পরিবারের সিদ্ধান্তহীনতা: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তার পরিবার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। তারা সকলে মনে করছেন, যেভাবেই হোক মুক্তিটাই হলো আসল এবং খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য সবকিছুই করণীয় দরকার এবং বেগম খালেদা জিয়া তাদেরকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেটা তারা শোনেননি। পরিবারের এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই আবার আইনি প্রক্রিয়ায় যাবার সুযোগ পেয়েছে বিএনপি এবং যেটার ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সুদূর পরাহত হলো। 

৪. সরকারের সঙ্গে দরকষাকষিতে ব্যর্থতা: বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একটাই পথে খোলা আছে। আর সেটি হলো সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করে। সরকারের কাছে আবেদন করে প্যারোলো মুক্তি নেওয়া। কিন্তু এটা করতে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা এবং শীর্ষ স্থানীয় নেতার ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের সেই বার্গেনিং পাওয়ার তারা দেখাতে পারেনি।

৫. অগ্রাধিকার নির্ণয়ে ব্যর্থতা: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, উপ নির্বাচন নাকি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান কোন পথে যাবে বিএনপি তা নিয়ে দলটি নিজেরাই অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারেছে না। আর এই অগ্রাধিকার যদি ঠিক করতে না পারে তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তি কখনোই হবে না বলে বিএনপি নেতারা।

বিএনপির অনেক নেতাই বলেন, বিএনপির এখন সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য চেষ্টা করা উচিত এবং সব ধরনের পথগুলোকে ব্যবহার করা উচিত। বিএনপি নেতারা তা পারছে না। তাদের কাছে অনেকগুলো অগ্রাধিকার একের পর এক প্রধান্য পাচ্ছে। যে কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সুদূর পরাহত হয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এন কে / ১৯ ফেব্রুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে