Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ১৯ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৫-২০২০

কোয়ারেনটাইন শেষে চীন ফেরতরা বাড়ি ফিরল

কোয়ারেনটাইন শেষে চীন ফেরতরা বাড়ি ফিরল

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি - প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এড়াতে চীনের হুবেইপ্রদেশের উহান শহর থেকে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশির কোয়ারেনটাইন পিরিয়ড গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় পূর্ণ হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্য কার্যক্রম শেষে তাদের মধ্যে ২০০ জনকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিলিজ দেওয়া হয়। বাকি ১১২ জন আজ রবিবার সকালে ছাড় পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। দেশে ফেরার পর দুই সপ্তাহের জন্য তাদের আশকোনার হজক্যাম্পে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে কোয়ারেনটাইন অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি উহান থেকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ৩১২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এর পর তাদের আটজনের মধ্যে সর্দি-জ্বর থাকায় ভর্তি করা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। বাকিদের ১৪ দিনের জন্য রাখা হয় হজক্যাম্পে স্থাপিত কোয়ারেনটাইনে। সময়সীমা শেষ হওয়ায় তাদের রিলিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার বিকাল থেকে তাদের স্ক্রিনিং শুরু করা হয়। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে রাত প্রায় ৮টা বেজে যায়। এর পর ২০০ জনকে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে তাদের হজক্যাম্প থেকে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও সদরঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে কয়েকজনকে হজক্যাম্পের সামনে অবস্থান করা স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৯টার দিকে বিআরটিসির তিনটি এসি বাস হজক্যাম্পে প্রবেশ করে। তবে গেটে পাহারারত সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীদের সদস্যরা স্বজনদের প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই অনেকে গেটে অবস্থা করতে থাকেন প্রিয়জনের অপেক্ষায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাগেজ হাতে হজক্যাম্পের পূর্ব পাশের গেট দিয়ে বেরিয়ে আসেন নড়াইলের শামীম হাসান। ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন মাকে, তখন দুজনের চোখ বেয়েই গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু।

শামীমের মা বলেন- ‘ছেলে আমার সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসায় আমি আনন্দিত, অত্যন্ত খুশি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনায় তাকে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ ওনাকে সুস্থ রাখুন।’

জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘চীনে পরিবার ছেড়েই ছিলাম। দেশে ফিরলেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি, এটি ছিল খুবই কষ্টদায়ক। কী আর করব, সব মেনে নিতে হয়েছে। কারণ আমরা চাইনি- আমাদের কারও যদি সমস্যা থেকে থাকে তার মাধ্যমে আশপাশের মানুষ আক্রান্ত হোক। আমরাই চেয়েছি, কিছুদিন এখানে থেকে যাই; আমাদের ওপর একটি কনফিডেন্স আসুক- আমরা সুস্থ আছি। দেশের মানুষ আমাদের সুন্দরভাবে গ্রহণ করুক। করোনা ভাইরাস যতটা ভয়ঙ্কর তার থেকে আতঙ্ক বেশি। আমরা এখানে যারা ছিলাম সবাই সুস্থ। তাই সবাইকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের অবস্থা এখন খুব খরাপ। এখনো যারা সেখানে আছেন, তাদের দিনগুলো খুবই কষ্টে যাচ্ছে। তাদের প্রতিটি মিনিট যে কীভাবে যাচ্ছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আহ্বান থাকবে- তাদেরকেও যেন তাড়াতাড়ি আনার ব্যবস্থা করেন।’

উহানের একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া ছোট ভাই মামুনুর রশীদকে নিতে এসেছিলেন বোন সেলিনা আক্তার। তাদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাইকে হজক্যাম্পে কোয়ারেনটাইন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। চীন থেকে ফেরার পর তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, দেখা হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আমার ভাই ছাদে উঠেছিল। তখন আমরা বিমানবন্দরের পাশে রেললাইনে দাঁড়িয়ে দূরবীন দিয়ে তাকে দেখেছি। এখন তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।’

সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত আরেক বাংলাদেশি : সিঙ্গাপুরে আরও এক বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী ৫ বাংলাদেশি মরণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল আরও পাঁচ ব্যক্তি নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিও রয়েছেন। ওয়ার্ক পাস নিয়ে কর্মরত ওই তরুণ কখনই চীনে যাননি। তবে ওই বাংলাদেশির আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ নিয়ে গতকাল দুপুরে রাজধানীর আইইডিসিআর কার্যালয়ে ব্রিফ করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, উহান থেকে আসা ৩১২ জনের কারও মধ্যে কভিড ১৯-এর কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। তার পরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। সেই সঙ্গে বাড়ি ফেরার পরও অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী করণীয় কী হবে, সে সম্পর্কেও বলা হয় তাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন আইসিইউতে ও বাকিরা আইসোলেশনে আছেন। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সব যাত্রীকে বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৫৮২ জনের স্ক্রিনিং হয়েছে।’

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ১৬ ফেব্রুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে