Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ , ১৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৫-২০২০

যে প্রেম প্রস্ফুটিত হয়নি

যে প্রেম প্রস্ফুটিত হয়নি

কিছু ভালোবাসার গল্প নিজেরাই প্রকাশ করে। কিছু গল্প কোন না কোনভাবে ফাঁস হয়ে যায়। কিছু গল্প জানাজানির আগেই নেই হয়ে যায়। ভালোবাসার গল্প বললে শোবিজ অঙ্গনে এমন কয়েকটি সম্পর্কের কথাই বলা যায়, যা এক কান দু কান হয়ে প্রকাশ পেলেও তা ‘প্রস্ফুটিত’ হয়নি, ডালপালা মেলেনি। ধুম করে এসেছে, চুপ করে নেই হয়ে গেছে। আড়ালে আবডালের সেসব ভালোবাসা নিয়েই আজকের আয়োজন:

আফসানা মিমি- আজম রেজা
আফসানা মিমি একসময়ের টেলিভিশনের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী। পরবর্তীতে তিনি নাটক পরিচালনা শুরু করেন। ডিভোর্সের নিউজ হলে সবাই টেনে আনেন আফসানা মিমি- গাজী রাকায়েতের খবর। কিন্তু এ যুগের অনেকেই জানেন না, আফসানা মিমি- আজম রেজার খবর। আজম রেজা প্রখ্যাত অভিনেত্রী শম্পা রেজার ভাই। ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে আজম রেজার স্ত্রী জয়ন্তী রেজা হত্যাকান্ডে আফসানা মিমির সাথে আজম রেজার অবৈধ সম্পর্ক প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসলে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়। অবশ্য, শেষ পর্যন্ত আজম রেজা দোষী প্রমাণিত হয়ে মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত হলেও (পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দন্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) আফসানা মিমিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, মিসেস লুসিল সাদেকিন (জয়ন্তী মুন্সীর মা) বাদী হয়ে ২০০৪ সালের ১০ জানুয়ারি গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি আজম রেজার সঙ্গে অভিনেত্রী আফসানা মিমির অবৈধ সম্পর্ক ছিল। স্ত্রী জয়ন্তি মুন্সী (বাদীর মেয়ে) এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আজম রেজা তাকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের ৮ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে পরদিন বেলা ১১টার পূর্বে যে কোনো সময় আসামির বনানীস্থ নিজস্ব ফ্ল্যাটে স্ত্রী জয়ন্তি মুন্সীকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে জয়ন্তির মৃত্যু হয়। আসামি ঠাণ্ডা মাথায় এ হত্যা করে পররর্তী সময়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর লক্ষ্যে মৃত জয়ন্তির গলায় ফাঁস দিয়ে ক্ষতচিহ্ন সৃষ্টি এবং হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৪ সালের ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামি আজম রেজার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণীত হওয়ায় ২০০৫ সালের ১৭ জানুয়রি তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। পরবর্তীকালে আসামি পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করলে ২০০৮ সালের ২১ জুলাই নিম্ন আদালতের দেয়া রায় রহিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আজম রেজা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রয়েছেন।

অপূর্ব- তিশা
এক সময়কার জনপ্রিয় জুটি অপূর্ব- তিশা। কিন্তু আপনি কী জানেন? দীর্ঘ ১৫ বছর তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেন না। এর কারণ কী? তিশা জানান, ‘২০০৫ সালের দিকে একসঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি আমরা। বলতে গেলে মাসের ২৫ দিন একসঙ্গে অভিনয় করেছি। তখনই আমাদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, আমি জানতে পারলাম এ গুজব অপূর্বই ছড়ায়। এ কান ও কান করে। কারণ সে মনে মনে আমাকে ভালবাসতো। আর আমার সম্পর্ক ছিল ফারুকীর সঙ্গে।’

তিনি আরো বলেন,‘তাকে আমি এসব বন্ধ করতে বলেছি। কয়েকবার বলেছিও এসব বন্ধ করো না হয় একসঙ্গে অভিনয় করবো না। পরবর্তীতে নিজে থেকেই আর অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেই।’

তিশা বলেন,‘পরবর্তীতে অবশ্য সজলের সঙ্গেও এমন প্রেমের গুজব রটেছিল। বাস্তবিক সে আমার বড় ভাইয়ের মত।’

ফারিয়া শাহরিন- তামিম- পরী
সাংবাদিক তামিমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফারিয়া শাহরিন-পরীমনির বাকযুদ্ধ চলছিল। কে কাকে কতটা ঘায়েল করতে পারে তা নিয়েই চলেছে প্রতিযোগিতা। শুরুটা হয়েছিল পরী মনির তরফ থেকে। এরপর ফারিয়াও একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে চলেছেন পরী মনির বিরুদ্ধে।

ফারিয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরী মনিকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, ‘শুনেন আফা, বিয়ে করছেন সেগুনবাগিচায় থাকেন ( বর্তমানে বনানী বি৪) সেগুন বাগিচাতেও সংসার করছেন লুকিয়ে) প্লিজ অন্য আর তিনটি জামাইর মতন এই বদমাইশটাকেও তালাক দিয়েন না। বিয়া করছেন বাচ্চা ফুটান। সিনেমা করেন, ভাত খান। এই বদমাইশটাকে ছারলে আবার একটা মেয়ের লাইফ বরবাদ করবে। আমার মতন বিগশটের মেয়েকে ফাঁসানোর চেষ্টা করবে, আবার, টাকা খাবে। আপনি পারফেক্ট তার জন্য।আপনি তো বাচ্চা কাল থেকেই....ছাল বাকল নাই। শুনেন আপনাকে দেখে খুব শান্তি পাই। কারণ আপনাকে বিয়া করা ঐ বদমাইশ এর জন্য সবচেয়ে সেরা শাস্তি। কারণ পুরা দুনিয়া জানে আপনি কি! বিবাহিত জীবন সুখের হোক।আমিন।’ পরীমণির সঙ্গে তামিমের সম্পর্কও নীরবে শেষ হয়ে যায়।

মৌসুমী হামিদ
মৌসুমী হামিদের দুই বছরের  একটা সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, ‘ওটা ছিল আমার প্রথম প্রেম। তাই অনেক বেশি সিরিয়াস ছিলাম। ২০১৩-তে ব্রেকআপ হয়। খুব বাজেভাবে সম্পর্কটা শেষ করেছি। ও এমন কিছু কাজ করেছে, ব্রেকআপ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। প্রথম দিকে ও আমার বেশ ভালো টেক কেয়ার করত। যে কারণে ওর প্রতারণার বিষয়টা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। পরে যখন ওকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছি, আর সহ্য করতে পারিনি। ও সম্পর্কের ব্যাপারে সৎ ছিল না। অন্য মেয়েদের সঙ্গে আমার অজান্তে যোগাযোগ করত। একপর্যায়ে তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।’

আরেকটা ব্যাপার বলেন সেই ছেলের সম্পর্কে, ‘২০১৩ সালে আমি একটা দুর্ঘটনায় পড়ি। তখনই মূল সমস্যাটা শুরু হয়। ও হয়তো ভেবেছে, আমি শেষ হয়ে যাব। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার—কোনো মাধ্যমেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। আমার সঙ্গে যোগাযোগ কমাতে থাকে। আমিও খবর পাই, অন্য মেয়েদের সঙ্গে ওর সম্পর্কের খুঁটিনাটি। একটা সময় কথাগুলো আর নিজের কাছে রাখতে পারিনি। সরাসরি ওকে জিজ্ঞেস করি। ও কোনো উত্তর দিতে পারেনি। কারণ ওর কাছে আসলে কোনো উত্তর ছিল না। সেদিনই ওর সঙ্গে আমার শেষ কথা।’

কিছু স্মৃতি এখনো রয়ে গেছে, ‘তবে ওর সঙ্গে আমি সব সময় খারাপ সময় কাটিয়েছি, তা নয়; অনেক ভালো স্মৃতিও আছে, যা কখনো ভোলার নয়। যেমন—ওর সঙ্গেই প্রথম কক্সবাজারে গেছি। এ রকম নানা স্মৃতি আছে, যেগুলো কখনো ভুলতে পারব না।’ বললেন মৌসুমী হামিদ।

মিথিলা-ফাহমি
পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার ব্যক্তিগত একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তোলপাড়ও হয়েছে ফেসবুকে। অনেকে তীর্যক মন্তব্যে আঘাত করছেন মিথিলাকে। মিথিলার সঙ্গে ফাহমির এই সম্পর্কের খবর ছবি পর্যন্তই ছিল। বাস্তবে অনেকেই জানতেন না তাদের প্রেমের খবর। শোবিজে কানাঘুষা থাকলেও হুট করে ছবি প্রকাশ পাওয়াতে তাদের প্রেমও প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু মিথিলা সৃজিতকে বিয়ে করেলে ফাহমির প্রেম আড়ালেই পড়ে যায়।

শাকিল খান- পপি
একসময়কার জনপ্রিয় জুটি শাকিল খান- পপি যে বিয়ে করেছিল এমন খবরও জোড়ালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। পপিও বলেছিল তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু শাকিল খান একটা সময় সিনেমা ছেড়ে দেন। পপিরও জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। এই জুটির আসলেই কতটা গভীর প্রেম ছিল নাকি বিয়ে ছিল সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোন বার্তা কখনোই তারা দেননি।

সালমান শাহ- শাবনুর
সালমান শাহ- শাবনুর জুটি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। একসঙ্গে ছবি করলে গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু তাদের নিয়ে গুঞ্জন একটু বেশিই উঠেছিল। এমনকি সালমান শাহর স্ত্রীও একাধিকবার শাবনুরকে নিয়ে কথা বলেছেন। তবে সেসব সম্পর্ক সবই আড়াল হয়ে যায় সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তখন চলচ্চিত্র পাড়ায় গুঞ্জন ছিল যে, এ দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সালমানের রহস্যময় মৃত্যুর পর বলা হয়, শাবনূরের সঙ্গে প্রেম গভীর হওয়ায় স্ত্রী সালমানকে খুনি করিয়েছে। যে প্রেমের সত্যতা আসলে কখনোই জানা যাবে কিনা সন্দেহ।

রিয়াজ- পূর্ণিমা
একাধিকবার গুজব রটেছিল রিয়াজ-শাবনূর গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তা সত্য প্রমাণ মেলেনি। হঠাৎ রিয়াজ- শাবনুর জুটি ভেঙ্গে গেল। পূর্ণিমার সঙ্গে জুটি হয়ে কাজ শুরু করলেন রিয়াজ। কিন্তু এই সময় ডুবে-ডুবে পূর্ণিমার সঙ্গেও অত্যান্ত গোপনে এবং সর্তক ভাবে হৃদয় ঘটিত সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রিয়াজ-পূর্ণিমার গোপন প্রেম, গোপন বিশেষ সম্পর্ক গোপন থাকেনি। বিষয়টি জানা জানি হয়ে যাওয়ার পরেই শাবনূরের সঙ্গে পূর্ণিমার ব্যাক্তিগত সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এমনিতেই শাবনূরের সঙ্গে পূর্ণিমার পেশাগত দ্বন্দ্ব ছিল। এরপর প্রেমিককে পূর্ণিমা ছিনিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি শাবনূর তখন এবং একযুগ পরেও সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। রিয়াজের কারনে শাবনূর-পূর্ণিমার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক এখনো তিক্ততাই রয়ে গেছে বলে শোনা যায়। আর রিয়াজ- পূর্ণিমাও মুখ দেখছেন না একে অন্যের।

হাবিব- তানজিন তিশা
হাবিব- তানজিন তিশার সম্পর্কের খবরও মাঝে বেশ আলোচনায় আসে। হাবিব- তানজিন তিশাকে দেশে বিদেশে একসঙ্গে ঘুরতেও দেখা যায়। হাবিব কখনো স্বীকার পাননি তিশার সঙ্গে ঠিক কি সম্পর্ক ছিল। তবে তিশা বলেছেন তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

আর/০৮:১৪/১৫ ফেব্রুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে