Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৪-২০২০

ফাগুন-ভালোবাসায় একাকার গ্রন্থমেলা

ফাগুন-ভালোবাসায় একাকার গ্রন্থমেলা

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারী- কত মানুষ এসেছে, এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারো। তবে চোখের হিসেবে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত লাখো মানুষের সম্মেলন হয়েছে বলা যেতেই পারে।

এ চিত্র আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার। পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে যোগ হয়েছিল ছুটির দিন শুক্রবার- এ তিনে মিলে মেলায় সৃষ্টি হয়েছিল জনারণ্য।

সাড়ে আট লাখ বর্গফুটের বিশাল মেলায় ঠাঁই ছিল না সন্ধ্যার পর। একদিকে শাহবাগ মোড়, অন্যদিকে হাইকোর্ট চত্বর থেকে মানুষ আসছিল পিপীলিকার মতো সারি বেঁধে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সবাইকে প্রবেশ করতে হয়েছে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে।

এমনই একজন ছিলেন শান্তিনগরের বাসিন্দা আব্দুল বারী শাহিন। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে বলেন, জানতাম ভিড় হবে, কিন্তু এতটা আাশা করিনি। তারপরও পরিবারের সবার সঙ্গে এসেছি। বই দেখবো, কিনবো।

লাইন ধরে মেলায় প্রবেশ করেই প্রচণ্ড জনচাপের মধ্যে পড়তে হয় পাঠকদের। এ ভিড়ে প্রকাশকরাও ছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় প্রবেশ করে অন্বেষা প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন বলেন, ভাই, প্রচণ্ড ভিড়। তবে আশার কথা বিক্রি কিন্তু ভালো। সাধারণত ভিড় হলে বিক্রি হয় না। তবে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি যোগাযোগ হয়। আর সেজন্যই এ ভিড় ঠেলেও মেলায় প্রবেশ করেছিলেন জনপ্রিয় লেখকরা। দীর্ঘক্ষণ প্যাভিলিয়ন-স্টলে বসে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন, অটোগ্রাফ দিয়েছেন। সেলফির আবদারও মিটিয়েছেন।

অনন্যার প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। পরিচয় দিতেই প্যাভিলিয়নের ভেতরে নিয়ে গেলেন। কাছে যেতে বললেন, যে ভিড় বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলা কঠিন।

শুক্রবারের মেলা নিয়ে তিনি বলেন, তিনটি উৎসব একসঙ্গে যোগ হয়ে যাওয়ায় ভিড়টা অনেক। সাধারণত মেলায় এত জনসমাগম হলে বিক্রি কম হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আজকের বিক্রি ভালো। তবে, সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য এই যে ছেলে-মেয়েরা হলুদ-লাল পোশাক পড়ে এসেছেন। মেয়েরা খোঁপায় ফুল দিয়েছে। অপূর্ব সুন্দর লাগছে।

ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবছর আমি এ সময়টার জন্য অপেক্ষা করি। এ সময়ে পাঠকরা সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অনেকেই এসে বলেন আমি আপনার বই পড়েছি, আমার সন্তান এখন পড়ছে। আমার ভাবতে দারুণ লাগে এই ভেবে যে, আমি দু’টি প্রজন্মের কাছে আমার বই পৌঁছে দিতে পেরেছি।

কথার ফাঁকে তিনি বললেন, অনন্যা থেকে এবার তার চারটি বই বেরিয়েছে। সেগুলো হলো- ‘কয়েকজন মেয়ে’, ‘ভালোবাসার সুখ দুঃখ’, ‘টোপ’ ও ‘যাবজ্জীবন’।

পার্ল পাবলিকেশন দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। সেখান থেকে বেরিয়েছে তার নতুন উপন্যাস ‘মানবজীবন’।

বইটি নিয়ে পাঠকের দারুণ সাড়া পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এটাই বইমেলার মজা। পাঠকরা আসেন, কথা হয়। সরাসরি একটা যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। আর আজকে তিনটি উৎসব এক হয়ে যাওয়ায় প্রচুর মানুষ এসেছেন, বইও কিনছেন।

প্রথমা প্রকাশনে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দিতে দিতে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, দারুণ হচ্ছে এবারের মেলা। যেমন সুন্দর তার বিন্যাস, তেমনি সুন্দর পরিবেশ। বিক্রিও ভালো।

শুক্রবারের বিক্রির বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, শুক্রবার, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস- মেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিন একসঙ্গে পড়েছে। এ কারণে আমরা প্রকাশকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি; কিন্তু প্রচুর মানুষ এসেছেন, এটা ইতিবাচক। ভিড়ের সঙ্গে বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

সূত্র : বাংলানিউজ
এন কে / ১৪ ফেব্রুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে