Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৩-২০২০

ভারতে যাতায়াত সহজ হচ্ছে

ভারতে যাতায়াত সহজ হচ্ছে

সিলেট, ১৪ ফেব্রুয়ারি - কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ওপারে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলা। ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট অঞ্চলের মানুষ ধুবরী জেলার গোলকগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি করেন। এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে এক সময় সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু থাকলেও এখন মানুষ যাতায়াত বাদে শুধু পণ্য বাণিজ্য সম্পন্ন হচ্ছে। কারণ, এ বন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট নেই। আর এ কারণে দুই দেশের ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করতে হয় ৪৫০ কিলোমিটার ঘুরে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে।

একই অবস্থা সিলেটের ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও। এ দুটি স্থলবন্দর দিয়েও শুধু পণ্য বাণিজ্য হচ্ছে। ইমিগ্রেশন স্টেশন না থাকায় দুই দেশের ওইসব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ, সময় ব্যয় করে দূরের স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রস্তাব আসার পর সোনাহাট, ভোলাগঞ্জ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন স্টেশন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগ।

গত ২৯ জানুয়ারি এ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) মোহাম্মদ আজহারুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসনও ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। এই তিন স্থলবন্দরের নিজেদের অংশে ভারত যাতে ইমিগ্রেশন স্টেশন চালু করে, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনাহাট স্থলবন্দরে নবনির্মিত তিনতলা ভিত্তিসহ ৫০০০ বর্গফুট আয়তনের একটি প্রশাসনিক ভবন আছে। সেখানে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ও কাস্টম বিভাগ দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করে। এই দুই সংস্থা ব্যবহারের পরও সেখানে ইমিগ্রেশনের স্থান সংকুলান সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ।

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের অবস্থান সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলাটি ব্যবসা ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা। ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর ও পাথর ভারত থেকে আমদানি করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। শুল্ক স্টেশনের দুই পাড়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যবসায়িক ও পর্যটনের কারণে প্রতি বছর ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করেন। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন স্টেশন না থাকায় তাদের দূরের অন্য কোনো স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের জন্য সাইট সিলেকশন, জমি অধিগ্রহণ কাজ চলমান আছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। আগে ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু ছিল, এখন নেই। এ কারণে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভোলাগঞ্জ থেকে তামাবিলের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আর তামাবিল থেকে শিলংয়ের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে ভোলাগঞ্জ থেকে শিলংয়ের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। প্রতিদিন এ পথে গড়ে ৪০০ ট্রাক চুনাপাথর ও বোল্ডার আমদানি হয়।  তাই ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করতে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গত বছরের আগস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়, সেখানে সবাই ইমিগ্রেশন চালুর পক্ষে মত দেন। ইতিমধ্যে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে নতুন ইমিগ্রেশন ও কাস্টম ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন এইচ, ১৪ ফেব্রুয়ারি

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে