Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৩-২০২০

আর ভাসিয়ে দেওয়া নয়, যৌনকর্মীদের জানাজা হচ্ছে দৌলতদিয়ায়

কাজী তানভীর মাহমুদ


আর ভাসিয়ে দেওয়া নয়, যৌনকর্মীদের জানাজা হচ্ছে দৌলতদিয়ায়

রাজবাড়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি- দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায়। এই যৌনপল্লিতে কয়েক হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন। কিন্তু এই যৌনপল্লিতে এতদিন কোনও যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে পদ্মায় লাশ ডুবিয়ে বা ভাসিয়ে দেওয়া হতো। অথবা পাশের একটি গোরস্তানে জানাজার নামাজ বা কাফনের কাপড় ছাড়াই যৌনকর্মীর মৃতদেহ মাটিচাপা দেওয়া হতো। এই প্রথা বন্ধ করে দিয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান। জানুয়ারিতে এই থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি যৌনকর্মীদের জানাজাসহ যথাযথভাবে দাফনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

গত ১১ জানুয়ারি গোয়ালন্দে যোগ দেন ওসি মো. আশিকুর রহমান। তিনি যৌনকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের আইনি সহায়তায় এগিয়ে আসেন। যৌনপল্লির ভেতরে তৈরি করেন জনতার দরবার। সেখানে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যৌনকর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগ শুনে সত্যতা যাচাই করে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ।

গত ২ ফেব্রুয়ারি জনতার দরবার চলার সময়ে যৌনপল্লির ৬৫ বছর বয়সী নারী হামিদা বেগমের মৃত্যুর খবর আসে। সেখানে উপস্থিত সবার আলোচনায় মৃতকে জানাজার নামাজসহ দাফনের দাবি ওঠে। এসময় ওসি মো. আশিকুর রহমান তাদের দাবি আমলে নিয়ে জানাজার নামাজ ও দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। জানাজায় ওসি ছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘গোয়ালন্দ ঘাট থানাটি একেবারেই ছোট একটি থানা। এই থানার আওতায় মাত্র চারটি ইউনিয়ন। এর মধ্যে দুটি জটিল জায়গা রয়েছে। একটি হচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাট, আরেকটি হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যৌনপল্লি। আমার প্রথম টার্গেট হচ্ছে যৌনপল্লিকে কেন্দ্র করে। আপনারা জানেন, যুগ যুগ ধরে এই যৌনপল্লিকে ঘিরে চাঁদাবাজ গ্রুপ ছিল। রাজনৈতিক পাওয়ার গ্রুপ ছিল, যারা এই মেয়েদের লভ্যাংশ, মুনাফা পেশিশক্তির জোরে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ করে আসছিল। আমি এসে দেখি, এই নারীরা প্রশাসনের কোনও সুবিধা নিতে পারে না। তবে বর্তমান পুলিশ সুপার মহোদয় আগে থেকেই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। আমার কাজ হচ্ছে বিষয়টিকে ধরে রাখা এবং আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদেরও অধিকার রয়েছে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার। তবে এতদিন তাদের কেউ মারা গেলে ধর্মীয়ভাবে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা ছিল না। এখন থেকে তাদের ধর্মীয়ভাবেই জানাজার নামাজ ও দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া যৌনপল্লির ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠন’ এর সভানেত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, ‘আমরা যারা দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দা, আমরাও তো সমাজের অন্য মানুষের মতোই মানুষ। আমাদেরও আছে অধিকার। আগে এখানে কেউ মারা গেলে তাকে নদীতে ভাসানো বা মাটিচাপা দেওয়া হতো। আমরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম আমাদের এই পল্লির বেশিরভাগ নারীই মুসলিম। আমরা মারা গেলে যেন আমাদের জানাজা আর দাফন হয়। সেই দাবি মেনে এখন আমাদের জানাজার ব্যবস্থা হয়েছে, এটি ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা যে কেউ মারা গেলে থানায় খবর দেই। আমাদের কেউ মারা গেলে এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ধর্মীয়ভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে যারা রয়েছেন তারা তো আমাদের দেশেরই মানুষ। তারা যে কাজটা করছেন সেটা তাদের পেশা। তারা তো আর সমাজের ক্ষতি করছেন না। তারাও আমাদের মতো অধিকার রাখেন সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার। তারা মারা গেলে এখন ধর্মীয়ভাবে জানাজার নামাজ ও দাফন হচ্ছে, এটা অনেক ভালো উদ্যোগ। এজন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয়রা জানান, যৌনকর্মীর জানাজা পড়তে প্রথমে মসজিদের ইমাম রাজি হচ্ছিলেন না। পরে পুলিশের কথায় রাজি হন। এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি আবুল এরশাদ মো. সিরাজুম্মুনির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। বিষয়টি নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা কোনও মুফতির কাছ থেকে ফতোয়া জানতে হবে।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন কে / ১৩ ফেব্রুয়ারি

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে