Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৭ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১১-২০২০

করোনা আতঙ্ক: হালাল খাবারে ঝুঁকছে বিশ্ব

করোনা আতঙ্ক: হালাল খাবারে ঝুঁকছে বিশ্ব

যুদ্ধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামার ভয় বাদ দিয়ে পুরো বিশ্ব কাঁপছে করোনা আতঙ্কে। চীনের মাত্র একটা প্রদেশে হাজার খানেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনা গোটা বিশ্বের মানুষের জীবন-যাপনের ধরন, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুই বদলে দিচ্ছে। যেই মানুষটা কুকুর, বিড়াল, ইদুর, বাদুড়, সেদ্ধ, আধা সেদ্ধ কিংবা কাঁচা সবকিছুই গপাগপ খেয়ে সাবাড় করতো, সেও এখন কিছু মুখে তোলার আগে দুবার ভাবছে যে খাবারটা স্বাস্থ্যকর কিনা। এমনকি করোনার আতঙ্কে অনেকেই ছাড়তে বসেছে চাইনিজ খাবারও।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে চীনাদের খাদ্যাভ্যাস। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে, চীনারা সর্বভুক বলেই তারা ভয়ঙ্কর করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি বিষয় হলো যে, হালাল খাবার খাওয়ার কারণে উইঘুরসহ চীনা মুসলিমদের করোনা স্পর্শ করতে পারছে না। এজন্য ভয় পেয়ে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর জীবজন্তুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে হালাল খাবারে আকৃষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞান বলছে, অস্বাভাবিক যত খাওয়া দাওয়া সেখান থেকেই ভয়াবহ সব অসুখগুলো ছড়ায়। চীনের উহান শহরের একটি বন্য ও সামুদ্রিক প্রানীর বাজার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনার আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত সেই বাজারটি করোনা মহামারি আকার ধারণ করার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে চীনের প্রায় সব প্রদেশেই অস্বাস্থ্যকর পশু পাখি খাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোরও একই অবস্থা।

সাম্প্রতিক কয়েকটি বাজার গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ছড়ানোর পর গোটা বিশ্বেই পশু পাখি খাওয়ার হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রেস্টুরেন্টেই কয়েক মাস আগেও চাহিদার শীর্ষে ছিল চাইনিজ খাবার। অথচ এখন মানুষ চাইনিজ খাবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ভারতেও চাইনিজ খাবার ভীতি জেঁকে বসেছে। এর বদলে রেস্টুরেন্টপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছে নিজেদের দেশের ছোলা বাটোরা বা দোসা। অনেক রেস্টুরেন্ট আর ফুড শপ আবার প্রবেশ পথের সামনে বড় করে হালাল খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্টের চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালাল বা হারাম খাবার নয়, প্রত্যেকটা মানুষের জন্য যেটা দরকার সেটা হলো স্বাস্থ্যকর খাবার। সব প্রাণীর মাংস স্বাস্থ্যকর নয়। তাছাড়া মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাটাও খুব জরুরি। মাংসটা ঠিকভাবে কাটা হলো কিনা, অস্বাস্থ্যকর অংশগুলো ফেলে দেওয়া হলো কিনা সেটা নিশ্চিত হয়েই খাবার রান্না করা উচিৎ। রান্নার ক্ষেত্রে খাবারটা সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধাসিদ্ধ বা কাঁচা খাবারে জীবানু থেকে যায়। এই বিষয়গুলোই হালাল খাবার আর স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি করেছে।

চীনের উইঘুর মুসলিমরা করোনায় আক্রান্ত না হওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুসলিমরা অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত নয় বলেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে না এ কথাটা ভুল নয়। তবে এটাও সত্য যে, চীনের হুবেই প্রদেশের বাইরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম। এজন্যেও উইঘুররা হয়তো এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সব খাবারে আতঙ্কিত হওয়াটা যেমন যৌক্তিক কোনো কথা নয়। ঠিক তেমনি সর্বভুকের মতো সব খাবার হাপুস হুপুস খাওয়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মোট কথা অস্বভাবিক যেকোনো খাদ্যাভাসই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। সেটা ভয়াবহ কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি অন্য যেকোনো ধরনের অসুখের জন্যও এ বিষয়টি মেনে চলা উচিৎ।

আর/০৮:১৪/১২ ফেব্রুয়ারি

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে