Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৩০ মে, ২০২০ , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৮-২০২০

পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই নির্মম হত্যাকাণ্ড

পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই নির্মম হত্যাকাণ্ড

বগুড়া, ০৯ ফেব্রুয়ারি - বগুড়ায় গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। মরদেহটি উদ্ধারের ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বগুরার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরকীয়া প্রেমিককে শায়েস্তা করতেই নির্মমভাবে হত্যার পথ বেছে নেয় প্রেমিকা রুপালী। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে খুনিরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে হত্যার ঘটনার পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাবা ও মেয়েকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

এরই মধ্যে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার বেরুঞ্জ গ্রামে গলাকাটা ও আগুনে পোড়ানো অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় ও হত্যা রহস্য উন্মোচন করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম সেলিম প্রামানিক (৩২)। তিনি দুপচাঁচিয়ার খিদিরপাড়া গ্রামের কফির উদ্দিনের ছেলে। এবং পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতাররা হলেন আব্দুর রহমান ও তার মেয়ে রুপালী বেগম।

আসামিদের স্বীকারোক্তি তুলে ধরে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, রুপালীর স্বামী ইকরামুল দেড় বছর যাবত সৌদি আরব থাকেন। সেলিম এবং রুপালীর মধ্যে ছোট বেলায় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের দুজনের বিয়ে অন্যত্র হলেও মোবাইলে যোগাযোগ অব্যহত ছিল। রুপালীর স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর দুজনের পরকীয়া আরও গভীর হয়। তারা বিভিন্ন সময় একান্তে মিলিত হন। একপর্যায়ে সেলিম রুপালীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি নাকোচ করেন। সেলিম আগে থেকেই তাদের একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখেন। রুপালী সেলিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে ক্ষুদ্ধ হয়ে সেলিম ইমোর মাধ্যমে একান্তে মিলিত হওয়ার দৃশ্য সৌদিতে অবস্থানরত রুপালীর স্বামী ইকরামুলের কাছে পাঠান।

ইকরামুল বিষয়গুলো রুপালীকে জানান। সেলিম রুপালীকে হুমকি দেয় যে তাকে বিয়ে না করলে তার কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে রুপালী তার বাবা আব্দুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে সেলিমকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়েতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি সেলিমকে খুন করার জন্য পূর্বপরিচিত খুনির সঙ্গে পরামর্শ করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রুপালী সেলিমকে পালিয়ে তার বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করার জন্য মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দুপচাঁচিয়ার বড়কোল ও বেরুঞ্জ গ্রামের ফসলের মাঠে যান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রুপালীর বাবা এবং তার সহযোগী তিনজন সেলিমকে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মুখ ও মাথা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ যেন কেউ চিনতে না পারে সে জন্য সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তার অন্যান্য জিনিসপত্র তার বুকের ওপর রেখে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যান। হত্যাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য ৬টি কনডম ঘটনাস্থলের পাশে ফেলে যান।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় নিহত সেলিমের বাবা কফির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ এবং নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৯ ফেব্রুয়ারি

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে