Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০ , ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (79 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৯-২০১১

বাঙালীর সংখ্যাধিক্য ও ব্যারোনেস ফ্ল্যাদারের বিদ্বেষোক্তি প্রসঙ্গে নিউবারী পার্ক, এসেক্স, ইংল্যান্ড থেকে মাসুদ রানা

বাঙালীর সংখ্যাধিক্য ও ব্যারোনেস ফ্ল্যাদারের বিদ্বেষোক্তি প্রসঙ্গে
নিউবারী পার্ক, এসেক্স, ইংল্যান্ড থেকে মাসুদ রানা
ব্রিটিশ রুচি ও মূল্যবোধের সাথে বিকট বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, তথাপি বংশ-পরম্পরায় ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠত্বর ভক্ত, স্বর্ণালঙ্কারে শৃঙ্খলিতা ও চক্‌চকে শাড়ী পরিহিতা ব্যারোনেস শ্রীলা ফ্ল্যাদার বাংলাদেশীদের (ও পাকিস্তানীদের) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ মূল্যবোধ রপ্ত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য।

(১) কী বলেছেন ব্যারোনেস শ্রীলা ফ্ল্যাদার?

ফ্ল্যাদার নিন্দা করেছেন বাংলাদেশী (ও পাকিস্তানী) কমিউনিটিকে তাদের সন্তান-সন্ততির সংখ্যাধিক্যের কারণে। বেশি ছেলে-মেয়ে জন্ম দিয়ে ব্রিটিশ কল্যাণ-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বেনিফিটের ফায়দা তোলার অপরাধে তিনি অভিযুক্ত করেছেন এ-দুটো কমিউনিটিকে। আবার বিপরীতক্রমে বলেছেন, এটি নাকি তাদের ‘ট্র্যাডিশন’ ধরে রাখার চেষ্টা ও ব্রিটিশ মূল্যবোধ রপ্ত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য হচ্ছে।

পক্ষান্তরে, তিনি প্রশংসা করেছেন স্বজাতীয় ভারতীয়দেরকে ব্রিটিশত্ব রপ্ত করার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য। স্বজাতির প্রশংসা ও শত্রু  বলে বিবেচিত পর-জাতির নিন্দা করার জন্য সুশিক্ষা ও সুসংস্কৃতির প্রয়োজন নেই। কারণ এটি একটি আদিম প্রবৃত্তি। যাঁরা এ-কর্মটি করেন, তাঁরা সাংস্কৃতিক বিবেচনায় প্রাক-সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু ফ্ল্যাদারের একটি ঢাল আছে। তিনি স্বঘোষিত ‘নির্ভীক’ ও ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেস’ তোয়াক্কা করেন না। অর্থাৎ, তিনি উচিত কথা বলতে ছাড়েন না এবং কাউকে ভয় পান না। তাই, তিনি গত বুধবারে পার্লামেন্টের হাউস অফ লর্ডসে বেনিফিট বিল বিষয়ে বক্তৃতা করতে গিয়ে উপরোক্ত অভিযোগ করেছেন।

প্রশিক্ষণগতভাবে ব্যারিস্টার, পেশাগতভাবে শিক্ষিকা, সামাজিক আগ্রহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে দৃশ্যতঃ নিবেদিতা, ও রাজনীতিক দর্শনের ক্ষেত্রে রক্ষণশীলা শ্রীলা ফ্ল্যাদার কী বোধে দুটো সম্প্রদায়কে ‘সিঙ্গেল-আউট’ করে অভিযুক্ত করলেন, যেটি রীতিমতো ‘স্টিগমাটাইজ’ বা কলঙ্কিত করার মতো?

কোথাও কেউ উল্লেখ না করলেও এটি স্পষ্ট যে, ব্রিটিশ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীকে এক ক্যাটেগোরীতে ফেলার পিছনে যে ‘ব্র্যান্ডিং’টি কাজ করে তা হচ্ছে ‘মুসলিম’। অর্থাৎ, ব্যারনেস ফ্ল্যাদার বস্তুতঃ ‘মুসলিম’ ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় বাংলাদেশী ও পাকিস্তানে মানুষকে ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ভাবে অভিযুক্ত করেছেন। এটি সম্পূর্ণভাবে তার বোধের ও মননের গভীরে প্রোথিত প্রেজুডিস ছাড়া আর কিছুই নয়।

(২) প্রেজুডিস বিষয়টি কী?

সামাজিক মনোবিজ্ঞানে নির্বিচারে নেতিবাচক মনোভাব ধারণকে বলা হয় ‘প্রেজুডিস’। বাংলায় একে বলা যেতে পারে ‘অন্ধ-বিদ্বেষ’। প্রেজুডিসে জড়িত আছে তিন পর্যায়ের তিনটি বিষয়।

প্রথমটি হচ্ছে কগনিটিভ লেভেলে যথার্থ তথ্যের অভাব বা ইগনোরেন্স, যা আসে স্টেরিওটাইপ বা বদ্ধমূল-ধারণা থেকে। আর, দ্বিতীয়টি হচ্ছে এ্যাফেক্টিভ লেভেলে নেতিবাচক আবেগ, যার পেছনে থাকে অতীতের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার স্মৃতি বা শ্রুতি। প্রেজুডিসের কগনিটিভ ও এ্যাফক্টিভ (বুদ্ধিগত ও আবেগগত) লৌডিং বা ভারের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সমষ্টি বিহেভেরিয়্যাল লেভেলে অর্থাৎ আচরণগত পর্যায়ে হয়ে ওঠে ‘ডিসক্রিমিনেটোরী’ বা বিভেদমূলক।

প্রেজুডিস প্রকাশ পায় লক্ষ্য-ব্যক্তি বা লক্ষ্য-গোষ্ঠীর বর্ণনায় নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার থেকে শুরু করে শারীরিক আক্রমণের - এমনকি গণহত্যার - মাধ্যমে। মনোবিজ্ঞানের এটি স্বীকৃত সত্য যে, রেইসিজমের মূলে আছে প্রেজুডিস।

পাশ্চাত্যে ‘রেইসিজম’ বিরোধী সংগ্রাম আছে কিন্তু ‘কম্যুনালিজম’ এখানে পরিচিত নয়। আবার ইন্দোপাকবাংলায় যে ‘কম্যুনালিজম’ লক্ষ্য করা যায়, তা সম্ভবতঃ রেইসিজমের মতো সরল নয়। রেইসিজমে আছে ‘রেইস’ আর ‘কম্যুনালিজম’-এ আছে ‘রেইস’ ‘কাস্ট’ ও ‘রিলিজিয়ন’, অর্থাৎ জাতি, বর্ণ ও ধর্ম। সুতরাং, একজন ‘এশিয়ান’ যখন এশিয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচার করে, তখন পশ্চাত্যের পণ্ডিতেরা এখানে ‘রেইস’গত পার্থক্য নেই বলে এর মধ্যে কোনো ‘প্রেজুডিস’ দেখতে পান না। কারণ, তাঁরা সাধারণতঃ ‘কম্যুনালিজম’ বুঝেন না।

আজ যদি ব্যারোনেস ফ্ল্যাদার কালোদের বা হিহুদীদের বিরুদ্ধে এ-রকম কোনো মন্তব্য করতেন, তখন তিনি দেখতেন ‘কতো ধানে কতো চাল হয়’। অবশ্য, তিনি কখনও করতেন না। তাঁর সাহসই হতো না।

ব্রিটেইনের তথাকথিত মাল্টি-কালচারাল সোসাইটিতে ‘এশিয়ান’ বলতেই ইন্দোপাকবাংলা বংশোদ্ভূত মানুষদেরকেই বুঝানো হয়। আর, এ-‘এশিয়ান’ বংশোদ্ভূতদের একজন যখন ‘এশিয়ান কমিউনিটি’রই একটি অংশের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার ‘যথার্থতা’ নিয়ে ইংলিশ-প্রাধান্যের সমাজে তখন আর কোনো সন্দেহ থাকে না। আর এই ‘সন্দেহাতীত সত্য’ই অস্তিত্বশীল প্রেজুডিসকে ‘ফার্দার ফীড’ করে বর্ণবাদের আগুনে ঘি হয়ে জ্বলে।

(৩) ব্যারোনেস শ্রীলা ফ্ল্যাদারের কী সাম্প্রদায়িক হওয়া সম্ভব?

শুরুতেই লেখা হয়েছে ‘বংশ-পরম্পরা ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠত্বের ভক্ত’ নিন্দার্থে নয় - তথ্য প্রকাশার্থে। শ্রীলা ফ্ল্যাদার সম্প্রদায়গতভাবে পাঞ্জাবী হিন্দু, কিন্তু নিজেকে তিনি একজন ‘হিন্দু নাস্তিক’ বলে দাবী করেন। কীভাবে ‘হিন্দু নাস্তিক’ বা ‘মুসলিম নাস্তিক’ হওয়া সম্ভব তা বিতর্কের বিষয়।

পাকিস্তানী ও বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে নিন্দার শুরুতে তিনি নিজেই বলেছেন, লাহোরে তাঁর জন্ম। ঠিকই বলেছেন তিনি। ১৯৩৪ সালে তিনি অত্যন্ত ধনাঢ্য প্রপিতামহের প্রাসাদে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম কোথাও খুঁজে না পেলেও সহজেই তার প্রপিতামহের নাম পাওয়া যাবে - স্যার গঙ্গারাম। পেশায় ইঞ্জিনীয়ার ছিলেন। লাহোরের অনেক বিখ্যাত স্থাপত্যই তাঁর হাতের। তিনি দানবীরও ছিলেন।

ব্রিটিশ শাসকদের সহযোগী ও ভক্ত হিসেবে তিনি পাঞ্জাবের মন্টেগোমারী জেলায় ৫০,০০০ একর জমি পেয়েছিলেন চাষাবাদের জন্য। সে-সূত্রে তিনি প্রভূত সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। তাঁর পরবর্তী বংশধরেরা স্বাভাবিক নিয়মেই এ-সম্পদ উত্তারাধিকার সূত্রে লাভ করে জৌলুসপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছিলেন।

শ্রীলা সে-বংশের প্রাসাদেই জন্মেছিলেন লাহোরে ১৯৩৪ সালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বাংলায় ও পাঞ্জাবের বহু-প্রাণ-নেয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-সহ ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির ফলে লাহোরের লব্ধপ্রতিষ্ঠ গঙ্গারামের পরিবার জমি হারায়। সে-সময় লাহোরে সাম্প্রাদায়িক মুসলমানেরা গঙ্গারামের মূর্তির মুখে কালি মাখায় এবং গলায় জুতোর মালা পরায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পুলিস গুলি চালালে আহত রায়টকারীর বিষয়ে তার সহ-রায়টকারীদের ‘চলো ওকে গঙ্গারাম হাসপাতালে নিয়ে যাই’ বলতে শোনা যায়। এক পাঞ্জাবী মুসলিম সাংবাদিকই এ-বিষয়ে তখন পত্রিকায় রিপৌর্টে এ-কথা লিখেছিলেন।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে ভারতের বিহার থেকে পূর্ববাংলায় আসা বিহারী মুসলমান এবং  পূর্ব-বাংলা থেকে ভারতে যাওয়া বাঙালী হিন্দু খুব স্বাভাবিক কারণেই স্বাভাবিকতার চেয়েও বেশি সাম্প্রদায়িক হবে, তাতে অবাক হবার কিছু নেই।
 
ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া লাহোরী গঙ্গারামের বংশধরেরা ব্রিটিশ-ভক্ত হতেই পারেন। এতে অবাক হবার কিছু নেই। আবার মুসলিম সংখ্যাধিক্যের কারণে সেই লাহোরের প্রভূত সম্পদ ছেড়ে আসতে বাধ্য হওয়া গঙ্গারামের বংশধরেরা মুলসলিম সংখ্যাধিক্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবেন, তাও স্বাভাবিক।

কিন্তু শিক্ষা মানুষকে ইতিহাসের কার্য-কারণ সম্পর্কে শিক্ষা দেবার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে নৈর্ব্যক্তিক উপলব্ধি দান করে। ব্যারোনেস ফ্ল্যাদারের মতো বহু হিন্দু-মুসলিম-শিখ-সহ নানা ধর্মের ও নানা অঞ্চলের মানুষ আছেন, যাঁরা তাদের পুর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পরবাসী হয়েছেন। তাদের সবারই দুঃখ আছে। কিন্তু সে-দুঃখের জন্য কোনো একটি সম্প্রদায়ের কিংবা একটি জাতিকে দায়ী করে এর সকল সদস্যের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করা কিন্তু ভালো মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে না। এবং যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো, তার দ্বারা মূল সমস্য অর্থাৎ প্রেজুডিসের অবসান হয় না। তা কেবল চক্রবৃদ্ধি সুদের মতো বাড়তেই থাকে।

(৪) শ্রীলা ফ্ল্যাদারের বিদ্বেষী মন্তব্যে লাভ হবে কার?

আজ ব্যারোনেস ফ্ল্যাদারের মন্তব্যে সবচেয়ে খুশি ও লাভবান হবে বিএনপি। কিন্তু ব্যারোনেস ফ্ল্যাদার হয়তো জানেন না, বিএনপি কিন্তু হিন্দু-মুসলিম-শিখ পার্থক্য বুঝে না। শ্রীলা ফ্ল্যাদার যতোই ‘ব্রিটিশ’ পৌজ নিন, তিনি তাঁর চামড়াকে সাদা করতে পারবেন না। তিনি নিজেকে ‘কালো’ মনে না-করলেও, শ্বেতাঙ্গবর্ণবাদীরা কিন্তু তাঁকে কখনও ‘সাদা’ বলে স্বীকৃতি দেবে না।

আজ বিএনপি যদি রাস্তায় এ্যাকশনে নামে আর সে-রাস্তায় যদি স্বর্ণালঙ্কার ও শাড়ী পরিহিতা ব্যারনেস শ্রীলা ফ্ল্যাদারকে দেখা যায়, তখন এ-রকম সম্ভাবনা খুবই কম যে, শাড়ী-ধরে-টান দেয়ায় অভ্যস্ত বিএনপির কর্মীরা তাঁকে রাস্তায় পড়ে ষষ্ঠাঙ্গ প্রাণাম কিংবা স্যেলুট করবে।

বাস্তবে দেখা যাবে, বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অশিক্ষিত’ লোকদের সন্তানেরাই রক্ত দিয়ে হলেও বিএনপিকে রুখতে রাস্তায় অবস্থান নেবে। কারণ এটিই তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আর, রাস্তায় এ-বঙ্গসন্তানেরা বিজয়ীও হবে - যেমন হয়েছে অতীতে - কারণ এরা সংখ্যায় অধিক।

(৫) বাঙালীর সংখ্যাধিক্য

বেশি সন্তানের জন্য পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালীদের এক সময় একই ধরণের নিন্দা শুনতে হতো পশ্চিম-পাকিস্তানী পাঞ্জাবী শাসক গোষ্ঠীর মুখে। কিন্তু এ-সংখ্যাধিক্যের কারণেই ১৯৭০ বাঙালীর নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধামন্ত্রীত্বের আসনের দাবীদার হয়েছিলেন। কিন্তু মেলেনি প্রধানমন্ত্রীত্ব। মিলেছে আরও বিদ্বেষ এবং শেষ পর্যন্ত - যা প্রেজুডিস ব্যাখ্যায় বলা হলো - শারীরিক আক্রমণ  - গণহত্যা।

সেদিন সংখ্যাধিক্যের কারণেই বাঙালী বিজয়ী হয়েছিলো এবং বাংলাদেশ নামের অর্ধ-বঙ্গের দেশটি পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পেয়েছিলো। এ-সংখ্যাধিক্যের কারণেই পূর্ব-লন্ডনে আশির দশকে বর্ণবাদার বিরুদ্ধে বাঙালীরা তাদের মাটি ধরে রাখতে সংক্ষম হয়েছিলো। এ-সংখ্যাধিক্যের কারণেই পূর্ব-লন্ডনের রাজনৈতিক ক্ষমতা বাঙালীর হাতে এসেছিলো এবং এখনও আছে। এ-সংখ্যাধিক্যের কারণেই এই সেদিনও বর্ণবাদী ইংলিশ ডিফেন্স লীগের হুমকীমূলক মিছিল থামিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিলো। এ-সংখ্যাধিক্যের কারণেই পৃথিবীতে বাঙালী তার যোগ্য মর্যাদা দাবী করবে এবং প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়বে।

সুতরাং বাঙালীকে বলিঃ সংখ্যায় লজ্জিত নয়, গর্বিত হও। ইতিহাস ও প্রকৃতি তোমাকে তৈরী করেছে ‘হাই-ব্রীডিং’ জাতি হিসেবে। এ-দানকে সগর্বে ধারণ করো। বিশাল বড়ো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো। এ-পৃথিবী তোমার।

তবে, একটা কথা বলিঃ তোমাকে মানুষ হতে হবে। আর মানুষ হবার জন্য প্রথমে শ্রদ্ধা করতে হবে নিজের মূলকে - নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে এবং ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ বোধটিকে। যদি তুমি কারও প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো, তাহলে তোমার প্রতি অন্যের বিদ্বেষের প্রতিবাদ করার নৈতিক অধিকার তোমার নেই।

নিউবারী পার্ক
এসেক্স, ইংল্যান্ড

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে