Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২০ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০২০

ব্রিটিশ আদালতে আইএস-পত্নী শামীমার আপিল খারিজ

ব্রিটিশ আদালতে আইএস-পত্নী শামীমার আপিল খারিজ

লন্ডন, ০৭ ফেব্রুয়ারি-  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা হোসেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেয়ার কারণে ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। তারপর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন শামীমা। কিন্তু যুক্তরাজ্যের আদালত আজ শুক্রবার তার সেই আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে লন্ডন থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়া স্কুল শিক্ষার্থী শামীমা গত বছর ফের যুক্তরাজ্যে ফেরতে চাইলে ব্রিটিশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শামীমার করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশনের বিচারকরা।

রায় জানিয়ে আদালতের বিচারক ডোরন ব্লাম বলেন, ‘নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার অনেক বছর আগেই শামীমা স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কারণে তিনি যুক্তরাজ্যের বাইরে নন।’ স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশন রায়ে বলেছে, ‘বংশগতভাবে শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক।’

২০১৫ সালে স্কুলের আরও দুই বান্ধবীসহ লন্ডন ছাড়েন শামীমা বেগম। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যখন ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খেলাফত বিলুপ্তপ্রায়, তখন সিরিয়ার বাঘুজে অবস্থিত এক শরণার্থী শিবিরে তাকে খুঁজে পান দ্য টাইমস পত্রিকার এক সাংবাদিক। সেসময় নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা শামীমা যুক্তরাজ্যে ফেরার আকুতি জানান।

গার্ডিয়ান বলছে, শামীমা এখন সিরিয়ার আল-রোজ শরণার্থী শিবিরে আছেন। আদালত ওই আল-রোজ ক্যাম্পের পরিস্থিতিকে পাশবিক, অমানবিক ও অবমাননাকর হিসেবে গ্রহণ করলেও ব্রিটিশ আইনের উল্লেখ করে শামীমার নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আদালত বলছে, শামীমা রাষ্ট্রহীন নয়, বাংলাদেশের নাগরিক।

স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশনের তিন বিচারক এলিজাবেথ লেইং, ডোরন ব্লাম এবং রজার গোল্লান্ড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আদালতের এই রায় শামীমা বেগমকে রাষ্ট্রহী করবে না। কারণ তিনি বাংলাদেশি নাগরিকত্বের অধিকারী ছিলেন কিংবা এখনো আছেন। তার আইনজীবীরা চাইলে আবারও আপিল করতে পারবেন।

আদালতের রায়ে বলা হচ্ছে, ‘যখন তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, তখন শামীমা বেগম ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিংবা বাংলাদেশে জাতীয়তা আইন অনুযায়ী দেশটির নাগরিক ছিলেন। এটা তার অধিকার। এই নাগরিকত্ব বাংলাদেশ সরকারের কোনো উপহার নয়। বাংলাদেশ সরকার কোনো পরিস্থিতিতেই এটা অস্বীকার করতে পারে না।’

শামীমা বেগমের আইনজীবী ড্যানিয়ে ফার্নার বলেছেন, তিনি শিগগিরই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। কেননা এটা খুব বিশেষ জরুরি বিষয়। আদালতের এই রায় বিভ্রান্তিকর মনে হচ্ছে। শামীমার অবস্থা এখন ভালো নয়। এছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে বলেও দেশটি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ঘোষণা দিয়েছে।

লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা সিরিয়া যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এক আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে শামীমরা বয়স বিশ বছর। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার দুই সন্তান অপুষ্টি এবং বিনা চিকিৎসায় মারা যায়।

আর/০৮:১৪/০৭ ফেব্রুয়ারি

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে