Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৭-২০১৩

তারেক নিয়ে সমঝোতা কি না, জানেন না বিএনপির নেতারা


	তারেক নিয়ে সমঝোতা কি না, জানেন না বিএনপির নেতারা
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর- দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থের লেনদেনের (মানি লন্ডারিং) মামলার রায় বিএনপির নেতাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। তাঁরা খুশি হলেও এ রায়ে অনেকে বিস্মিত। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হবে। কিন্তু আদালত তাঁকে একেবারে বেকসুর খালাস দেওয়ায় অনেকে তা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
 
রায়ের পর জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন, তারেক রহমানের মামলা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির একটা সমঝোতা হয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, এ রায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না, তা তাঁদের জানা নেই। আর যদি হয়েও থাকে, তা তাঁরা জানেন না। এমন কিছু হলে তা হয়তো খালেদা জিয়াই জানেন বলে তাঁরা মতপ্রকাশ করেন। তবে এ রায় সরকারের নতুন কোনো ‘ফাঁদ’ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে তাঁদের মনে।
 
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়। আজ আদালতের রায়ে তারেককে বেকসুর খালাস এবং মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়।
 
রায়ের আগের দিন গতকাল শনিবারও বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রায়ে তারেককে সরকারের নির্দেশে দোষী করা হতে পারে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহও একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।
 
বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা ধারণা করেছিলেন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার অবশ্যই তারেক রহমানকে দণ্ডিত করবে। এ কারণেই ‘দ্রুত’ মামলাটি শেষ করে রায় ঘোষণার তারিখ জানানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের যে অভিযোগ তা অত্যন্ত শক্ত। দুই থেকে সাত বছর তাঁর জেল হবে বলে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ যে রায় দেওয়া হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। এটি সরকারের নতুন কোনো ফাঁদ কি না, তা নিয়েও তিনি চিন্তিত।
 
তারেক রহমানকে জেল দেওয়া হবে, এমন রায় ধরে নিয়ে রাজপথে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ছাত্রদল। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় একজন নেতা প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো রায় হবে। সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য ছাত্রদলের ভালো প্রস্তুতি ছিল। রায় শোনার পর প্রথমে তাঁদের অনেকেই এটি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
 
রায় ঘোষণার আগেই তারেক রহমানের নিজ জেলা বগুড়ায় গাড়ি ভাঙচুর করেন দলীয় কর্মীরা। রায়ের প্রতিবাদে হরতাল দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও ছিল জেলা বিএনপির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান বেকসুর খালাস পান।
রায়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় অবশ্য বিএনপি বলেছে, এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে একটি মহল, বিশেষ করে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ এনেছে, তা সত্য নয়। প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে এ রায়ের কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমাদের মনে হয় না। তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে হেয় করাই এ সরকারের উদ্দেশ্য। বিএনপির চলমান আন্দোলন ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। নির্দলীয় সরকারের বিধান না আসা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে