Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৭-২০১৩

জনশক্তি রপ্তানিতে সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, বেড়েছে রেমিটেন্স


	জনশক্তি রপ্তানিতে সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, বেড়েছে রেমিটেন্স
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর- মহাজোট সরকারের সময়ে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের চেয়ে এই সরকারের সময়ে বিদেশে ১০ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮ কর্মী বেশি পাঠানো হয়েছে। রেমিটেন্সও এসেছে বিগত সরকারের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।
 
নামমাত্র খরচে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে এই সরকারের সময়েই। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানির বেসরকারি খাতকেও উদ্বুব্ধ করা হয়েছে। নতুন লাইসেন্স দেয়া হয়েছে প্রায় দুইশোটি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে মিলেছে এসব তথ্য।
 
জানা গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রিজার্ভের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বিদেশে কর্মী পাঠানোর এই প্রবনতা অব্যাহত ছিল গত প্রায় পাঁচ বছর ধরেই। গত প্রায় বছরই বিশ্বমন্দার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খুব একটা পড়েনি।
 
কর্মী পাঠানোর অব্যবস্থাপনা, প্রতারণা ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্মের কারণে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ ছিল। বিগত সরকারের আমলেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়ায় বন্ধ হওয়া শ্রমবাজারের দ্বার খুলতে পেরেছে। শুধু তাই নয়, বিদেশে গমনেচ্ছুক কর্মীদের ভোগান্তি কমাতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে জি টু জি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় জনপ্রতি ৩২ হাজার টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন কর্মীরা। এ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে মধ্যসত্ত্বভোগীদের কোনো হাত ছিল না। এছাড়া বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকদেরও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান ও হংকংয়ে নারী কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  
 
সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে জনশক্তি রপ্তানিতেও সমানভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। মালয়েশিয়া ছাড়া বিশ্বের অন্যদেশগুলোতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই কর্মী যাচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ১৯১টি নতুন রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বৈদেশিক শ্রম বাজারকে বহুমুখীকরণ করা হয়েছে। আগে যেখানে ৯৭টি দেশে কর্মী পাঠানো হতো এখন সেখানে ১৫৭টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এছাড়া ইমিগ্রেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ যুগোপযোগী করার জন্য ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কল্যাণ আইন, ২০১৩’ করা হয়েছে।
 
তথ্যমতে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের পুরো পাঁচ বছরে বিদেশে কর্মী পাঠানো হয়েছে ১৩ লাখ সাত হাজার ৮৮ হাজার জন্য। অপরদিকে বর্তমান মহাজোট সরকারের পৌনে পাঁচ বছরে বিদেশে কর্মী গেছে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩৬ জন।  চারদলীয় সরকারের সময়ে দেশে রেমিটেন্স এসেছে ১৮.৩৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এই সরকারের সময়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ৫৯.৬২ বিলিয়ন ডলার।
 
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে যে বিশৃঙ্খলা ছিল এই সরকার ক্ষমতায় এসে তা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা অবৈধভাবে ছিলেন তাদের বৈধ করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। যার ফলে সৌদিতে অবৈধ বাংলাদেশিরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সবমিলিয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনায় যে সাফল্য এসেছে তা অতীতে কখনই অর্জন হয়নি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে