Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৭-২০১৩

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আবারো ফাঁস


	ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আবারো ফাঁস
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর- আবারো ফাঁস হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক শিক্ষকের মাধ্যমে ওই প্রশ্ন ফাঁস হয় বলে জানা গেছে। পরে ফাঁসকৃত ওই প্রশ্ন সমাধান করে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে পরীক্ষার হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মোবাইলে পাঠানো হয়। ফাঁসের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে স্বীকার করলেও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে আগামীতে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা কলেজকে বাতিল করা হয়েছে।
 
এর আগে একই কেন্দ্র থেকে 'খ' ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতারক চক্রকে ধরতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর ঘোষণা দিলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপরন্তু এক সপ্তাহ পর একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলো।
 
এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও 'গ' ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনিও শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতারক চক্রকে ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রতারণার দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত 'গ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ছিল গত শুক্রবার। ইউনিটটির ১ হাজার ৭৫ আসনের বিপরীতে মোট ৪৯ হাজার ৯৯৪ ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কেন্দ্র এবং ক্যাম্পাসের বাইরের ১৪টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট পরই ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রের একটি কক্ষে দায়িত্বরত এক শিক্ষক ওই প্রশ্ন বাইরে সরবরাহ করেন। যা দক্ষিণ ছাত্রাবাসের ১০৫ ও ১০১ নাম্বার কক্ষে বসে সমাধান করা হয়। সেখান থেকেই সমাধানকৃত উত্তর ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে পরীক্ষার হলে থাকা শিক্ষার্থীদের মোবাইলে পাঠানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকটি সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
 
অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্ন সরবরাহকারী ওই শিক্ষকের নাম আনোয়ার মাহমুদ। তিনি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক এবং দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক। অন্যদিকে উত্তর সমাধানকারী চক্রের মধ্যে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ, ছাত্রলীগকর্মী ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কাওছার, রবিন ও মামুন। ঘটনায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এইচ পল্লব প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা কলেজ শিক্ষক আনোয়ার মাহমুদ যায়যায়দিনকে বলেন, এ ধরনের কোনও বিষয়ে তিনি জড়িত নন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের ২১ নাম্বার কক্ষে তিনি দায়িত্ব-রত ছিলেন। সেখানে নির্ধারিত আসনের সব শিক্ষার্থীই উপস্থিত ছিল। সুতরাং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
 
কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্ব-রত তত্ত্বাবধায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ যায়যায়দিনকে বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঢাকা কলেজ কেন্দ্র থেকে কোনও প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কারণ গত পরীক্ষার অভিজ্ঞতার আলোকে কেন্দ্রটির সতর্কতা অনেক বেশি ছিল। কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয় নিয়ে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কিনা- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম গঠন করতে পারে। তবে সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
 
পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে সাবি্বর আহমেদ (ভর্তি পরীক্ষার রোল ৫১১৭৩) নামে এক পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে প্রশ্ন সমাধানের সময় আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র বাইরে না গেলে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে উত্তর আসা অসম্ভব।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রোক্টর ড. আমজাদ আলী জানান, সাবি্বর মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আগে থেকেই তথ্য থাকায়, শুরুতেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সাবি্বরের পরীক্ষা বাতিল করে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের নামমাত্র তল্লাশি করা হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীই মোবাইলসহ পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। এছাড়াও অনেকে ক্ষুদ্র ব্লু- টুথ কানের মধ্যে রেখে হলের ঢোকে। আর সেসব যন্ত্রেই ক্ষুদেবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়।
 
এর আগে গত ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদভুক্ত 'খ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে একইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সঙ্গে এই চক্রটিই জড়িত রয়েছে বলে কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এছাড়াও পহেলা নভেম্বর সামাজিক অনুষদভুক্ত 'ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিন জালিয়াতির অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করলেও জালিয়াতির চক্রের কাউকে আটক করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শুরুর আগের রাতে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিএড সম্মান ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। সে সময় ঘটনা তদন্তে আইইআর অধ্যাপক ড. মোঃ দেলোয়ার হোসেন শেখকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে