Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ , ২৫ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-৩১-২০২০

টাকা নিয়ে জমা দেননি শিক্ষক, ৮ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা শেষ

টাকা নিয়ে জমা দেননি শিক্ষক, ৮ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা শেষ

ফরিদপুর, ৩১ জানুয়ারি- এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভে যোগ দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চরভদ্রাসন-ফরিদপুর ভায়া জাকেরের সুরা সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

এ সময় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিচার দাবিসহ পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।

হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান জানান, তার বিদ্যালয় থেকে এ বছর ৪৪ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। শুক্রবার ৩৬ জন পরীক্ষর্থীর প্রবেশপত্র হাতে পেলেও আটজনের প্রবেশপত্র দেননি প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান ও আইসিটি শিক্ষক মো. সোহেল রানা।

ওবায়দুল বারী দিপু খান বলেন, সদর ইউনিয়নের টিলারচর গ্রামের আকাশ প্রামাণিক, আল ফাহাদ ব্যাপারী, হরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের রিমন ফকির, হাসান ফকির, দবিরুদ্দীন প্রামাণিক, ডাঙ্গী গ্রামের নাফিজা আক্তার, সাদিয়া আক্তার ও চরশালেপুর গ্রামের ঋতুপর্ণার প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, দুই শিক্ষক টাকা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এতদিন শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে রেখেছিল। এমনকি শিক্ষক সোহেল তাদেরকে জাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রবেশপত্র দেয়নি বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ঋতুপর্ণার কাছ থেকে টাকা নিলেও ফরমের টাকা জমা দেননি প্রধান শিক্ষক। যদিও লিস্টে তার নাম রয়েছে। এছাড়া সাথী নামের আরেক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড থাকলেও বিদ্যালয়ের তালিকায় নাম নেই। যে কারণে এদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে ওই দুই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের কঠোর শাস্তি চাই। একই সঙ্গে এদের পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। শিক্ষকদের প্রতারণার ফাঁদে আট শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংসের মুখে। পরীক্ষার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে এসব শিক্ষার্থী। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায় কে নেবে?

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ও আইসিটি শিক্ষক সোহেল রানার গাফিলতির জন্য আমাদের জীবন এখন ধ্বংসের মুখে। আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন দুই শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই দুই শিক্ষক ফরম পূরণের জন্য আট শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ে টাকা নিলেও রশিদ দেননি। বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৯৫০ টাকা ও অন্যান্য বিভাগের জন্য ১৮৫০ টাকা করে নিয়েছেন তারা। কিন্তু এসব টাকা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেননি তারা। ফলে বোর্ড থেকে আট শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক সোহেল রানাকে রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা না দিয়ে টাকা জমার ভুয়া রশিদ সরবরাহ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডে যোগাযোগ করে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আনার ব্যবস্থা করা হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৬ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে। বাকি আটজনের নামে প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঋতুপর্ণা ও সাথী নামে দুজন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ছয়জনের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তারা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তবে যারা এ জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত তদন্ত করে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/৩১ জানুয়ারি

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে