Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ , ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-৩০-২০২০

হারিয়ে গেছে যোগাযোগের নন্দিত মাধ্যম চিঠি

নজরুল ইসলাম তোফা


হারিয়ে গেছে যোগাযোগের নন্দিত মাধ্যম চিঠি

পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়াতে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বদলে যাচ্ছে- দেশের জনপ্রিয় ইতিহাস, ঐতিহ্যের তথ্য আদান-প্রদানের বৃহৎ মাধ্যম ডাকঘর। এরই মধ্যে বদলে গেছে ছোট্ট একটি শব্দ চিঠি এবং তার মাধ্যমে আদানপ্রদানের প্রচলন। চিঠির প্রচলন ও ইতিহাস অনেক পুরোনো। চিঠিকে একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের কাছে লিখিত তথ্যধারক বার্তা বললেও ভুল হবে না। চিঠিতেই দু’জন বা দু’পক্ষের মধ্যেই যেন যোগাযোগ বজায় রাখে। চিঠি বন্ধু এবং আত্মীয় স্বজনদের খুবই ঘনিষ্ট করে, পেশাদারি সম্পর্ককে খুব উন্নয়ন করে এবং আত্ম প্রকাশের সুযোগ প্রাণবন্ত করে তোলে।

কিন্তু ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এসেই চিঠি লেখার প্রচলন শেষের পথে। নিজ হাতে চিঠি লেখার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। কালি কলম বা বল পেনের মাধ্যমে চেয়ারে বসে ঠিক টেবিলের উপর সাদাকাগজ কিংবা রঙিন কাগজে চিঠি আর লেখেনা কেউ। বলতেই হয় যে আধুনিক যুগে উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যেন এমন এই মাধ্যমের ব্যবহার বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। স্ব-হস্তে লেখা চিঠির মধ্যেই হৃদয়ের শত সহস্র কথা ও তার আবেগ, আকুলতা এবং ব্যাকুলতা সব বিষয় প্রকাশ পেত। মা-বাবা তার সন্তনের হাতের লেখা চিঠিটা যখন কাছে পেতেন, ঠিক তখনই যেন লেখাটিতে কোমল হৃদয় দিয়ে পড়ে নিতেন। চিঠির মধ্যেই বাবা মা নিজের সন্তানের মুখটাও দেখতে পেতেন। অবচেতনে চিঠি বুকে জড়িয়েও আদর করতেন। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ চিঠি আদানপ্রদান করেছে, ইলিয়াডে তার উল্লেখ ছিল। হিরোডোটাস ও থুসিডাইডিসের রচনাবলীতে তা উল্লেখ করাও আছে।

অশিক্ষিত লোকজন শুধুমাত্র চিঠি পড়া ও লেখার জন্যেই যেন স্বাক্ষরতা অর্জনের খুব চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ে শিক্ষার বিস্তারে বিশাল অবদান রেখেছে 'চিঠি'। আবার পারিবারিক চিঠিগুলো অনেক সময় খবরের কাগজের বিকল্প হিসাবেই যেন ব্যবহৃত হতো। কোনো চিঠিতে গ্রামের যে কোনও ঘটনা ও আশা ভরসার খবর, আবাদের খবর বা প্রকৃতিক দুর্যোগের খবরসহ বিভিন্ন খবর লেখা থাকত।

আসলে, হাতে লেখা চিঠি পরিবারের মধ্যে যেন নিবিড় সম্পর্ক ও ভালবাসার গভীরতার সেতু বন্ধন সৃষ্টি হতো। প্রেম ভালোবাসার চিঠিগুলো তো ছিল একেকটি কালজয়ী বৃহৎ প্রেমের ইতিহাস। প্রচলিত চিঠির যুগেরই সকল প্রেমিক-প্রেমিকারা হৃদয়ের আকুলতা-ব্যাকুলতা কিংবা প্রতীক্ষার প্রহরের খুঁটিনাটি অনেক কিছুই সহজ সরল ভাষায় মনের মাধুরীতে লিখতেন। যা পড়ে পুলকিত হওয়ার পাশাপাশি তা সংগ্রহ করে রাখতেন প্রিয়জনেরা। চিঠিগুলোর ভাষা ও ভাবকে মনেই হতো শত ফুল দিয়ে গাঁথা একটি গল্প বা উপন্যাস।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিঠিটা লিখেছিল নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একজন নারী তার প্রেমিককে। তিনি ১৯৫২ সালে কোরিয়াতে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখেন ওই চিঠি। তখন তার প্রেমিক মার্কিন সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। সেই চিঠিটার দৈর্ঘ্য ছিল ৩ হাজার ২০ ফুট লম্বা যা লিখতে সময় লেগেছিল একমাস। আবার খুবই ক্ষুদ্র চিঠি লিখেছিল চমৎকার ভাষাতে ফ্রান্সের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো।

তা ছাড়াও আর এক ঘটনা স্মরণ করার মতোই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শৈশবের লেখা একটি চিঠি বা পত্র সম্পর্কে বলতেই হয়, তিনি বাড়ি থেকে বহুদূরে পড়তে গিয়েই সবেমাত্র বাংলা স্বরবর্ণের পরিচয় হয়েছিল। তখন তার টাকার প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি কী আর করবে, শুধু মাত্র স্বরবর্ণ দিয়েই বাবার কাছে চিঠি বা পত্র লিখেছিল। বর্ণের সাথে ‘কার’ যোগ করলে তা ঠিক এমনটি হয় 'বাবা টাকা পাঠাও তো পাঠাও, না পাঠাও তো- ভাত অভাবে মরি'। তার চিঠিতে এই ভাবে লেখা ছিল- ‘বব টক পঠও ত পঠও ন পঠও ত ভত অভব মর’।

চিঠি নিয়ে সে সময়ের বহু স্মৃতির মতো এখনকার আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি যুগে তেমন স্মৃতি স্মরণ রাখার মতো নেই বললেই চলে। চিঠিপত্র লেখাকে কেন্দ্র করেই বেড়ে গিয়েছিল চিঠি লেখাকে পেশা রূপে নেয়ার প্রবণতা। ডাকঘরের বারান্দায় লাইনের পর লাইন ধরেই সকল শ্রেণির মানুষের ভিড় লেগেই থাকত। ডাকটিকিট, পোস্টাল অর্ডার, ইনভেলাপ, রেজিস্ট্রি চিঠি, মানি অর্ডার, পোস্ট কার্ড, বীমা, পার্সেল, জিএমই, ভিপিপি, ইএমএস, স্মারক ডাকটিকিট, ডাক জীবনবীমা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকসহ সরকারি কর্মচারীদের বেতন সবই হতো ডাকঘরে চিঠির মাধ্যমে। এমনকি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পও ডাকঘর থেকেই সংগ্রহ করতে হত। এগুলোর চাহিদাতেই চিঠিপত্রের আদান প্রদানের মাধ্যমটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল।

তখনকার যুগে যেসব মানুষ লেখাপড়া জানতেন না, ডাকঘরের লেখকেরা ডাকঘরের বারান্দাতে কিংবা সুবিধাজনক স্থানে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে তাদের চিঠিপত্র, মনিঅর্ডার কিংবা মালামাল প্রেরণসংক্রান্ত কাজ করে দিতেন। ব্রিটিশ আমল থেকেই শুরু করে দেড় শ’বছর পর্যন্ত বজায় ছিল চিঠিপত্রের রমরমা অবস্থা। গাঁওগেরামের বেশকিছু স্বল্পশিক্ষিত লোকজনরাই বিনে পয়সায় চিঠি লিখে দেওয়ার কাজ করতেন। অবশ্য তাদের কদরই ছিল আলাদা।

তখনকার দিনে পত্র মিতালীর প্রচলনও ছিল খুব বেশি। প্রতি বছর প্রচুর ছেলে-মেয়ের নাম ঠিকানা সম্বলিত পত্রমিতালি গাইডও পাওয়া যেত বিভিন্ন বুক স্টলে বা পত্রিকার স্টলে। এসব পত্রমিতালির গাইড থেকেই অনেকে পছন্দের বন্ধু খুঁজে নিতেন এবং তাদের কাছে শেয়া করতেন জীবনের সুখ-দুঃখের বহুগল্প। একজন অন্য জনকে চিঠি লিখতো অনেক সুন্দর করে। যাতে স্থান পেত বিভিন্ন কবিতার লাইন বা গানের কথা। ব্যবহার হতো বিভিন্ন বর্ণিল চিঠির প্যাডও। হলুদ খামের এক একটি চিঠি যেন একটি গীতিকবিতা।

তখন বাজারে প্রচুর রাইটিং প্যাডও (চিঠি লেখার প্যাড) পাওয়া যেতো। রঙ-বেরঙের হরেক রকমের প্যাডে প্রিয়জনের নিকটে সুস্পষ্ট হরফে বিভিন্ন কালি বা কলমের মাধ্যমে চিঠি লিখতেন সবাই। আবার চিঠিটা লিখে, আঠা দিয়ে খামের মুখটা বন্ধ করে তাতে স্ট্যাম্প সেঁটে, বহুদূর হেঁটে গিয়ে ডাকবাক্সে বা ডাকঘরে চিঠি ফেলে আসতেন। প্রেম ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাদের যদি- প্রেমের ব্যর্থতা আসতো, সেক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে অনুভূতি গুলোকে প্রকাশ করতেন। কোনও কোনও চিঠি পড়ে হৃদয় জুড়িয়ে যেত, এতটাই স্পর্শকাতর ছিল সেসব চিঠির ভাষা।

চিঠির জন্য দিনের পর দিন ডাক পিয়নের প্রতীক্ষায় থাকত মানুষেরা। কখন পিয়ন এসেই কাঙ্খিত চিঠিটি তার হাতে দেবে। চিঠি পেলেই মনের মধ্যে সে কী আনন্দ! সেই অনুভূতি ভাষায় লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়! সেই চিঠি পড়ে শেষ না করা পর্যন্ত শান্তি মিলতো না।

বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে চিঠি পৌঁছানোর জন্যে যেন বিশেষ ধরনের নীল রঙের এয়ার মেইল পার অ্যাভয়েন ছাপাঙ্কিত খাম ব্যবহার করতো। বলাই যায় নীল কাগজ এবং খামে লেখা চিঠিগুলো ছিল প্রেমের চিঠির প্রতীক। পোস্ট অফিসের এ সব চিঠিকে ঘিরেই এসেছে সভ্যতা। প্রথম স্ট্যাম্প করা চিঠি রানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্ব কালে ১৮৪০ সালের দিকেই শুরু হয়। প্রাচীনকাল থেকে ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। মানুষের মনের ভাব আদান প্রদানে চিঠি দীর্ঘকাল ধরেই রাজত্ব করেছে। এই মাধ্যম যত দিক দিয়ে সফল হয়েছিল, তা ভবিষ্যতে অন্য কোনো মাধ্যমের দ্বারা সফলতা পাবে কিনা সন্দেহ। তাই চিঠির যুগের কথা মনে হলে এখনো যেন মানুষের কানে কানেই ভাসে বাংলা ছায়াছবির জনপ্রিয় গান 'চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও/ নইলে থাকতে পারবো না'।

গত শতকের ৮০ কিংবা ৯০- দশকে চিঠিই ছিল অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। চিঠির অপেক্ষায় প্রেমিক বা প্রেমিকার পথের দিকে চেয়ে বসে থাকা। চিঠি পাঠাবে ছেলে; সেই অপেক্ষাতে বসে থাকতেন মা-ও। কিংবা স্বামীর চিঠির অপেক্ষায় মুখ ভার করে পুকুর পাড়ে স্ত্রীর বসে থাকা। এসবই আজ অতীত, যার কোনো অস্তিত্বই আর কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

চিঠির যুগে মানুষের ভাষাজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন্তরিকতার বিন্দুমাত্র কমতিও ছিল না চিঠির পাতায়। বানান ও ভাষাগত ভুলভ্রান্তি যেন চাপা পড়েছিল তাদের আন্তরিক ভালোবাসার আড়ালে। বিখ্যাত কবি, মহাদেব সাহাও লিখেছিল-‘ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও.../এটুকু সামান্য দাবি,...চিঠি দিও,... তোমার শাড়ির মতো.../ অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি’। আগেকার রাজা বাদশারা- প্রেমিকার কাছে চিঠি লেখতেন। তারা এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং দেশের কূটনৈতিকদের মধ্যে খবর আদান হতো চিঠির মাধ্যমে। স্ব-দেশের খবর দূর-দূরান্তে পৌঁছাতে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে বা কবুতর কিংবা পাখির পায়ে চিঠি লিখে উড়িয়ে দেয়া হতো। প্রতুত্তরে অন্যান্য দেশের রাজারাও কবুতরের পায়ে চিঠি লিখে খবর পাঠিয়ে দিতেন। জানা যায়, সম্রাট শের শাহের সময়েই ঘোড়ায় চড়ে ডাক বিলির প্রথা চালু হয়। কালক্রমে জমিদারদের এমন প্রথা চালু ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় চিঠি আদান প্রদানের প্রচলন দেখা দিয়েছিল। রানাররা পিঠে চিঠি বা সংবাদের বস্তাসহ ১ হাতে হারিকেন অন্য হাতে বর্শা নিয়ে রাতের অন্ধকারে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যেতেন।

বাংলা সাহিত্যেও ’চিঠি’বেশ জায়গা দখল করে আছে। অবশ্য এক্ষেত্রে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেন অগ্রগামী। কবিগুরু জীবনে যা চিঠি লিখেছিল তা অন্য কোন কবি ও সাহিত্যিক লিখেছিলেন কি না সন্দেহ। আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পত্রনির্ভর আত্মজৈবনিক উপন্যাস লিখেছিল-বাঁধনহারা। সেখানে তিনি প্রথম স্ত্রী নার্গিসকে যে চিঠি লিখেছিল তা আজও অনন্য। চিঠির এক জায়গায় কবি লিখেছিল-'তুমি ভুলে যেও না আমি কবি,... আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি।... অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয়। আরও লিখেছেন, 'আমার আঘাত বর্বরের কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়'।

সুতরাং- চিঠি যে শুধু মনের ভাব আদানপ্রদান হতো তা নয় বরং কবি সাহিত্যিকদের চিঠির মধ্যেই ফুটে উঠতো সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা দিক। কবি কালিদাস কর্তৃক প্রেমিকার নিকট প্রেরিত বার্তাতে দূত ছিল মেঘ। নল-দময়ন্তীর পত্রের বাহক হাঁস, আবার রামায়ণের পত্রবাহক হনুমান, মহাভারতে বাহক- বিদুর ও আনারকলিতে চিঠি দূতিয়ালির কাজে ব্যবহৃত হতো হরিণ।

চিঠি বা মানি অর্ডার কমে যাওয়াতেই যেন সমগ্র দেশের ডাকঘর ও ডাকবাক্সের সংখ্যাও কমে গেছে। জানা যায় বর্তমানে সারাদেশেই রয়েছে ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর। এর মধ্যে বিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা- ১ হাজার ৪২৬ ও অবিভাগীয় ডাকঘরের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬০টি যেখানে কর্মরত ৩৯ হাজার ৯০৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আবার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৮৬ ও ভাতা প্রাপ্ত বা অবিভাগীয় কর্মচারীর সংখ্যা- ২৩ হাজার ২১জন। অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি জাতীয় স্কেলের। কিন্তু তাদের সেই দাবি পুরণ হয়নি। তাই আশার প্রদীপ এখন সবার কাছেই নিভু নিভু।

কালের পরিক্রমায় মোবাইল ফোন আর বহু যান্ত্রিক যোগাযোগের উন্নতির কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই চিঠি লিখন পদ্ধতি। হাতের লেখা চিঠির প্রচলন বর্তমানে না থাকলেও এখনো বহু মানুষ পুরনো চিঠি পড়ে স্মৃতি রোমান্থন করে, খুঁজে পেতে চায় আপন মানুষ গুলোর হার্দিক স্পর্শ। চিঠি লেখা হয় না এখন আর কারো কাছেই। চিঠির যুগ বদলে এসেছে- ইমো, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক, টুইটারসহ নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সব শ্রেণির মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই যেন- 'মুঠোফোন' ব্যবহার করছে। তাছাড়াও ইন্টারনেট, চ্যাট, ই-মেইল, এসএমএস কিংবা ফেসবুকের মতোই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, কাগজ-কলমে হাতে লিখে চিঠি আদানপ্রদান করছেন না।

মানুষের আবেগ কেড়ে নিয়েছে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার, মানুষও আজকে আন্তরিকতা হারিয়ে অনেকটা যান্ত্রিক হয়ে গেছে। অবশ্যই প্রযুক্তির ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমন খারাপ দিকটা লক্ষণীয়। তাই আমাদেরকেই ভালো দিকটা বেছে নিতে হবে। তবে দুঃখজনকহলেও সত্য যে বেশিরভাগ ডাকঘরের অবস্থা করুণ। জনবলের অভাব, একই সঙ্গে ভাঙা চেয়ার ও টেবিল এবং জরাজীর্ণ কাঠের বাক্স ও আলমারি। বর্তমানে সরকারি আসবাবপত্রের বরাদ্দ হলেও তা উপজেলা কিংবা শাখা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোতে যেন পৌঁছায় না।

আহা! সেসব দিনের সেই চিঠির ভাষা হতো ঠিক এমন- ‘এলাহী ভরসা’। সম্বোধন করতো এমনভাবে,‘পাকজনাবেষু ভাইজান, আমার শত কোটি সালাম গ্রহণ করিবেন। সকলকেই আমার সালাম এবং ভালবাসা পৌঁছাইয়া দিবেন। পর সমাচার এই যে', ইত্যাদি ইত্যাদি। ’

আবার চিঠি নিয়ে কত গান যে তৈরি হয়েছিল সে সময়! রেডিও টেলিভিশনে প্রতিদিনই শোনা যেত সেসব গান। ‘বিদেশ গিয়ে বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না/ চিঠি দিও পত্র দিও জানাও ঠিকানারে।’এখন কেউ আর চিঠিতে প্রিয় মানুষের ঠিকানা জানতে চায় না।

আর/০৮:১৪/৩০ জানুয়ারি

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে